কৃষ্ণা-মার্সেলিনহো যুগলবন্দীতে বেঙ্গালুরু-বধ

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : ম্যাচ শুরুর আগে মোহনবাগান সমর্থকের খেদোক্তি, একটা সময় ছিল, এই ম্যাচটার জন্য আমরা অপেক্ষা করে থাকতাম। কীভাবে বেঙ্গালুরু-বধ হবে, তারপর কীভাবে উৎসব পালন করবো আমরা। আর আজ দেখুন…। তাঁদের মন খারাপের সন্ধ্যাটা অবশ্য দ্রুত বদলে দিল সেই কৃষ্ণা ম্যাজিক। মুম্বইয়ের পর দ্বিতীয় দল হিসাবে প্লে অফে এটিকে মোহনবাগান (১৬ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট)।

এটিকে মোহনবাগানের রয় কৃষ্ণা মাঠে নামা মানেই কিছু অনবদ্য দৃশ্যের অবতারনা। মার্সেলিনহো আসার পরে ফের গত মরশুমের মতোই বিধ্বংসী ফিজিয়ান। হয়ত এখনও ব্যারেটো বা নিদেনপক্ষে দলের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া সনিও নন, কিন্তু মেরিনার্সদের নিশ্চিন্ত করতে বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া শুরু করেছেন প্রতি ম্যাচে। এদিনও যখন প্রথম আধঘন্টায মাত্র ২৮ শতাংশ বল পজেশন নিয়ে হাঁসফাস অবস্থা তখনই খোলশ ছেড়ে বেরনো শুরু করলেন তিনি। আর তাতেই বিরতির আগে শেষ ৬ মিনিটে ২ গোল মেরিনার্সদের।

- Advertisement -

ম্যাচের শুরুতেই তারটা বেঁধে দিয়েছিলেন অবশ্য মার্সেলিনহো। একাই যখন হুড়মুড় করে বলটা টেনে নিয়ে গিয়ে শট নিলেন তখনই বোঝা গিয়েছিল, ম্যাচটা কঠিন হবে বেঙ্গালুরুর। ঠিক সেটাই হল অবশেষে। ৩৬ মিনিটে তাঁর বাড়ানো বলটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রতীক চৌধুরি ফসকালে পেয়ে যান কৃষ্ণা। তাঁকে অবৈধভাবে আটকান ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না প্রতীকের কাছে। রেফারি রোয়ান অরুমুঘম পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। কৃষ্ণারও গুরপ্রীতকে উলটোদিকে ফেলে গোল করতে কোনও সমস্যা হয়নি।

ম্যাচ শুরুর আগে গোল্ডেন গ্লাভসের দাবিদার অরিন্দম ভট্টাচার্যকে হলুদ ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয়। এই দৃশ্য উলটোদিকে দাঁড়ান গুরপ্রীত সিং সান্ধুকে তাতিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। তাই কার্ল ম্যাকহিউয়ের শটটা উঁচু থেকে বাঁক নিয়ে গোলে ঢোকার মুখে যেভাবে শূণ্যে ছুঁড়ে দিয়ে দলের পতন রোধ করলেন তা নিঃসন্দেহে তারিফযোগ্য। মনে হয়েছিল, এরপর হয়ত নিজেকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি। কিন্তু প্রথম গোলের পর মাত্র ৬ মিনিটের মধ্যে তাঁকে গোল হজম করতে হল। ডেভিড উইলিয়ামসকে বক্সের মধ্যে বিশ্রীভাবে ধাক্কা দেন হরমনজ্যোত খাবরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটাও পেনাল্টি ছিল। রোয়ান এড়িয়ে গিয়ে বক্সের ঠিক বাইরে কোণাকুণি অংশে ফ্রি কিক দেন। সেখান থেকে মার্সেলিনহোর বাঁকানো শটটা মানব দেওয়াল এবং গুরপ্রীতকে দর্শক বানিয়ে গোলে ঢুকে যায়।

এদিন সুনীলদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে সেই প্রথম দফার মতোই প্রায় স্ট্র্যাটেজি নেন হাবাস। সেদিনের মতো হাই প্রেসিং ফুটবল না হলেও আক্রমনে একাধিক ফুটবলার নামিয়ে দেন। কৃষ্ণা, মার্সেলিনহো, মানবীর, উইলিয়ামস, কাকে ছেড়ে কাকে ধরবেন ফ্রান গঞ্জালেজ, বেকে, প্রতীকরা? চোটের জন্য নামতে পারেননি ক্লেটন সিলভা। তাঁর জায়গায় নামা ক্রিস্টিয়ান ওপসেথ হোমেও লাগেননি, যজ্ঞেও না। তাঁর পরিবর্ত সিসকো ফার্নান্ডেজও তথবচ। সুনীল ছেত্রী এখন কোনওদিন ভালো খেলবেন কোনওদিন তাঁর শরীর দেবে না। এটাই এখন ভবিতব্য। বিরতির পরে ম্যাচের দখল নিজেদের হাতে রেখে দেওয়া ছাড়া আর বাড়তি খাটাখাটনিতে যেতে দেখা যায়নি মেরিনার্সদের। হাল ছেড়ে দেয় বেঙ্গালুরুও। এদিনের পর সুনীলদের প্লে অফে (১৭ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট) যাওয়ার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল।