চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যাওয়া হল না সবুজ-মেরুনের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : ফুটবলে একটা চালু কথা হল, যাদের ঐতিহ্য-ঘরানা আছে তারা সঠিক সময়ে জ্বলে উঠে চ্যাম্পিয়নশীপটা নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু যা আগে অন্তত দুবার পেরেছিল একা মোহনবাগান, এটিকে মোহনবাগান হয়ে ফেরাতে ব্যর্থ সেই সোনালি দিন। সম্ভবত বছর ছয়েক বয়সের কর্পোরেট দলের সঙ্গে জুড়ে নিজেদের চরিত্র ও পরিচয় হারিয়েছে গঙ্গাপাড়ের প্রাচীনতম ক্লাব। নাহলে কেনই বা ফিরে এল না ২০০১-০২ বা ২০১৪-১৫-এর মায়াবী বিকেল বা রাতগুলো? এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অধরাই থেকে গেল মুম্বইয়ে কাছে ০-২ গোলে হেরে।

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই স্বপ্নভঙ্গ মেরিনার্সদের। আক্রমনাত্মক দল নামিয়েছিলেন দুই দলের কোচ। কিন্তু মাঝে যাই হয়ে থাক না কেন, ভারসাম্যে যে এগিয়ে মুম্বই সিটি এফসিই, সেটা প্রমান করতে মাত্র ওই ৬ মিনিট সময় লাগলো মোরদাতা ফল-বার্তেলোমিউ ওগবেচেদের। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে আহমেদ জোহাউয়ে ফ্রি-কিকে ফাঁকায় হেড করে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে গোল ফলের। তিনিই ম্যাচের সেরা।

- Advertisement -

অরিন্দম তখন প্রথম পোস্ট আগলে দাঁড়িয়ে এবং তিরি চ্যালেঞ্জই জানাতে ব্যর্থ। পিছন থেকে ফলের মতো বিশালদেহী উঠে আসছেন এটা খেয়ালই করলেন না নিজের গোলের দিকে মুখ করে তাঁর পিছনে না থেকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকায়। আগের ম্যাচে শুভাশিসের কার্ডটা যথেষ্ট দূর্বল করেছে বাগান ডিফেন্সকে। মানবীরের পক্ষে সামলানো মুশকিল হয়েছে একদিকের প্রান্ত। তিনি না পারলেন আক্রমনে উঠতে না ডিফেন্সকে সাহায্য করতে।

এই মরশুমে মুম্বইয়ে সামনে পড়লেই কেন যেন এক ভ্যাবাচ্যাকা ভাব এটিকে মোহনবাগানের। সে কোচই হন বা ফুটবলাররা। আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের মতো ধুরন্ধর কোচও দল নামাতে ভুল করলেন। মাঝমাঠে জাভি হার্নান্ডেজকে দরকার ছিল আক্রমনে চাপটা রাখতে। তেমনি ডিফেন্সেও প্রবীর দাশ বা সুমিত রাঠির মতো কেউ থাকলে বোধহয় অনেকবেশি জমাট রাখা যেত। তারপর মাত্র ৬ মিনিটে গোল খেয়ে পুরোপুরি খেই হারালেন ফুটবলাররা।

ধাক্কাটা বাড়লো ১৮ মিনিটে। সন্দেশ ঝিঙ্ঘানের পাঁজরের চোটটা মাথা চাড়া দেওয়ায়। তাঁকে বসিয়ে দিয়ে সেই প্রবীরকেই নামাতে হল। স্টপারে গেলেন প্রীতম কোটাল। বিরতির পর তিরিকেও তুলে নিলে এদিনই প্রথম মাঠে নামলেন সালাম রঞ্জন সিং। একইসঙ্গে এডু গার্সিয়া নামলে কিছুটা চাপ তৈরি হল, প্রবীরের একটা শট পোস্টে লাগলো কিন্তু দিনটাই আসলে ছিল না মেরিনার্সদের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতার্জন করতে হবে, এতেই যেন স্নায়ুর চাপে ভুগলেন বাগান ফুটবলাররা। সচরাচর যা হয় না সেই মিস পাসের ছড়াছড়ি, মুম্বই বক্সের আশেপাশের অঞ্চলে সঠিক জায়গা না নেওয়া, সেট পিস কাজে লাগাতে না পারার মত যাবতীয় রোগ দেখা গেল এদিনই। ফল-হেরনান সানতানার মাঝে শেষেরদিক ছাড়া নড়তে পারেননি কৃষ্ণাও। ফর্মে না থাকা মার্সেলিনহো লেইতের পরিবর্তে জাভি নামলেন প্রায় শেষদিকে।

উলটোদিকে জোহাউ-অ্যাডাম লি ফন্ড্রে-ওগবেচেদের থেকেও যেন কাঁধে বাড়তি দায়িত্ব চাপিয়ে নিয়ে খেললেন রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ, বিপিন সিং বা প্রাঞ্জল ভুমিজের মতো তরুনরা। হাবাস তাঁর ছেলেদের দিয়ে হাই প্রেসিং ফুটবলটা চেষ্টা করেও খেলাতেই পারলেন না এদের পালটা দাপটে। আর এরকম একটা দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়লে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে ভুলটা করলেন প্রীতম। টপ বক্সের মাথায় জোহাউকে বিশ্রি ফাউল করে হলুদ কার্ড তো দেখলেনই, গোলটাও খাওয়ালেন। জোহাউয়ে ফ্রি-কিকটা ক্রসপিসে লেগে ফিরে এলে ফের ফাঁকায় হেড করে গেলেন ওগবেচে। এই মরশুমে জোহাউয়ে জন্যই সেট পিসে একশোয় একশো মুম্বই। সবশেষে বাড়তি কৃতিত্ব দিতেই হবে সের্জিও লোবেরাকে। পরপর দুবার (গত মরশুমে এফসি গোয়া) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলকে নিয়ে গিয়ে দেখালেন তাঁর লক্ষ্যটা শুরু থেকেই একদম স্থির।