কেরালার বিরুদ্ধে জয়ের পর সবুজ-মেরুন শিবিরে এখন ডার্বি ভাবনা

249

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় পাশে থেকে মানসিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করার জন্য মরশুমের প্রথম গোলটা স্ত্রী নাজিয়াকে উত্সর্গ করলেন রয় কৃষ্ণা। দিনের হিসাব কষতে গেলে ১,৪০০ দিন পরে কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে জয় পেলেন প্রীতম কোটাল-প্রবীর দাসরা। যদিও এখন নতুন পরিচয় ক্লাবের তবুও ইয়োলো আর্মির বিরুদ্ধে বারবার হার রীতিমতো দগদগে হয়ে রয়েছে কলকাতার ক্লাবের কাছে। আর গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন হলেও দুই দফাতেই রয় কৃষ্ণারা মাথা নীচু করে ফিরেছিলেন মাঠ থেকে। শুধু তাই নয়, এই ব্লাস্টার্সের কাছে দ্বিতীয় দফায় ঘরের মাঠে হেরে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি খেলার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হয়। স্বাভাবিকভাবেই খুশি গোটা শিবির। একটাই কাঁটা খচখচ করছে, মাইকেল সুসেইরাজের চোট। এদিনও তাঁর চোটের অবস্থা পুরোপুরি পরিষ্কার নয় এমআরআই রিপোর্ট হাতে না আসায়। তবে ডার্বিতে তাঁকে পাওয়া যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যেই প্রথম ম্যাচে গোল পেয়ে সুযোগ নষ্ট নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছেন দলের ফিজিয়ান স্ট্রাইকার। নিজেই বলেছেন, হ্যাটট্রিক করতে পারতাম। সেই সুযোগ হাতছাড়া করার আফসোস রয়েছে। কীভাবে যে সুযোগগুলো নষ্ট করলাম, নিজেই বুঝতে পারছি না। তবে এটা বুঝে গেলাম যে, আরও পরিশ্রম করতে হবে। নিশানা আরও সঠিক করতে হবে। আসলে মাত্র দুই সপ্তাহের অনুশীলনের পরই মাঠে নেমে পড়েছি। অনুশীলনের সময় বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যত সময় যাবে ততই সব কিছু সঠিক হবে বলে আশা করছি। ফিজি থেকে তাঁর গোয়া পৌঁছোতে প্রায় ৪০ দিন লেগে গিয়েছিল। বারবার তাঁকে কোয়ারান্টিনে যেতে হয়েছে আসার পথে। সেই প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, গত দুই মাসের বেশিরভাগ সময়টাই আমার কেটেছে কোয়ারান্টিনে। ওই কঠিন একঘেয়ে সময়ে স্ত্রী নাজিয়া আমাকে নানাভাবে উৎসাহ দিত। একঘেয়েমি কাটানোর নানা উপায় বলে দিত। তাই এদিনের গোলটা ওর জন্য উপহার। এছাড়া আমার পরিবারের বাকিদের কথাও বলতে হবে। রাত দুটোয় উঠে ওরা সবাই খেলা দেখেছে।

কেরালার বিরুদ্ধে জয়ের পরেই গোটা শিবির ঢুকে পড়েছে ডার্বির উত্তেজনার মধ্যে। গত মরশুমে ডার্বির দিন ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়েছিলেন কৃষ্ণা। এই প্রসঙ্গে সবুজ-মেরুন স্ট্রাইকারের মন্তব্য, সেদিন বুঝেছিলাম কলকাতা ডার্বির গুরুত্ব। মাঠের বাইরে এত মানুষ থাকলে ভিতরটাও কল্পনা করতে চেষ্টা করেছিলাম। এবার সমর্থকরা আমাদের সঙ্গে গ্যালারিতে থাকতে পারছেন না। কিন্তু ওঁদের বলব, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পাশে থাকুন। আপনরাই দ্বাদশ ব্যক্তি। জিতে খুশি কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসও। তিনি অবশ্য কেরালা কাঁটা উপড়ে খুশি হয়ে বসে থাকার লোক নন। রবিবার থেকে শুরু করে দেবেন ডার্বির প্রস্তুতি। তারই মধ্যে বলে দিলেন, কেরালা ম্যাচ জিতে অবশ্যই খুশি। কারণ আমরা একটাও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলিনি। পরিকল্পনামাফিক অনুশীলন করানো যায়নি। এসব কারণেই শুরুতে উইলিয়ামসকে যেমন নামাতে পারিনি তেমনি পরে রয়কে তুলে নিতে হয়। লম্বা লিগে এভাবেই এগোতে হবে। এবার ডার্বির জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। হাবাস যে সময় নষ্ট করার লোক নন, তা এতদিনে কলকাতার জানা। তার থেকেও বড় কথা, এবার তিনি লড়বেন, সম্পূর্ণ আনকোরা এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।

- Advertisement -