সাই সেন্টার খুলবে কবে, প্রশ্ন অ্যাথলিটদের

শিলাজিৎ সরকার, কলকাতা : করোনার জন্য হোস্টেল ছাড়তে হয়েছে প্রায় ১৫ মাস আগে। ফলে নিয়মিত অনুশীলনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন জলপাইগুড়ি সাই সেন্টারের আবাসিক অ্যাথলিটরা।

জলপাইগুড়ির এই সেন্টার অ্যাথলেটিক্সের ট্র‌্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, তিরন্দাজি এবং ফুটবল মিলিয়ে ৮৯ জন আবাসিক আছেন। লকডাউনে বাড়িতে অনুশীলন করতে সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। অধিকাংশের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। এলাকায় অনুশীলনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ হারিয়ে হতাশ জয়দেব রায়, ফারমান আনসারির মতো আবাসিক ক্রীড়াবিদরা।

- Advertisement -

জ্যাভলিন থ্রোয়ার জয়দেবের বাড়ি ময়নাগুড়ির বৌলবাড়ি এলাকায়। একাদশের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গত বছর লকডাউনের আগে বাড়ি গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর আর সেন্টারে ফেরা হয়নি। এখন বাড়ির পাশে স্কুলের মাঠে অনুশীলন করছেন ন্যাশনালে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে ব্রোঞ্জজয়ী জয়দেব। তাঁর কথায়, অনেকদিন বাড়িতে থাকায় ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারিনি। কিছুদিন আগে সেন্টারে গিয়ে তিনটে জ্যাভলিন নিয়ে এসেছি। অনলাইনে স্যার ক্লাস নিচ্ছেন। তবে সেটা যথেষ্ট নয়।

আরেক জ্যাভলিন থ্রোয়ার আকাঙ্খা প্যাটেলের অবস্থা কিছুটা ভালো। লকডাউনের জন্য বারাণসীর বাড়িতে আছেন সাইয়ের ইস্ট জোনে চ্যাম্পিয়ন এই অ্যাথলিট। তিনিও বাড়ির পাশের স্কুলের মাঠে অনুশীলন সারছেন। জানালেন, এই স্কুলের পরিকাঠামো তুলনায় ভালো। ফলে সেন্টারের পর্যায়ে অনুশীলন করতে পারছেন। সঙ্গে সাইয়ের কোচদের অনলাইন ক্লাস আছে। তবে তিনি হতাশ দীর্ঘদিন কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে না পেরে। বললেন, প্রতিদিন অনুশীলনই করে যাচ্ছি। কিন্তু কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে কী পর্যায়ে আছি বা কতটা উন্নতি হয়েছে তা বুঝতে পারছি না।

ফুটবলার ফারমানের উত্তরকন্যার কাছে বাড়ি। রাজগঞ্জের একটি অ্যাকাডেমি থেকে বছর দুয়েক আগে সাইয়ে যোগ দিয়েছেন। বয়েসভিত্তিক জাতীয় দলের হয়ে চিন ও ইতালি সফর করেছেন। কিন্তু করোনার জন্য এখন বাড়িতে একা অনুশীলন করতে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সকালে পাড়ার মাঠে অনুশীলন করছি। তবে ফুটবলে এভাবে অনুশীলন করে লাভ হয় না। সেন্টারের মতো পরিকাঠামো এখানে নেই। স্যররা সাহায্য করছেন, অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন। তবে তা যথেষ্ট নয়। দ্রুত হস্টেল খুললে ভালো হয়।

চলতি বছরের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সেন্টার খোলার ক্ষেত্রে আশার আলো দেখা গিয়েছিল। কিন্তু তারপরই ফের সংক্রমণের গ্রাফ চড়তে থাকায় সেই রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। সেন্টার ইন-চার্জ ওয়াসিম আহমেদ বলেন, ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ সেন্টার খোলার বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর ফের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় ওই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আবাসিক অ্যাথলিটদের।