পুলিশের আচরণে মুগ্ধ অসমের দম্পতি

419

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, বীরপাড়া: বিহার পুলিশের থেকে শতগুণ ভালো বাংলার পুলিশ! বিপদের সময়  এমনটাই বলছেন অসমের কোকরাঝাড়ের দম্পতি আতোয়ার রহমান ও আকলিমা বিবি।

গত রবিবার এশিয়ার হাইওয়ের ধারে সন্তান প্রসব করেন আকলিমা বিবি। খবর পেয়ে, মা ও সদ্যজাতকে বীরপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেন বীরপাড়া থানার পুলিশ। শুধু তাই নয়, সোমবার সাত সকালে দুটো শাড়ি, এক জোড়া চপ্পল ও হাজার খানেক টাকা আকলিমার স্বামী আতোয়ার রহমানের হাতে তুলে দেয় বীরপাড়া থানার সেকেন্ড অফিসার ফজলুল হক। এদিকে, গত রবিবার সদ্যজাতর জন্য জামাকাপড়, পাউডার, ক্রিম সহ যাবতীয় জিনিসপত্র ও পাঁচশো টাকা দেওয়া হয়েছিল পুলিশের তরফে। একের পর এক সাহায্য পেয়ে বীরপাড়া পুলিশকে ধন্যবাদ জানানোর ভাষার হারিয়েছে অসম দম্পতি।

- Advertisement -

অথচ, গত সাত আটটা দিন ওদের দু:স্বপ্নের মধ্যে কেটেছিল। কারণ,বিহারের ভাগলপুর জেলাস থেকে ১২০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশ্যে হেঁটে রওনা দিয়েছিল এই দম্পতি। সঙ্গে তাঁদের চার বছরের ছেলে ইমরান ও আতোয়ারের মা‘ও ছিল। এরা ভাগলপুরের এক ইট ভাটায় কাজ করতেন। কিন্তু, টানা লকডাউনে সব খুইয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিতে বাধ্য হন। সে থেকে কিমির পর কিমি পথ হেঁটে পেরিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বিহারে বহু জায়গায় পুলিশ পথ আটকায়। কিন্তু কোনও রকম সাহায্য করেনি।

আতোয়ার জানান, গর্ভবতী আকলিমা ফেরার পথে বারে বারে বসে পড়ত। চলার শক্তি হারাতো। চার বছরের ছেলেটাও একই অবস্থা ছিল। তাকে কাঁধে নিয়ে আতোয়ার কয়েক কিমি পার করে নিজেই বসে পড়তেন পথে। এই ভাবেই গত কয়েকটা দিন কেটেছে। অবশেষে রবিবার শিলিগুড়ি পৌঁছন তাঁরা। সেখান থেকে একটি ট্রাকে চেপে রওনা হন অসমের দিকে ।

কিন্তু মাঝপথে প্রসব বেদনায় এশিয়ান হাইওয়ের পাশে ট্রাক দাঁড় করানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও ছুটে আসেন। সকলের সহযোগিতায় আকলিমা ওখানেই সদ্যজাতর জন্ম দেন। এরপর বীরপাড়া থানার পুলিশ তাঁদের সাহায্যে এগিয়ে আসলে বাকিরা অসমের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বিহার পুলিশের সাহায্য না পাওয়ার পর বাংলার পুলিশের আপ্যায়নে খুশি আতোয়ার ও আকলিমা। এদিন আতোয়ার বলেন , “বাংলার পুলিশ, বাংলার মানুষ অন্যরকম। এদের কথা আমি জীবনে ভুলব না।” বীরপাড়া থানার ওসি পালজার ভুটিয়া বলেন, ‘‘আমাদেরও তো অনুভূতি আছে। মানবিক কর্তব্যটুকু পালন করতে পেরে ভালো লাগছে ।” আতোয়ার আরও বলেন, “চার বছর ধরে বিহারে শ্রমিকের কাজ করছি । সেখানে সহযোগিতা পেলাম না। অথচ, আপন করে নিল বাংলার মানুষ। মনে হচ্ছে, আত্মীয়ের বাড়িতে আছি ।”