সবুজ-মেরুনকে প্রেম দিবসে উপহার কৃষ্ণার

সুমন্ত চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা : ইনস্টাগ্রামে তাঁর পেজে এখনও জ্বলজ্বল করছে তাজা গোলাপের ছবি। সংখ্যায় তা অগুন্তি। ভ্যালেন্টাইন সানডেতে এটিকে মোহনবাগানে অবশ্য একটাই গোলাপ চোখে পড়ার মতো। তিনি রয় কৃষ্ণা। রবিবারও তিনিই পরিত্রাতা সবুজ-মেরুনের। তার গোলে জয়ের পাশাপাশি লিগ শীর্ষে উটে এল এটিকে মোহনবাগান। সঙ্গে বাড়িয়ে নিল ডার্বির আগে জয়ের আত্মবিশ্বাস।

 

- Advertisement -

গোলের রাস্তা খুঁজে না পাওয়া দিশেহারা সবুজ-মেরুনে তিনিই পরিত্রাতা এমন দৃশ্য নতুন নয়। রবিবার ৮৫ মিনিটে ফিরল সেই কৃষ্ণাজাদু। তাঁর নিখুঁত শট জালে জড়াতেই খুশির ঢেউ খেলে গেল এটিকে মোহনবাগানে।

মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে বরাবর প্রতিপক্ষ শিবিরকে নাকানিচোবানি খাওয়ানো হাবাসের ট্রেডমার্ক। সেই চেনাদৃশ্যের ব্যতিক্রম ওয়েন কোলের সঙ্গে তাঁর দ্বৈরথ। গত মরশুমে চেন্নাইয়ানের কোচ হিসেবে লিগের মাঝপথে আবির্ভাব হয়েছিল ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স, উইগান অ্যাথলেটিকের প্রাক্তন প্রশিক্ষকের। কলকাতায় এসে হাবাসকে পাল্টা চালে কিস্তিমাত করে চমকে দিয়েছিলেন কোল। সেটাও গতবছরের এক মাঝ ফেব্রুয়ারিতে।

মধুর প্রতিশোধটা টুর্নামেন্টের ফাইনালে তুলে নিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। তারপর থেকে যখনই মুখোমুখি হয়েছেন লড়াই জমেছে দুই যুযুধান কোচের দ্বৈরথে। রবিবার ফতোরদায় মুখোমুখি সাক্ষাতের আগে হাবাসের বিরুদ্ধে জয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিলেন ওয়েন। কেন? তা মাঠের লড়াইয়ে বুঝিয়ে দিলেন ৫৪ বছরের ব্রিটিশ কোচ।

গত তিন ম্যাচে ৯ গোল করেছিল রয় কৃষ্ণা-মার্সেলিনহো সমৃদ্ধ এটিকে মোহনবাগানের আক্রমণভাগ। ভ্যালেন্টাইন ডেতে তাঁদের পা থেকে গোলবন্যা দেখার প্রত্যাশা নিয়ে খেলায় চোখ রেখেছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। কিন্তু  সে আশা পূরণ হল কই! বরং হাবাসের যন্ত্রণাক্লীষ্ট মুখের পাশে বারবার নজর কাড়ল কোলের কোচিং কেরামতি।

সাত ম্যাচ গোল না পাওয়া ভালস্কিসকে বাইরে রেখে এদিন দল নামিয়েছিলেন জামশেদপুর কোচ। লক্ষ্য ছিল মাঝমাঠ দখল। সবুজ-মেরুনের যাবতীয় আক্রমণের শুরুটা হয় কার্ল ম্যাকহিউজ, লেনি রডরিগেজের পা থেকে। শুরু থেকে এইটর মনরয়, আলেজান্দ্রে লিমাদের ব্যবহার করে সেই সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন রেড মিনারের কোচ। লক্ষ্যে সফল তিনি। গোলের পাস না পেয়ে বারবার মাঝমাঠে নেমে আসতে বাধ্য হলেন কৃষ্ণা, ডেভিডরা। পাশাপাশি জামশেদপুরের হাইলাইন ডিফেন্সের সৌজন্যে অফসাইডের ফাঁদে আটকে গেল মার্সেলিনহোদের যাবতীয় কারিকুরি।

দ্বিতীয়ার্ধে গোলের রাস্তা খুঁজে পেতে প্ল্যান বিতে চলে গিয়েছিলেন হাবাস। জাভি, প্রণয় হালদারদের নামিযে দিয়েছিলেন স্প্যানিশ কোচ। তবে কাজের কাজটি করলেন সেই কৃষ্ণা। চলতি আইএসএলে ১৩টি গোল হয়ে গেল ফিজির তারকার। প্লে অফ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় ভ্যালেন্টাইন সানডেতে হাবাসের দলের সামনে লক্ষ্য ছিল দুটি। জিতে মুম্বই সিটিকে টপকে লিগশীর্ষে উঠে আসা আর অপরটি ডার্বির আগে জয়ের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা। দুইক্ষেত্রে এদিন সফল হাবাসের সবুজ-মেরুন। ভ্যালেন্টাইন ডেতে এর থেকে আর ভালো কি উপহার হতে পারে সমর্থকদের জন্য!