স্বপ্নভঙ্গ মেরিনার্সদের, ফের হার মুম্বইয়ের কাছে

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : ইয়ে হ্যায় মুম্বই মেরি জান, মেরিনার্সদের দেখলে সম্ভবত এখন থেকে এই কথাটাই বলবেন সের্জিও লোবেরা। তাঁর ডাবলের স্বপ্নও সফল। ৯০ মিনিটে বিপিন সিংয়ের গোলে স্বপ্নভঙ্গ এটিকে মোহনবাগানের।

তথ্য বলছে, মেরিনার্সদের এবারের বেশিরভাগ গোল এসেছে ৭৫ মিনিটের পর। কিন্তু প্রতিপক্ষ যখন মুম্বই সিটি এফসি, তখন বেনিয়মই বোধহয় নিয়ম। এদিনও তার অন্যথা হল না। অরিন্দম গোল ছেড়ে বেড়িয়ে এসে বিপদ ডেকে নিয়ে এলেন। পরিবর্ত ওগবেচে দেখালেন নিজের খেল। তাঁর থেকে পাওয়া বল ধরে ফাঁকা গোলে ২-১ বিপিন সিংয়ের। এবং লিগ শিল্ডের পর আইএসএল ট্রফি জয়ের স্বপ্নেরও পরিসমাপ্তি এটিকে মোহনবাগানের। গোল্ডেন গ্লাভসটা অরিন্দমের স্বান্তনা পুরষ্কার।

- Advertisement -

এদিন যেন বাড়তি উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নামতে চেয়েছিলেন রয় কৃষ্ণা-প্রীতম কোটালরা। এরকম ক্ষেত্রে আবার অনেক সময়ে স্নাযুর চাপ গ্রাস করে ফুটবলারদের। যা শুরুতে ফুটবলারদের ক্লোজ আপে ধরার সময়ে পরিষ্কার বোঝাও গিয়েছে। তবু তেড়েফুরে শুরুটা করেছিলেন বলেই গোল না খাওয়া পর্যন্ত ম্যাচের দখল ছিল। খানিকটা চাপে ছিলেন রয় কৃষ্ণাও। তিনিই যে লিগের সেরা স্ট্রাইকার, এটা প্রমান করার তাগিদ থাকাটাই স্বাভাবিক। শেষপর্যন্ত কাজের কাজটা করলেন সেই কৃষ্ণাই। ম্যাচ শেষে তাঁর শূণ্য চোখে তাকিয়ে থাকাটা বড়োই বেদনাদায়ক লাগছিল।

১৮ মিনিটে ডেভিড উইলিয়ামসের গোলটা সম্পূর্ণ মুম্বই ডিফেন্সের দোষে। আময় রানাওয়াডে থেকে জোহাউ আহমেদ পেতেই পাশে দাঁড়ানো ফিজিয়ান টোকা মেরে বলটা বার করে দিলে জোরালো শটে গোল উইলিয়ামসের। সামনে মার্সেলিনহো লেইতে পেরেরাকে না নামিয়ে মাঝমাঠে জাভি হার্নান্ডেজকে খেলান কাজে লেগেছে। তিনি এদিন নিয়মিত ব্যবধানে পরীক্ষা করে গিয়েছেন অমরিন্দারকে। তবে শেষপর্যন্ত বল তিনকাঠিতে ঢোকেনি।

বিশেষকরে বিরতির পর তো যথেষ্ট উত্তেজক ম্যাচ হল। দুই দলই ওপেন ফুটবল খেলা শুরু করে এই পর্বে। ৭১ মিনিটে কৃষ্ণা অফসাইড থাকায় উইলিয়ামসের গোল বাতিল করেন লাইন্সম্যান। প্রথমার্ধে গ্রুপ পর্যায়ে দুটো হার অস্বস্তিতে রাখে সন্দেশ-তিরিদের। এই চাপে থাকার জন্যই গোলটা খেতে হল। জোহাউয়ে উঁচু করে তোলা বল অ্যাডাম লি ফন্ড্রে ছেড়ে দিতে বিপিন তেড়ে আসছেন দেখেই তিরি বল লক্ষ্য করে পিছোতে থাকেন। প্রথম পোস্ট ধরে এগোচ্ছিলেন অরিন্দমও। তিরি বল বার করতে গিয়ে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে ব্যাক হেডে গোলে ঢুকিয়ে দিলেন। বাগানের স্প্যানিশ স্টপার কিন্তু এই কাজ এই মরশুমে বারবারই করছেন।

হুগো বৌমাস এদিনও একটু পিছন থেকে খেলছিলেন। পরে তাঁকে বসিয়ে তরতাজা সাই গডার্ডকে নামানোটাও সের্জিও লোবেরার ভালো চাল। তাঁর ছটফটানিতেই অরিন্দম ও ডিফেন্স বিভ্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় গোলটা খেল। ফন্ড্রে এই বয়সেও সামনে তো বটেও প্রয়োজনে পিছিয়ে এসে যে ওয়ার্ক লোড নিচ্ছেন, সেটা তারিফ করার মত। ৭১ মিনিটে নামা বার্তেলোমিউ ওগবেচেও যথারীতি ঝামেলা করলেন বাগান ডিফেন্সে। তবে অন্যদিনের মত এদিন মুম্বই ডিফেন্সকে ততটা জমাট লাগেনি।

বিশেষকরে আমায় রানাওয়াডেকে ভয়ঙ্কর স্নায়ুর চাপে ভুগতে দেখা গিয়েছে। যার ফয়দা তোলার চেষ্টা করে গিয়েছেন শুভাশিস ও কৃষ্ণা। ১-১ করার পর ফের চেপে ধরতে দেখা যায় মুম্বই সিটি এফসিকে। হুগো বৌমাসের থেকে পাওয়া বল থেকে ফন্ড্রে ফলস দিতেই বিপিন যে জোরাল শটটা নিয়েছিলেন, সেটা অরিন্দম দূর্দান্ত না বাঁচালে তখনই এগিয়ে যায় মুম্বই। প্রথমার্ধে একটা পেনাল্টি থেকেও বঞ্চিত লোবেরার দল। এবার ফন্ড্রের থেকে পাওয়া বল বিপিন বক্সের মধ্যে ধরতেই তাঁকে হাত ধরে টেনে ফেলে দেন প্রীতম।

বিরতির বাঁশি বাজার মাত্র ১০ সেকেন্ড বাকি থাকতে শুভাশিস বসুর সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর চোট পেলেন আময় রানাওয়াডে। যা ফুটবল মাঠের বহু দূর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন ফিরিয়ে আনে। তবে স্বস্তির কথা, বড়োসড়ো কিছু হয়নি।