ডার্বির আগে আত্মতুষ্ট নন মার্সেলিনহো-কৃষ্ণারা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : প্রথম দফায় বিরতির পরে তিনি একাই শেষ করে দেন এসসি ইস্টবেঙ্গলের যাবতীয় প্রতিরোধ। এবার সেই রয় কৃষ্ণার সঙ্গে আবার যোগ হয়েছেন মার্সেলিনহো লেইতে পেরেরা। ফিজি-ব্রাজিল যোগে এখন মেরিনার্সরা প্রায় বাহুবলির সমান। আর এদের সংগত করতে আছেন মানবীর সিং, ডেভিড উইলিয়ামস, জাভি হার্নান্ডেজরা।

 

- Advertisement -

স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসী কৃষ্ণা-মার্সেলিনহো জুটি। তাঁদের দাপটে লিগ শীর্ষে থেকে ডার্বি খেলতে নামছে দল। তবে এই আত্মবিশ্বাসকে আত্মতুষ্টিতে পরিণত হতে দিতে রাজি নন। বরং বাগানের সেরা তারকা পরিষ্কার বলে দেন, লিগ শীর্ষে আছি বলে একেবারেই আত্মতুষ্ট হচ্ছি না। আমাদের কাছে এখন ডার্বিসহ সব ম্যাচই ফাইনাল। একটা ফাইনাল খেলতে নামছি, এটা মাথায় রেখেই আমাদের শুক্রবারের ডার্বিতে মাঠে নামতে হবে। বিশেষ করে এসসি ইস্টবেঙ্গলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকাটা জরুরি। আমাদের একেবারে সেরা প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

মার্সেলিনহো এই প্রথম পাবেন কলকাতা ডার্বির উত্তেজনার আঁচ। তবে লম্বা সময় ধরে এদেশে খেলার সুবাদে মোহন-ইস্টের এই যুদ্ধের খবর তাঁর জানা। তাই এটাও বুঝতে পারছেন, এই ম্যাচে গোল করতে পারলে সমর্থকরা তাঁকে মাথায় করে রাখবেন। এমনিতেই ওডিশা থেকে দলে যোগ দেওয়ার পরে ইতিমধ্যেই তিন ম্যাচে ২ গোল করে ফেলেছেন তিনি। বিশেষ করে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে তাঁর ফ্রি কিক থেকে করা গোল নিয়ে উচ্ছ্বসিত সকলেই। যেভাবে গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মতো গোলরক্ষককে নড়তে না দিয়ে বল গোলে চলে যায়, তাতে তিনি যে নিজের সেরা সময়কে একেবারে পিছনে ফেলে আসেননি এটা পরিষ্কার।

মার্সেলিনহো এই ম্যাচ প্রসঙ্গে বলেন, এর আগে এই ম্যাচ না খেললেও কলকাতা ডার্বি নিয়ে সমর্থকদের আবেগ ও প্রত্যাশার কথা জানা রয়েছে। টেলিভিশনে দেখেছি, ম্যাচটার সময়ে গ্যালারি কীরকম রঙিন ও উদ্দীপনার উপরকরণ নিয়ে হাজির থাকে। এর আগে অন্যান্য দেশে কিছু ডার্বি খেলেছি। যেমন গ্রীসের ক্লাবের বিরুদ্ধে তুরস্কের ক্লাবের ধুন্ধুমার লড়াইয়ে শামিল থেকেছি। তাই বুঝতে পারছি, এই ডার্বির গুরুত্ব কতটা।

তাঁর কাছে ইতিমধ্যেই গোলের আবদার আসতে শুরু করেছে সমর্থকদের কাছে থেকে। তিনি বলেন, সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছ থেকে নিয়মিত প্রচুর মেসেজ পাচ্ছি। সকলেই গোলের আবদার করছেন। আমি নিজেও চাই এই ম্যাচে গোল করার চ্যালেঞ্জ নিতে। তবে তার আগে দলের জয় চাই। সতীর্থরাও বলছে, এই ম্যাচে গোল করা এবং জয়ের আনন্দই আলাদা।

মার্সেলিনহো এখনও দলে নতুন হলেও রয় কৃষ্ণা জানেন, তাঁর বাড়তি দায়িত্বের কথা। একইভাবে প্রথম দফায় য়ে এসসি ইস্টবেঙ্গলকে তাঁরা পেয়েছিলেন, তার সঙ্গে এখনকার দলটার আকাশ পাতাল তফাৎ এটাও বোঝেন। তাই গোল পাওয়া যে সহজ হবে না সেটাও বুঝতে পারছেন কৃষ্ণা।

আর তাই ম্যাচ প্রসঙ্গে তাঁর বিশ্লেষণ, প্রথম পর্বে যখন এসসি ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হয়েছিলাম, তখনকার সঙ্গে এই দলটার অনেক পার্থক্য। অন্য অনেক দলের মতো ওরাও নিজেদের বদলে ফেলেছে। জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে বেশ কিছু ফুটবলার নেওয়ায় ওদের শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে শেষ কয়েটা ম্যাচে ওদের রক্ষণ দারুন খেলেছে। তাই ওদের বিরুদ্ধে গোল পাওয়া এখন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। তবে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কথা ভেবে আমাদের এই বাধা টপকাতেই হবে।