প্রথম দফায় জেতা হল না হাবাসের দলের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : বন্ধু চল, বলটা দে/ রাখবো হাত তোর কাঁধে/ গল্পেরা ওই ঘাসে/ তোর টিমে তোর পাশে..

দুই স্ট্রাইকারের বন্ধুত্বের গল্পের সফল চিত্রায়নটা সম্পূর্ণ নিরানন্দের হয়ে গেল সংযুক্তি সময়ে। কৃষ্ণা-উইলিয়ামস জুটির এই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ে কারণেই ফের একবার নৌকোর পালে হাওয়া লেগেছে বলে যখন মনে হচ্ছিল তখনই মাচাডোর ক্রস থেকে ১-১ পরিবর্ত ইদ্রিসা সাইলার। এবারও প্রথম দফার সেমিফাইনালে জেতা হল না আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের। তেমনি টানা তিন ম্যাচে জয় না থাকাটাও কিন্তু যথেষ্ট চিন্তার।

- Advertisement -

তিরি-সন্দেশ জুটির মতো হাই প্রোফাইল দুই স্টপারকে বাদ দিয়ে যদি সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ খেলতে নামতে হয়, তখন এক ধাক্কায় দলের মানসিক শক্তি কমে যাওয়ারই কথা। এরকম একটা ম্যাচে তিন ডিফেন্ডারে খেলা যথেষ্ট ঝুঁকির। আর সেটাই করতে হল হাবাসকে। কার্ল ম্যাকহিউ, প্রীতম এবং শুভাশিস অবশ্য নিজেদের ছাপিয়ে গিয়ে দূর্গ অক্ষত রাখার চেষ্টা করে গিয়েছেন। তবু দুই নিয়মিত স্টপারের অনুপস্থিতির সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল খালিদ জামিলের দল। বল ধরলেই রে রে করে তাড়া করে এসেছে লাল জার্সিধারীরা। আর তাতেই শুরুতে বলের দখল হারাচ্ছিলেন লেনিরা।

তবে ধীরে ধীরে নিজেদের ভুলটা বুঝে ধরে খেলতে শুরু করতেই আত্মবিশ্বাস ফেরে মেরিনার্সদের। এতরকম অসুবিধার মধ্যেও রয় কৃষ্ণা এবং মানবীর চেষ্টা করেছেন বারবার প্রতিপক্ষ বক্সে জায়গা করে নিতে। বিশেষকরে কৃষ্ণা যেন বাগানে এদিন একদিকে বিপদভজ্ঞন মধুসূদন, অন্যদিকে কৌরব (নর্থ ইস্ট) ধ্বংসের কারিগর। মার্সেলিনহো লেইতে একটু পিছিয়ে বল বাড়ানোর কাজটা করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর পাস থেকে উইলিয়ামস সুযোগ নষ্ট করলেও শেষপর্যন্ত ৩৪ মিনিটে অজি স্ট্রাইকারেরই গোল। মাঝমাঠ থেকে প্রীতমের উঁচু করে তোলা বল রয় কৃষ্ণার কাছে এলে তিনি ডিলান ফক্সকে ঘাড়ে নিয়ে একদম মাপা পাস রাখেন উইলিয়ামসের জন্য। তাঁর বাঁ পায়ের শটে বিরতির আগেই ০-১ এগিয়ে যায় দল।

এটাও ঘটনা, এরকম পরিস্থিতিতে যতটা আক্রমনাত্মক হওয়ার কথা ছিল ভিপি সুহের, লুইস মাচাডো, ফ্রেডরিকো গালেগোদের, ততটা প্রথমার্ধে অন্তত পাওয়া যায়নি। আসলে খালিদের কিছুতেই গোল খাব না নীতির জন্যই সেসময় আক্রমনে জোয়ার আসেনি হাইল্যান্ডারদের। গোল খাওয়ার পরে পরেই বক্সের বাইরে থেকে একটা দূর্দান্ত ফ্রি কিকে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন গালেগো। ভাল বাঁচান অরিন্দম। বিরতির কিছু আগে আশুতোষের হেডও গোলে ঢোকার মুখে হাত লাগিয়ে ফেলেন পতন রোধ করেন তিনি। তবে বিরতির ঠিক পরেই অরিন্দম যেভাবে বক্সের বাইরে বেড়িয়ে এসে ফাঁকায় এগনো মাচাডোকে ফাউল করলেন তাতে রেফারি ক্রিস্টাল জনের লাল কার্ড না দেখান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুললে দোষ দেওয়া যাবে না। মাচাডোর ক্রস থেকে সাইলার হেডের সময়ে কিন্তু তাঁর আরও তৎপর থাকা উচিৎ ছিল। বলটা যখন দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে গোলে ঢুকছে তখন তিনি ঝাঁপালেন দেরিতে।

আসলে বিরতির পরে খালিদের দল সাহসী হতেই চাপ বাড়ে। আক্রমনে ঝাঁঝ বাড়াতে ইদ্রিসা সাইলা, ব্রিটো ও মাসুর শারিফকে নামিয়ে দেন তিনি। যার ফল পেলেন ম্যাচের শেষমুহূর্তে। এদিন বাগানের দুই প্রাক্তন আশুতোষ মেহতা-গুরজিন্দার সিং জুটি যেন দূরন্ত পারফরমেন্স দিয়ে শোধ নিলেন তাঁদের না রাখার। ম্যাচের সেরা হলেন গুরজিন্দার। এবং খালিদ। তিনি কিন্তু এদিনও না হেরেই মাঠ ছাড়লেন।