জয় চান হাবাস, লোবেরার মাথায় নেই প্রথম দফা

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : কেরালা ব্লাস্টার্স ছেড়ে আসা কোচ কিবু ভিকুনা বান্ধবী কাসিয়া বিয়েকে নিয়ে এদিন রাতেই কলকাতা থেকে ছুটি কাটাতে চলে গেলেন মালদ্বীপে। যাওয়ার আগে মরশুম শুরুর সময়ে তিন ফুটবলার তিরি, সন্দেশ ঝিঙ্ঘান ও বার্তেলোমিউ ওগবেচের দল ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে দুঃখের সঙ্গে জানালেন, এই তিনজনকেই দেখুন, আজ চ্যাম্পিয়নশিপে থাকা দুটো দলের স্তম্ভ। অথচ ওরা কিন্তু আমার চুক্তিবদ্ধ ফুটবলার ছিল।

তিনিই ঠিক। সন্দেশ, তিরি, ওগবেচেরা যখন লিগ-শিল্ড জেতার জন্য রবিবাসরীয় রাতে একে অন্যের চোখে চোখ রেখে লড়বেন, তখন চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়ে অনেক দূরে প্রাক্তন মোহনবাগান কোচ। এই করোনা আবহে টানা সাড়ে চার মাসের লড়াইয়ে শেষ পর্যায়টা যে এতটা উত্তেজক হবে, সেটা বোধহয় অতি বড় ফুটবল ভক্তও শুরুতে আঁচ করতে পারেননি। তবে একটা বিষয় বোধহয় শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল। লড়াইটা আদতে দুটো দলের মধ্যে। এটিকে মোহনবাগান বনাম মুম্বই সিটি এফসি। ধারেভারে আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ও সের্জিও লোবেরার দল বাকিদের থেকে এতটাই এগিয়েছিল যে, দেওয়াল লিখনটা পড়তে কোনও সমস্যা হয়নি। তবে এই রোলার কোস্টার রাইডে কিন্তু বেশিরভাগ সময়ে ওপরের দিকে থেকেছে মুম্বই সিটি এফসি। সেখান থেকে যে এভাবে হঠাৎ করে কার্ল লিউইসের গতিতে পিছন থেকে শেষ ল্যাপে এসে মেরিনার্সরা ফিনিশিং পয়েন্টের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, সেটা সবুজ-মেরুন সমর্থকরাও বোধহয় আশা করেননি।

- Advertisement -

আপাতত পরিষ্কার ৩ পযে্টে এগিয়ে রয় কৃষ্ণারা। অর্থাত্ শেষ ম্যাচে মেরিনার্সদের না জিতলেও চলবে। দরকার মাত্র একটা ড্র। তবে এই জায়গায় প্রায় সব দলই সতর্ক থাকে। কারণ, এই ড্রয়ের খেলাটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বহু দল খেলতে গিয়ে ডুবেছে। যা মাথায় রাখবেন হাবাসের মতো ধুরন্ধর কোচ। বিশেষ করে প্রথম দফায় ম্যাচের শেষদিকে এসে ওগবেচের গোলে হারের ঘা-টা এখনও তাঁর কাছে দগদগে। সম্ভবত সেই কারণেই বলে ফেলেছেন, আমাদের ড্রয়ের কথা মাথায় রাখলে একেবারেই চলবে না, জয়ের জন্য ঝাঁপাতে হবে। কারণ এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলতে নামছি যাদের অ্যাটাকিং লাইন অসম্ভব ভালো। তবে বাকি সব ম্যাচের মতোই খেলতে নামতে হবে। অর্থাৎ তিনি যেটা উহ্য রাখলেন, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে বিপদ বাড়বে। যা হাবাস চাইছেন না।

সেখানে রণবীর কাপুরের দল যেন খরগোশ আর কচ্ছপের গল্পকে মনে করিয়ে দিয়েছে। শুরুতে প্রবল দৌড়ে বোধহয় তাদের মনে হয়েছিল, বাকিরা এত পিছনে যে, একটু বিশ্রাম নেওয়া যায়। মানবীর সিং, প্রীতম কোটালরা এখান থেকেই যেন লিগটা নিজেদের পকেটে পুরে নেওয়ার কাজ শুরু করে দেন। বাগানের টানা ৬ ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি মুম্বই সিটি এফসি জানুয়ারি থেকে বারবারই মুখ থুবড়ে পড়েছে। প্রয়োজনের সময়ে যে মোরতাদা ফল সমৃদ্ধ ডিফেন্সকে চিনের প্রাচীরের মতো লাগছিল, তারাই বেঙ্গালুরু, নর্থ ইস্টের মতো দলগুলির বিরুদ্ধে বালখিল্যের মতো গোল খেয়েছে। শেষমেশ আগের ম্যাচে ওডিশাকে ৬ গোল দিয়ে যেন নিজেদের মানরক্ষা করেছেন লি ফন্ড্রে-ওগবেচেরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই লোবেরা এদিন বলেন, প্রথম দফার সঙ্গে এখনকার আকাশ-পাতাল তফাত। সেবার ৩ পয়েন্ট পেলেও এটায় অন্য খেলা হবে। কারণ, এটা ফাইনাল ম্যাচ। ম্যাচটা জিততে চাই। কিন্তু আগের যেসব ম্যাচ আমরা জিতেছি, এটা কিন্তু তার মতো একেবারেই নয়।

আদতে ফাইনালের আগের এই সম্মানের ফাইনালটা দুই দল জিতে এশিয়ার সামনে নিজেদের মেলে ধরতে চাইছে। ১০ ম্যাচ ক্লিন শিট রাখা বাগান ডিফেন্স কতটা শক্তিশালী সেটা বুঝেই লোবেরার মন্তব্য, ওদের ডিফেন্স অসাধারণ, আবার ওদের আক্রমণও কিন্তু কম নয়। আসলে অসম্ভব ভারসাম্য রয়েছে দলটার মধ্যে। এই ম্যাচে প্রচুর গোল করার সুযোগ পাওয়া যাবে না। যা আসবে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে জিততে হবে।

মুম্বইয়ে স্ট্রাইকিং লাইন অবশ্য গর্বিত হতেই পারে। ৩৩ গোল ইতিমধ্যে করে ফেলাও কম কথা নয়। ওগবেচে-লি ফন্ড্রে যেমন চাইবেন দলকে জিতিয়ে সেরার শিরোপা পেতে তেমনি কিন্তু ওঁত পেতে অপেক্ষায় বাগান স্ট্রাইকিং লাইনও। ঐতিহ্যের সবুজ-মেরুন জার্সিকে এশিয়ার দরবারে নিয়ে যেতে পারলে তাঁকে যে মাথায় করে রাখবেন মোহন জনতা, সেই কথা জানা কৃষ্ণা-হাবাস জুটির।