পুজো শেষে বাংলা থেকে বিদায় নিল বর্ষা

599

পতিরাম: দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদা সহ গৌড়বঙ্গ থেকে বুধবার বিদায় নিল এবছরের বর্ষা। গত ৫ জুন বর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল গৌড়বঙ্গে। এটা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। কিন্তু বর্ষা দীর্ঘায়িত হওয়ায় বুধবার পর্যন্ত তা সক্রিয় থেকে বিদায় নিল।

বর্ষা বিদায়ের এই খবর জানিয়েছে কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। বর্ষা বিদায়ের পর এবার শুরু শীতের পালা। বৃহস্পতিবার থেকে আগামী দুই মাস আবহাওয়ার বিশেষ পরিবর্তন ছাড়া বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই বলে এদিন মাঝিয়ান সূত্রে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

বর্ষাকালের দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বিদায়ের পর এবার পশ্চিমা হাওয়ার প্রতীক্ষা। পশ্চিমী হাওয়া শুরু হলে এবছর জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকার কথা যথাক্রমে ৩০ ও ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। মালদা জেলায় এটা হতে পারে যথাক্রমে ৩২.৫ এবং ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি।

এবছর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বর্ষাকাল যেমন বেশ কিছুটা দীর্ঘায়িত হয়েছে তেমনি বৃষ্টিপাতের পরিমাণও অনেকটা বেশি হয়েছে। এই জেলায় বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২০০–১৮০০ মিলিমিটার। কিন্তু ২৮ অক্টোবর অর্থাৎ বর্ষা বিদায় নেওয়া পর্যন্ত এবছর জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০৮৭ মিলিমিটার।

মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষন কেন্দ্রের নোডাল অফিসার ডাঃ জ্যোতির্ময় কারফর্মা জানান, বর্ষা আজ বিদায় নিল। কাল থেকে শীতের মরশুম শুরু। শীতের আমেজ, শিশির, কুয়াশা ইত্যাদি সবই এরপর পাওয়া যাবে।

মাঝিয়ানের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর বলেন, বর্ষা বিদায় নেওয়ায় আগামী দুইমাস অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বরে বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে আসন্ন উৎসবগুলি সুন্দর ও অনুকূল আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারবে বলে সুমন বাবু আশা করছেন। স্বভাবতই উৎসব প্রিয় গৌড়বঙ্গবাসী ২০২০ সালের বাকি দিনগুলি নির্বিঘ্নে কাটাতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও করোনা মহামারীর জন্য অনেক বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে সাধারণ মানুষকে।