মালদায় অভূতপূর্ব পরিস্থিতি, সহকারী চালকরা গার্ডের ভূমিকায়

123

কল্লোল মজুমদার, মালদা : করোনায় ত্রাহিরব ভারতীয় রেলে। ভাইরাসের থাবায় দিশেহারা মালদা রেল ডিভিশন। চালক, গার্ড সহ প্রচুর রেলকর্মী যেমন করোনায় সংক্রামিত হয়েছেন, তেমন অনেকের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কার্যত ধুঁকছে রেল পরিষেবা। কর্মীর অভাবের মধ্যেও পরিষেবা সচল রাখতে বিশেষ নির্দেশ জারি করেছেন রেলকর্তারা। চালক, গার্ডদের একটা বড় অংশ করোনার আক্রমণের শিকার। তাই ট্রেনের সহকারী চালকদের দিয়ে গার্ডের কাজ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

করোনার ধাক্কা সামলাতে পূর্ব রেলওয়ের পক্ষে গত ৩ মে জারি করা হয়েছে একটি নির্দেশনামা। ওই নির্দেশনামায় এই ডিভিশনের বেশ কিছু এক্সপ্রেস ট্রেন এবং সমস্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন ৫ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সংক্রমণ আটকানো যাচ্ছে না। আপাতত বাতিল হওয়া ট্রেনগুলি হল ০৫৯৬২, ০৫৯৬০, ০৫৯৫৯ হাওড়া-ডিব্রুগড়-হাওড়া স্পেশাল, ০৩০৩৩, ০৩০৩৪ হাওড়া-কাটিহার-হাওড়া স্পেশাল, ০৩৪৬৬, ০৩৪৬৫ হাওড়া-মালদা-হাওড়া, ০৩১৪১, ০৩১৪২ শিয়ালদহ-আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদহ, ০৩১৪৫, ০৩১৪৬ কলকাতা-রাধিকাপুর, ০৩০৬৩, ০৩০৬৪ কলকাতা-রাধিকাপুর-কলকাতা সহ ০৩০০৩ নম্বর হাওড়া-আজিমগঞ্জ-হাওড়া। সূত্রের খবর, এই ডিভিশনের অন্তর্গত ট্র‌্যাকে কিছু মেরামতির কাজও চলছে।

- Advertisement -

মালদা টাউন স্টেশনের গুরুত্ব যথেষ্ট। এখানে পূর্ব রেল আর উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের দায়িত্বের হাতবদল হয়। এখানকার বিপুল সংখ্যক কর্মী করোনা আক্রান্ত হওয়ায় স্বভাবতই সমস্যায় পড়েছেন রেলকর্তারা। কর্মীদের ছুটিতে যেমন রাশ টানা হয়েছে, তেমনই বাতিল করা হচ্ছে বহু ছুটির আবেদন। প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে রেল পরিষেবাকে কোনওমতে সচল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, নানা মহল থেকে বারবার অভিযোগ উঠেছে, মালদা টাউন স্টেশনে থার্মাল স্ক্রিনিং বা সমজাতীয় পরীক্ষার বিষয়টি অবহেলিত। অভিযোগের উত্তরে রেলকর্তাদের একাংশ জানান, কর্মীর অভাবই এর একমাত্র কারণ। কারণ, পরিষেবা কমে গেলেও ফরাক্কা থেকে দিল্লিগামী বা হাওড়া থেকে অসমগামী এক্সপ্রেস ট্রেনগুলির ওপর যাত্রীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। স্বল্প সময়ে মধ্যে থার্মাল স্ক্রিনিং করতে গেলে মালদা টাউন থেকে ওঠা যাত্রীদের একটা বড়ো অংশ ট্রেন ধরতে পারবেন না। তাই এক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে।

যদিও মালদা টাউন স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার দিলীপ চৌহান বলেন, থার্মাল স্ক্রিনিং-এর ব্যাপারে একান্ত মানবিক কারণে ছাড় দেওয়া হলেও মাস্ক, স্যানিটাইজার সহ কোভিড প্রোটোকলের অন্য বিষয়গুলি স্টেশন চত্বর এবং রেলের কামরায় কঠোরভাবে মানা হচ্ছে। যে কোনও উপায়ে সংক্রমণ আটকানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।