ফাইনাল নিয়ে অনেক অঙ্ক কোচেদের মাথায়

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : এখনও করোনার থাবা একইরকম ভয়াল। হয়তো তীব্রতা আগের থেকে অনেকটা কম। তবে ২০২০ যেন সত্যিই বিষ ঢেলে দিয়ে গিয়েছে এই পৃথিবীতে। তারই মধ্যে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা।

মানুষের মৃত্যুমিছিলের আবহে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ হওয়া সম্ভব, এমন কথা গত অক্টোবর নাগাদ সত্যিই এদেশে অনেকেরই হজম করা কঠিন ছিল। কিন্তু সেই অসম্ভব হার্ডল পার করতে প্রাণপাত করেছেন প্রশাসন থেকে সংগঠক, স্থানীয় আয়োজক থেকে ক্লাব, কোচ থেকে ফুটবলার সকলেই। যার শেষটা শনিবার টপকাতে টিকে রয়েছে, এটিকে মোহনবাগান ও মুম্বই সিটি এফসি। কে ছুঁতে পারে লাইন শেষের ফিতেটা, তারই মহড়ায় ব্যস্ত দুই কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস ও সের্জিও লোবেরা। মহারণের জন্য তৈরি হচ্ছেন দুই দলের ফুটবলাররাও।

- Advertisement -

ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নিয়ে কোনও বিতর্কের জায়গাই নেই। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই যেন নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছিল ফাইনালের ভবিতব্য। অবাক করা ঘটনা হল, বাগান এবং মুম্বই, দুই দলই গ্রুপ লিগে ১২টি করে ম্যাচ জিতেছে। হার ও ড্র চারটি করে ম্যাচে। মেরিনার্সদের ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্যিটা হল, এই চারটি হারের মধ্যে দুটিই মুম্বইয়ে বিরুদ্ধে। শেষ ম্যাচের আগে ৩ পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও হাতছাড়া হয়েছে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ। আর এসবেরই প্রতিশোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এই ফাইনালে। অন্তত দুধের স্বাদ ঘোলে তো মিটবে।

সেখানে মুম্বই সিটির কাছে প্রথম আইএসএল ফাইনালে ওঠার পাশাপাশি ডবল করারও সুযোগ এসে পড়েছে। নিজেকে সার্বিকভাবে সেরা প্রমাণ করার এই সুযোগটা ছাড়তে চান না বলেই সম্ভবত লোবেরা এদিন জানিয়ে দেন, ওরা সত্যিই খুব ভালো দল। দারুণ সব ফুটবলার রয়েছে এবং ভালো ছন্দে রয়েছে সকলে। কিন্তু এখন ওদের নিয়ে নয়, আমাদের নিজেদের খেলার ওপর ফোকাস করতে হবে ও নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আমাদের নিজেদের খেলার যা ধরন, সেটা ১০০ শতাংশ নিশ্চিত করা দরকার। ওদের খেলা সম্পর্কে যেটুকু জানি তাতে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা করা ঠিক নয়। এই ম্যাচে তিনি কার্ডের জন্য মান্দার রাও দেশাইকে পাচ্ছেন না। তবে সেমিফাইনাল থেকে হুগো বৌমাসের দলে ফেরাটা বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে দলকে।

লোবেরা যখন নিজেকে এদেশের সেরা কোচেদের তালিকায় প্রতিষ্ঠিত করতে লড়ছেন, তখন হাবাস ইতিমধ্যেই নিজেকে চিনিয়ে ফেলেছেন তাঁর সাফল্য দিয়ে। দুবার আইএসএল ট্রফি জিতে তিনিই শীর্ষে সাফল্যের নিরিখে। নিশ্চিতভাবেই তিন নম্বরটাও চাইছেন। এক্ষেত্রে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে কিছুটা মুখরক্ষার জন্যও। ফাইনাল প্রসঙ্গে হাবাসের মন্তব্য, আমাদের প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতে দিলে চলবে না। আমার দল জেতার জন্য তৈরি। খেলার গতিপ্রকৃতি দেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়াটা খুব জরুরি।

এই ম্যাচেও তাঁর তুরুপের তাস সেই রয় কৃষ্ণা। ইগর আঙ্গুলো এবং তিনি, দুজনেই ১৪ গোল করে গোল্ডেন বুটের দাবিদার। নিশ্চিতভাবেই ফিজিয়ান চাইবেন, এই ম্যাচে গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যকেও ছুঁতে। একইভাবে গোল্ডেন গ্লাভসের জন্য লড়বেন অরিন্দম ভট্টাচার্য ও অমরিন্দার সিং। দুই গোলরক্ষকই ১০টি ম্যাচে দলের গোল সুরক্ষিত রাখতে পেরেছেন। প্রথমজন জাতীয় শিবিরে ডাক পাননি, তাঁর কাছে সেই না পাওয়ার জ্বালা মেটানোর ম্যাচও হতে চলেছে। কম গোল খাওয়ায় কিছুটা এগিয়ে অরিন্দমই।

তবে সবকিছুর পরেও আসল হল দুই ধুরন্ধর স্প্যানিশ ফুটবল মস্তিষ্কের ট্যাকটিকাল ও টেকনিক্যাল ভাবনাচিন্তার লড়াই। শনিবাসরীয় রাতে হাবাস ও লোবেরার মধ্যে যাঁর ভাবনাচিন্তা যত বেশি ধারাল হবে, ট্রফি হাতে তুলে নেওয়া তাঁর পক্ষে ততই সহজ। এবারের আইএসএলে এই বিষয়ে এখনও এগিয়ে লোবেরা। এখন দেখার, শেষ ল্যাপে হাবাস বাজিমাত করতে পারেন কি না।