খালিদ দুর্গ জয় করে ফাইনালে হাবাসরা

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : গ্যালারির যেদিকে চোখ যায় উড়ছে শুধু সবুজ-মেরুন আবির। বাজছে ঢাক, কাসর। তার মধ্যে থেকে ভেসে আসছে চেনা গানের দুকলি, জন্মেছি মাথায় নিয়ে খেলোয়াড়ি পরোয়ানা, বুকের এই কলজে বলে লড়াই কর হার না মানা।

ফ্ল্যাশব্যাকে একবছর পিছিয়ে গেলে স্মৃতির সরণি বেয়ে এই দৃশ্যগুলি ভেসে উঠবে মোহনবাগান সমর্থকদের চোখের সামনে। রাত পোহালে আরও একটা ১০ মার্চ। পালতোলা নৌকার আই লিগ জয়ের বর্ষপূর্তি। উৎসবের সেই রঙিন আবহকে এদিন গোয়ার মাটিতে ফিরিয়ে আনলেন রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামসরা। সেই রঙিন ছটায় নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে (দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২) হারিয়ে আইএসএলের ফাইনালে জায়গা করে নিল এটিকে মোহনবাগান।

- Advertisement -

তবে সহজ কাজকে কঠিন করে লক্ষ্যে পৌঁছল পালতোলা নৌকা। বাগানের কৃষ্ণাময় আক্রমণকে আটকাতে রক্ষণকে নিশ্চিদ্র করে সাজিয়েছিলেন টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকা নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের কোচ খালিদ জামিল। সঙ্গে ভিপি সুহের, ইদ্রশা সাইলাদের নিয়ে প্রতিআক্রমণের ছকও তৈরি ছিল। যার জন্য ২ গোলে এগিয়ে গেলেও জয় অনিশ্চিত দেখাচ্ছিল সবুজ-মেরুনের। রক্ষণের ভুলে গোলহজম কিংবা বিপক্ষকে মোক্ষম সময়ে পেনাল্টি উপহার, উৎকণ্ঠা দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস থেকে সমর্থকদের।

কিন্তু ভাগ্যদেবতা এদিন বোধহয় হাবাসকে আর খালি হাতে ফেরাতে চাননি। তাই লুইস মাচাডোর পেনাল্টি আকাশচুম্বী হয়ে উঠে যেতেই ম্যাচের দেয়াল লিখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। যার জেরে এই নিয়ে তৃতীয়বার আইএসএলের ফাইনালে হাবাস। যেখান থেকে কখনও খালি হাতে ফেরেননি স্প্যানিশ কোচ।

সেমিফাইনালের প্রথম লেগে রক্ষণের একটা ছোট্ট ভুলে জয় হাতছাড়া হয়েছিল সবুজ-মেরুনের। দ্বিতীয় লেগে তাই ঝুঁকি নেয়নি সবুজ-মেরুন। সম্পূর্ণ সুস্থ না থাকলেও কলকাতা থেকে ক্লাবকর্তাদের বাড়তি তৎপরতায় তিরির সঙ্গে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে।

ম্যাচের ৩৮ মিনিটে এটিকে মোহনবাগানের গোল যেন প্রথম লেগের অ্যাকশন রিপ্লে। নর্থ ইস্ট রক্ষণের পায়ে জঙ্গল ঠেলে কৃষ্ণার ঠিকানা লেখা পাস খুঁজে নিয়েছিল হরিহরআত্মা ডেভিডকে। গোল করতে ভুল করেননি অজি স্ট্রাইকার। গোলের আনন্দে জুর্গেন ক্লপের কায়দায় দুহাত ছুড়ে লাফ মারতে দেখা গেল বরাবরের নিষ্পৃহ স্প্যানিশ কোচকে। আইএসএল তো বটেই ভারতীয় ফুটবলে যা বিরল দৃশ্য বলাই যায়। আসলে শুরুতে গোল পেতে কতটা মরিয়া ছিল সবুজ-মেরুন, তা পরিষ্কার হাবাসের এই ছক-ভাঙা সেলিব্রেশনে। সেই উৎসবে রঙ ছড়ালেন মানবীর সিং। বিপক্ষ বক্সে দুই ডিফেন্ডারকে জমি ধরিয়ে যে দক্ষতায় দলের দ্বিতীয় গোলটি করলেন, তা বহুদিন স্মৃতিতে টাটকা থেকে যাবে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের।

জয় যখন নিশ্চিত দেখাচ্ছে তখনই গোলহজমের পুরোনো রোগ ফিরল এটিকে মোহনবাগানে। ৭৪ মিনিটে সন্দেশ, তিরিদের দাঁড় করিয়ে ব্যবধান কমালেন ভিপি সুহের। কাঁপুনির সেই শুরু। তবে মাচাডোর পেনাল্টি নষ্টে পরিষ্কার, জয় কপালে ছিল না নর্থ ইস্টের। ম্যাচ শেষে তাই ট্র‌্যাজিক হিরো হয়ে থেকে যেতে হল খালিদ জামিলকে।