নতুন বছরের শুরুতেই পুরসভার বাসিন্দারা হাতে নীল-সবুজ বালতি

250

দিনহাটা: ন্যাশনাল গ্রীন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে রাজ্যের সবকটি পুরসভাতেই বিজ্ঞানসম্মতভাবে পচনশীল ও অপচনশীল গৃহস্থালির আবর্জনা সংগ্রহ প্রক্রিয়া চালু করার কথা বলা হয়। সেই মতো গত ১৪ মার্চ থেকে দিনহাটা পুরসভার চারটি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলক ভাবে আবর্জনা সংগ্রহও শুরু হয়। তবে সেক্ষেত্রে বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, আবর্জনা পৃথক করে রাখার প্রয়োজনীয় বালতির সরবরাহ না থাকায় পৃথকীকরণ করতে গিয়ে তাদের সমস্যায় পরতে হচ্ছিল। তবে পুরসভা সূত্রে খবর, নতুন বছরের শুরুতেই পুরসভার পক্ষ থেকে অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে রঙিন বালতি সরবরাহের কাজ শুরু হবে।

ইতিমধ্যে পুরসভায় ৬১৬০ জোড়া বালতি এসে পৌঁছেছে।এবং নতুন বছরের প্রথম দিনেই ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের হাতে এই রঙিন বালতি তুলে দিয়ে তা শুরু হবে। পুরসভার দাবি এর ফলে থমকে থাকা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের কাজের গতি অনেকটাই বাড়বে।

- Advertisement -

দিনহাটা পুরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রতন সাহা জানান, শুধু বালতি দিলেই হবে না আবর্জনা নিয়মিত সংগ্রহের প্রয়োজন রয়েছে। আর তার জন্য আধুনিক ব্যাটারিচালিত যে ভ্যান প্রয়োজন তা নেই পুরসভার কাছে। এর ফলে এই সংগ্রহ প্রক্রিয়া আদতে কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান রয়েছে। রতনবাবু আরও জানান, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ, আর তার জন্য বাসিন্দাদের মধ্যে যেমন সচেতনতা আনতে হবে। তেমনি পুরসভাকেও এনিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে। নয়তো সেই প্রক্রিয়া কোনোভাবেই সাধারণ বাসিন্দাদের কাজে আসবে না।

দিনহাটা পুরসভায় মোট ১৬ টি ওয়ার্ড রয়েছে এবং সব ওয়ার্ড মিলিয়ে ১১,৬০০ টি ঘর রয়েছে। তাই প্রথম পর্যায়ে সকল বাড়িতে বালতি পৌঁছে না দেওয়া গেলেও প্রায় ৬০০০ ঘরে বালতি পৌঁছে দেওয়া যাবে বলেই পুরসভার আধিকারীকগন মনে করছেন।

এবিষয়ে পুরসভার সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নোডাল অফিসার অসিত বল বলেন, ‘ইতিমধ্যে তাঁরা ৬১৬০ জোড়া নীল- সবুজ বালতি পেয়েছেন। যা নতুন বছরের শুরুতে বাসিন্দাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপর প্রথম পর্যায়ের বিতরণ শেষ হলে আমরা বাসিন্দাদের জানিয়ে দিবো কীভাবে সাফাইকর্মীরা তাদের কাছ থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করবে।সেই সাথে তাদের কীভাবে বর্জ্য কীভাবে পৃথকীকরণ করতে তার লিফলেটও বিতরণ করা হবে।‘ অসীত বাবু জানান, প্রথমে বর্জ্য সেগ্রেগেশনের কাজটা শুরু করতে চাই এরপর পচনশীল আবর্জনা থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির কাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, বালতি ইতিমধ্যে এসে গিয়েছে, আধুনিক ভ্যানও আশা করছি দ্রুত পেয়ে যাবো।

দিনহাটা পুরসভার প্রশাসক উদয়ন গুহ জানান, ইতিমধ্যে বালতি পুরসভায় এসে পৌঁছেছে। আমরা নতুন বছরের শুরুতেই তা বিতরণ শুরু করব। পুনরায় সেই প্রক্রিয়া গতি পাবে।