লিগশীর্ষে ওঠার চ্যালেঞ্জ এটিকে মোহনবাগানের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : উৎসবমুখর হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে কলকাতাবাসীর। দৌড়ে খুব পিছিয়ে থাকবেন না গোয়ানিজরাও। রাত পোহালেই ভ্যালেন্টাইন ডে। সেটাকে উপলক্ষ্য করেই গোয়া জুড়ে এখন সাজোসাজোর রব।

 

- Advertisement -

আলোর মুক্তোমালায় সেজেছে আরব সাগরপারের পার্টি ক্রুজ। ঝলমলে ক্যাফে থেকে পানশালা। ভালোবাসার সেই ঢেউ লেগেছে পালতোলা নৌকাতেও। রোমান্স কিং শাহরুখ খানের লুঙ্গিডান্সের স্টাইলে দাঁড়িযে রয়েছেন রয় কৃষ্ণা। প্রিয়তমা নাজিয়াকে নিয়ে সাজাচ্ছেন ডিনারের-প্ল্যান। ছবিগুলি বলে দিচ্ছে বাগানে এখন বসন্তের ছোঁয়া।

এসবের মাঝেই যেন উল্টো স্রোতের বাসিন্দা সবুজ-মেরুনের হেডস্যার অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। ভ্যালেন্টাইন ডে-তে তাঁর দল নামছে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে। জিতলে লিগটেবিলের শীর্ষে থাকা মুম্বই সিটিকে (১৬ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট) টপকে যাবে এটিকে মোহনবাগান (১৬ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট)। সেই ম্যাচের জয়ের অঙ্ক সাজাতে ব্যস্ত প্রীতম কোটালদের স্প্যানিশ কোচ। বললেন, দলের আত্মবিশ্বাস ভালো জায়গায় রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য থাকবে বাকি চার ম্যাচ জিতে লিগ পর্যায়ে শেষ করা।

শেষ চারে যাওয়ার আশা রয়েছে ওয়েন কোলের দলের সামনেও। ফলে চেন্নাইয়ান ম্যাচ জিতে জয়ে ফেরা নেরিজাস ভালস্কিসেরা মরণকামড় দেওয়ার চেষ্টা করবেন, তা বলাই বাহুল্য। প্রতিপক্ষকে প্রশংসায় ভরিয়ে তাই জামশেদপুর কোচের গলায় প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি, মরশুমের শেষের দিকে এমন ম্যাচ অন্য পর্যায়ে হয়ে থাকে। লিগের সেরা দল ও ফুটবলারদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ রয়েছে ছেলেদের সামনে। সেই চ্যালেঞ্জ আমরা জিততে চাই। আমরা এর আগে এটিকে মোহনবাগানকে হারিয়েছি। কালকেও সেটা করে দেখাতে চাই।

শেষ সাক্ষাতে এই জামশেদপুরের কাছে হেরে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। সেই ক্ষত যে এখনও টাটকা তা স্পষ্ট হাবাসের কথায়। তিনি বলেন, অতীত নিয়ে কাঁটাছেড়ায় আমি বিশ্বাস করি না। প্রত্যেকটা ম্যাচ আলাদা। প্রতিটি ম্যাচেই কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করে। কালকের ম্যাচও তেমনি। এটাই আমাদের মরশুমের শেষ ম্যাচ, এমন ধারণা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

জামশেদপুর ম্যাচের মাঝেই প্রত্যাশার পারদ চড়ছে ডার্বি ঘিরে। ওয়েন কোলের দলের বিরুদ্ধে বড় ম্যাচের মহড়া সেরে ফেলার সুযোগ রয়েছে হাবাসবাহিনীর সামনে। বাগানের স্প্যানিশ কোচ অবশ্য ডার্বির ছায়া এখনই দলের ওপরে পড়তে দিতে নারাজ। সর্তক গলায় বলে গেলেন, লিগে প্রত্যেকদিন পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করে আমাদের স্ট্র্যাটেজি তৈরি করি। ভবিষ্যতের কোনও ম্যাচ ধরে নয়।

মার্সেলিনহো আসায় আক্রমণে ঝাঁঝ বেড়েছে। মাঠে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছে মেরিনার্সদের। তবে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে নামার আগে হাবাসের মুখে ভারসাম্যের কথা। বললেন, আমরা সবসময় আকর্ষণীয় ফুটবল তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আক্রমণে নজর দিয়েছি কিন্ত তা রক্ষণকে অবহেলা করে নয়। ফুটবল দুটোকে নিয়ে।

দিনকয়েক আগে এই জামশেদপুরকে হারিয়ে জয়ের রাস্তায় ফিরেছিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকতে নারাজ এটিকে মোহনবাগানও। রবিবার প্রীতমরা জিতলে ডার্বির আগে সেটাই হবে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের ভ্যালেন্টাইন ডে-র উপহার।