মাথা ঠান্ডা রাখাই চ্যালেঞ্জ মেরিনার্সদের

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : জয়ের খুব কাছ থেকে পয়েন্ট খোয়ানো। তারও আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দোরগোড়া থেকে ফিরে আসা। কিছুতেই যেন ছুঁয়ে ছোঁয়া হচ্ছে না কাঙ্খিত সাফল্যকে।

বরং পরপর ঘটনাগুলো যেন বড্ড বেশি করে দূর্ভাগ্যের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে সবুজ মেরুন শিবিরের জন্য। তবে এটাকেই আবা পালটা হাতিয়ার করতে উদ্যোগী কোচ থেকে ফুটবলার, ক্লাব কর্তা থেকে দলের সঙ্গে থাকা কর্ণধারের কাছের মানুষজনেরা। এদিন যেমন ফুটবল দলের অন্যতম ডিরেক্টর বলেই ফেললেন, এটা একদিক থেকে বলতে পারেন ভালোই হয়েছে। কারণ মুম্বই ম্যাচের আগে ফুটবলারদের মধ্যে ওই ড্র করলেই চলবে, এমন একটা মনোভাব তৈরি হয়ে গিয়েছিল। আবার যদি নর্থ ইস্টের বিরুদ্ধে ১ গোলে জিতে যেতাম তখনও আত্মতুষ্টি আসত না কে বলতে পারে? আত্মতুষ্টির সত্যিই আর কোনও জায়গা নেই।

- Advertisement -

এবার আইএসএলে অ্যাওয়ে গোলের নিয়ম নেই। তাই সরাসরি জিততে হবে ম্যাচ। ড্র থাকলে অতিরিক্ত সময় ও পেনাল্টি শুট আউটের মাধ্যমে ফয়সালা হবে। সেসব একেবারেই চাইছেন না কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তবে জিততেই হবে, এই চাপটাও যাতে তৈরি না হয় তাই ঠান্ডা মাথায় খেলা পরামর্শ দিচ্ছেন ছেলেদের। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, দলের এখন একমাত্র পরিকল্পনা হল, ঠান্ডা মাথায় খেলা। ম্যাচের গতি, তীব্রতা ও উদ্যম ধরে রেখে জয় তুলে নিতে হবে। তবে ফাইনালে যাওয়া জন্য সবথেকে জরুরি হল মাথা ঠান্ডা রাখা। তিনি একথাও পরিষ্কার করে দেন যে, তবে আমাদের কোনও চাপ নেই। এরকম সুযোগ একবারই আসবে, এটা ফুটবলাররা জানে। তাই ফাইনালে যাওয়ার এই সুযোগটাকে উপভোগ করতে হবে। ফাইনালে যেতে গেলে এই ম্যাচে নিজের সেরাটা দিতে হবে। চাপ নিয়ে যে বিশেষ লাভও নেই, সেকথাও জানেন তিনি।

সন্দেশ ঝিঙ্ঘান এবং এডু গার্সিয়াকে হারিয়ে তিনি অনেকটাই নিধিরাম সর্দারের মতো হয়ে পড়েছেন। একদিকে যেমন ডিফেন্সে নেতত্ব দেওয়ার লোক নেই, তেমনি থাকছে না রয় কৃষ্ণা, ডেভিড উইলিয়ামদের বল বাড়ানোর বা সেট পিস নেওয়ার লোকও। এই ম্যাচে হয়ত ফিরছেন তিরি কিন্তু তাঁর ফর্মে অসম্ভব অখুশি কোচ থেকে কর্তা, সকলেই। এটিকে মোহনবাগান ফাইনালে উঠলে, ওই পর্যন্তই হয়ত মেয়াদ এই স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের। তাঁকে বদলের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। এক কর্তা জানালেন, এএফসি কাপে খেলার আগে আমরা আগে ডিফেন্সটাকে নিশ্ছিদ্র করতে চাই। তিরির সঙ্গে যে চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ছে না, এমন আভাসও পাওয়া গেল।

টানা ১০ ম্যাচ অপরাজিত নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড। ডিফেন্স সংগঠনটা যে ভালোই করেন খালিদ জামিল, এটা না বোঝার মতো বোকা হাবাস নন। ফুটবল বুদ্ধিতেও যে যথেষ্টই ধুরন্ধর খালিদ, সেটাও ইতিমধ্যেই প্রমানিত। হাবাস যখন চাপ না থাকার কথা বলছেন তখন যাঁর কিছুই হারানোর নেই সেই খালিদ আবার জানাচ্ছেন তাঁরা চাপের সাগরে আছেন। মুম্বইকরের মন্তব্য, প্রচন্ড চাপে আছি। এটা তো মরন-বাঁচন ম্যাচ। গোল করতে না পারলে আবার ৩০ মিনিট খেলতে হবে। এটাও কি কম ঝামেলার! তবে ঠান্ডা মাথার খালিদ মুখে যেটা বলছেন, আদতে যে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন সম্পূর্ণ অন্য কায়দায়, এটা বুঝেই বোধহয় বেশি চিন্তিত সবুজ-মেরুন শিবির।