উত্তরবঙ্গ ব্যুরো, ২০ মার্চঃ  ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চা শ্রমিক ইউনিয়নের জয়েন্ট ফোরামে একসঙ্গে থাকলেও লোকসভার ভোটের ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচার করবে কংগ্রেস, বিজেপি এবং বামেরা। চা শিল্পে ন্যূনতম মজুরি কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে এবার লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস, বাম এবং বিজেপি আলাদাভাবেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার করবে। অন্যদিকে, ন্যূনতম মজুরির বাইরে বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে আলাদা করে তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেরা প্রচারে বিজেপি-কে কাঠগড়ায় তুলবে।

চা শিল্পে ন্যূনতম মজুরি নিয়ে চা শ্রমিকদের জয়েন্ট ফোরামে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেস এবং বিজেপিও রয়েছে। রাজ্য সরকার একাধিক ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকার পরেও দাবি পূরণ না হওয়ায় তৃণমূল সরকারের একযোগে সমালোচনা করার সঙ্গে ফোরামের ব্যানারে চা শিল্পে ধর্মঘটও ডাকা হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস তথা রাজ্য সরকার সেই বনধের বিরোধিতা করেছিল। জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক সলিল আচার্য জানিয়েছেন, রাজ্যের তৃণমূল সরকার একাধিক ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করেছে। কিন্তু কোনো বৈঠকেই ন্যূনতম মজুরি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। চা শ্রমিকদের দৈনিক ৫৫০-৬০০ টাকা মজুরির দাবি আমরা জানিয়েছিলাম। চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে না। শ্রমিকদের সংসারে আর্থিক অনটনের জন্য সমস্যা হচ্ছে। বাইরে চলে যাচ্ছে শ্রমিক। নারীপাচার হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ডুয়ার্সে এসে বন্ধ চা বাগান খোলার আশ্বাস দিয়ে যাওয়ার পরেও বাগান খোলেনি। তাঁরা ভোটে এই ইশ্যুতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার করবেন বলে সলিলবাবু জানান। জয়েন্ট ফোরামের যুগ্ম কনভেনার তথা জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনের কংগ্রেস প্রার্থী মণিকুমার দার্নাল জানান, চা শিল্পে ন্যূনতম মজুরির দাবি অনেক বছরের পুরানো। বাম আমলেও চা শ্রমিক ইউনিয়নের কোঅর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়েছিল। এখন জয়েন্ট ফোরামের থেকেও একই দাবি করা হচ্ছে। তাঁদের ভোটের প্রচারে বন্ধ চা বাগান খোলা, ন্যূনতম মজুরি চালু করার দাবিগুলি নিয়ে প্রচার করছেন বলে মণিকুমার দার্নাল জানান। বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মিথ্যে আশ্বাসকেও প্রচারে তুলে ধরা হবে। বিজেপির জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী পালটা বলেন, ডুযার্সের বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগের ঘোষণা কার্যকর না হওযার পেছনে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের অসহযোগিতাই মূল কারণ। ন্যূনতম মজুরির দাবি তাঁদের পুরোনো। চা শ্রমিকদের আর্থসামাজিক উন্নতি চাইলে ন্যূনতম মজুরি চালু করা দরকার। তা না হলে নারী-শিশু পাচার, ভিনরাজ্যে চলে যাওযার মতো ঘটনা ঘটবেই। চা শিল্পের সমস্যা নিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে দাযী করেই প্রচার করা হবে নির্বাচনে।

তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী অবশ্য অন্যভাবে বলেন, ক্ষমতায় আসার পর বন্ধ ৩৫টি চা বাগানের অধিকাংশই খুলে দেয় এই সরকার। সমস্ত চা বাগানেই ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওযা, বাগান বন্ধ হলেও যাতে র‌্যাশন থেকে বঞ্চিত না হয় শ্রমিকরা তাই র‌্যাশন বিলি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর হাতে দেওযা হয়েছে। এই আমলে চা বাগানে দৈনিক মজুরি ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে ১৭৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বন্ধ চা বাগান খোলা নিয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মিথ্যে আশ্বাস, অন্যদিকে তাঁদের সময়ে চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি এইসব ভোটের প্রচারে আনা হচ্ছে বলে সৌরভবাবু জানিয়েছেন।

তরাই সংগ্রামী মজদুর ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি অভিজিত্ মজুমদার বলেন, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি রাজ্য সরকারের হাতেই রয়েছে। ভোটের অনেক আগেই তাদের ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু করেনি। অথচ অন্তর্বর্তী মজুরি বৃদ্ধি একক সিদ্ধান্তে করেছে রাজ্য। কিন্তু ন্যূনতম মজুরি যাতে ঘোষিত না হয় তার জন্য রাজ্য সরকারই দেরি করছে। এতে শ্রমিকরা প্রাপ্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এখন লোকসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলি এই ইশ্যুতে একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ি করবে। আখেরে শ্রমিকদের কোনো লাভ নেই। তিনি জানান, ন্যূনতম মজুরি সহ আরও কয়েটি ইশু্য়তে আগামী ৩ এপ্রিল রাজ্যপালকে স্মারকলিপি দেবেন তাঁরা। ৫ এপ্রিল শিলিগুড়ি, দার্জিলিং এবং বিভিন্ন বিডিও অফিস এবং যুগ্ম শ্রম কমিশনারের অফিসে অবস্থান করা হবে।