কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে গোলই হাতিয়ার মানবীরের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : তাঁদের পরিবার-পরিজনেরা তো বটেই, সরকার ছাড়া এখন সারা ভারত, এমনকি রিহানার মতো পপ স্টারও আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে। তবু যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁদের কষ্ট-ক্ষোভ-রাগের কিনারা করা বাকিদের পক্ষে কি সম্ভব? হয়ত না। তাই শুধু টুইট করেই নয়, নিজেদের সব কষ্টটা যেন গোলেই ঢেলে দিলেন পাঞ্জাবী তরুণ।

রয় কৃষ্ণার বাড়ানো বলটা ধরে মানবীর সিং যখন বড়ো বক্সের মাথায় দাঁড়িয়ে বাঁ পায়ে গোলার মত শটটা নিলেন তখন বোধহয় দিল্লি সীমান্তে দাঁড়ানো কৃষকদের আশীর্বাদ গোল হয়ে ঝরে পড়লো তাঁর এবং এটিকে মোহনবাগানের মাথায়। এবারের আইএসএলে প্রথমবার শুরুর ১৫ মিনিটে গোল মেরিনার্সদের। ইচ্ছাশক্তি যখন প্রবল হয়ে ওঠে তখন কোনও প্রতিরোধই বোধহয় আর কাজ করে না। এমন একটা দিনে তিনি মাথা নীচু করে ফিরবেন এমনটা বোধহয় ফুটবল দেবতাও চাননি। তাই ৫৪ মিনিটে আবার তাঁর পায়ে ভর করলেন তিনি। ফের কৃষ্ণার থেকে পাওয়া বল এবং মানবীরের ডানপায়ের শটে ঝাঁপিয়ে পড়া আর্শদীপের হাতের তলা দিয়ে ২-১ করা। কারণ বিরতির আগেই গোল দিয়ে চাপে ফেলে দেয় ওডিশা।

- Advertisement -

আসলে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের মাথাব্যাথা যে ডিফেন্স নিয়ে কেন বেড়েছে তা পরিষ্কার হযে গেল বিরতিতে যাওয়ার আগের মুহূর্তে। পল রামফাঙজাওভার শটটা অরিন্দম দ্বিতীয় পোস্ট থেকে ফেরালে সেটা তিরিরা কেউ লক্ষ্যই করলেন না। একা আর কত সামলাবেন অরিন্দম! তিনি এক পোস্ট আগলালে অন্যদিক হাট হয়ে খুলে যায। ৪৫ মিনিটে কোল আলেকজান্ডার দূরপাল্লার শটে গোল করে গেলেন। নিঃসন্দেহে এটাও দূর্দান্ত গোল কিন্তু ডিফেন্স দায় এড়াতে পারবে না। প্রথমার্ধে একা মার্সেলিনহোই পারতেন অন্তত ২ গোল দিতে। তবে তিনি যথেষ্ট স্বার্থপর ফুটবল খেলেন। বহু ক্ষেত্রে নিজে গোল করতে গিয়ে ফাঁকায় দাঁড়ান কৃষ্ণাকে বল দেননি। পরে সদ্য চোট সারিয়ে ফেরা ডেভিড উইলিয়ামস নামতেই পুরোনো মেজাজে কৃষ্ণাও।

এদিন শুরু থেকেই মেরিনার্সদের দাপট থাকার কারণ, লেনি রডরিগেজের অন্তর্ভুক্তি। তাঁর মতো বল প্লেয়ারকে পেয়ে ডিফেন্স থেকে কৃষ্ণা, সবার সুবিধা হয়েছে। ফিজিয়ান বহুবার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করলেন। তবে এই দলটার সমস্যা হল, বেশিরভাগ ফুটবলারেরই বয়স বেশি। ফলে তেড়েফুড়ে শুরু করলেও আবার সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা বেদম হয়ে পড়েন। যার সুযোগ নিয়ে গোল শোধ ওড়িশার। স্টুয়ার্ট ব্যাক্সটারের অপসারনের প্রভাব একেবারেই পড়েনি। বরং গৌরব বোরা, পল, জেরি, বিনীত রাইদের মতো একঝাঁক বাচ্চা বাচ্চা ছেলে দৌড় করিয়ে লেনি, জাভি, তিরিদের একটা সময়ে প্রায় হাঁফ ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

ফলে বহুবার অরক্ষিত অরিন্দমকে পরীক্ষা করার সুযোগ পেলেন মৌরিসিও-ওনাউরা। তবে যাবতীয় আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে ৮৩ মিনিটে প্রণয়ের শট বক্সের মধ্যে কোলের হাতে লাগায় পেনাল্টি প্রাপ্তি। আর এরকম ক্ষেত্রে গোল করতে রয় কৃষ্ণার ভুল হয় না। দলের চার নম্বর গোলটা ৮৬ মিনিটে সারেঙ্গিকে একাই টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন। এরপর ম্যাচটায় শুধু শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।