হাতি ‘হত্যার’ দায়ে রেলইঞ্জিনকে আটক করল বনদপ্তর

609

নিউজ ডেস্ক: ফের এক মা হাতি ও তাঁর শাবকের ট্রেনে কাটা পরে মৃত্যু হওয়ায় সেই মালগাড়িটিকে আটক করল অসম বনদপ্তরের কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ঘটেছে, মঙ্গলবার লামডিং রিজার্ভ ফরেস্টের ভেতরের রেললাইন এলাকায়।

জানা গিয়েছে, এদিন একটি মা হাতি তাঁর শাবকটিকে নিয়ে লাইন পাড় হওয়ার সময় তাদেরকে পিষে দেয় এক পণ্যবাহী মালগাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌছয় অসম বনদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং সেই সঙ্গে ট্রেনের ইঞ্জিনটিকে আটক করে অসম বনদপ্তর। এই প্রথমবারের মতো রেলওয়ের বিরুদ্ধে এ জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে একপ্রকার নজির গড়ল অসম বনবিভাগ তা বলা বাহুল্য।

- Advertisement -

এদিন ঘটনা প্রসঙ্গে অসমের বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লা বৈদ্য বলেন, ‘রেলপথগুলিতে হাতির হত্যাকাণ্ড অবশ্যই বন্ধ করা উচিত এবং রেলপথের বিরুদ্ধে বিভাগ কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হবে না। ২৭ সেপ্টেম্বর লামডিং রেলওয়ে একটি মালট্রেনের ইঞ্জিনের নীচে পড়েছিল মা হাতি এবং তাঁর শাবকটিকে।’ এদিন অসমের বনমন্ত্রী জানান, ঘটনার পর বন বিভাগ রেলওয়ের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন (১৯৭২)-এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বন বিভাগও এই ঘটনা প্রসঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে এবং সেই অনুযায়ী এদিন বন কর্মকর্তাদের একটি দল বামুনিময়দান লোকো শেডে গিয়ে আটক হওয়া ডিজেল লোকো ইঞ্জিনটিকে (নং ১২৪৪০) পরিদর্শন করেছেন।
পাশাপাশি, এদিন রেলওয়ের তরফে তদন্ত কমিটিও গঠন করে সেই মালগাড়ির চালক ও তাঁর সহযোগীকে বরখাস্ত করা হয়েছে, বলে জানা গিয়েছে।

বলা বাহুল্য, বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইনের অন্তর্গত ভারতীয় হাতি ১২-বি এন্ট্রি এর সিডিউল-১ তালিকাভুক্ত প্রাণী। দুটি বন্য হাতি হত্যার অভিযোগে এনএফ রেলওয়ের লামডিং বিভাগের অধীনে রেলপথের রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বন দমন আইনের অন্তর্গত মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, হাতি হত্যার বিষয়টি বন্যপ্রাণ সুরক্ষা আইন-১৯৭২ এর ৯ নং ধারার এবং একই আইনের ৫১ নং ধারার অন্তর্গত দন্ডনীয় অপরাধ।