শতাব্দী শেষে গরমে হাঁসফাঁস করবে ভারত, তাপমাত্রা বাড়বে ৪.৪ ডিগ্রি

নয়াদিল্লি: ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে গরমের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণা রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, বিশ্বের এই উষ্ণতার ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ২১০০ সালের শেষ নাগাদ আর্দ্র গরম এতটাই চরমে উঠবে যে, মানুষের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক একটি গবেষণাও সেদিকে ইঙ্গিত করছে।

একুশ শতকের শেষদিকে কার্বন ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাবে ভারতের গড় তাপমাত্রা ৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তাপপ্রবাহের তীব্রতাও ৩-৪ গুণ বেড়ে যাবে বলে কেন্দ্রীয় মৃত্তিকা বিজ্ঞানমন্ত্রকের একটি প্রতিবেদনে আশঙ্কাপ্রকাশ করা হয়েছে। দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কিত ওই সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উষ্ণায়নের প্রভাবে ১৯০১-২০১৮ সময়সীমার মধ্যে ভারতের গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে।

- Advertisement -

১৯৮৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে, গত এই তিন দশকে বছরের উষ্ণতম দিন ও বছরের শীতলতম রাতের তাপমাত্রা যথাক্রমে প্রায় ০.৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। চলতি শতকের শেষদিকে উষ্ণতম দিন ও শীতলতম রাতের তাপমাত্রা যথাক্রমে প্রায় ৪.৭ ও ৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে বলে ওই রিপোর্টে আশঙ্কাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

উষ্ণ দিন ও রাতের সংখ্যাও যথাক্রমে ৫৫ ও ৭০ শতাংশ বাড়বে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতে গ্রীষ্মকালীন (এপ্রিল-জুন) তাপপ্রবাহ একুশ শতকের শেষের দিকে তিন থেকে চারগুণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপপ্রবাহের গড় স্থিতি বা সময়কালও প্রায় দ্বিগুণ হওযার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযাবী, ভারতে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বাড়বে বিশেষ করে গাঙ্গেয় সমভূমি ও সিন্ধু নদের উপত্যকায়।

১৯৫১-২০১৫ সালের মধ্যে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ভারত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড়ে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা ওই একই সময়ে পৃথিবীর গড়ের (০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস) চেয়ে বেশি। ভারত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার প্রভাব রয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রিত করে। উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের জলস্তর বাড়ছে। এই শতাব্দীর শেষদিকে ভারত মহাসাগরের জলস্তর ১৯৮৬-২০০৫ সালের প্রেক্ষিতে অন্তত ৩০০ মিলিমিটার বাড়বে বলে ওই গবেষণায় জানা গিয়েছে।

একবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে, এনআইওতে স্টেরিক সমুদ্রের স্তর ১৯৮৬-২০০৫-এর তুলনায় গড় প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৯৫১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভারতে গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাত (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) প্রায ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা গাঙ্গেয় সমভূমি এবং পশ্চিমঘাট এলাকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।