মুম্বইয়ের কাছে হার, প্রথম দফায় দ্বিতীয়ই মেরিনার্সরা

95

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : সবে ওগবেচেকে তুলে নেওয়ার জন্য ফন্ড্রেকে ওয়ার্ম আপ করাচ্ছেন লোবেরা। গার্সিয়ার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া বলটা থেকে কাউন্টার অ্যাটাক এবং হুগো বৌমাসের ছোট্ট মাইনাস এবং ওগবেচের শটটা গোলার মতো দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে আছড়ে পড়লো এটিকে মোহনবাগানের গোলে। নিজের কাজটা করে দিয়ে অবশ্য ফন্ড্রেকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে মাঠ ছেড়ে বেড়িয়ে গেলেন তিনি। একের বিরুদ্ধে দুইয়ের লড়াইয়ে শীর্ষেই থাকল মুম্বই সিটি এফসি।

ব্লকবাস্টার ফিল্মের মতো ম্যাচটা সম্ভবত মাল্টিস্টারারও ছিল। দুই তরফেই কোচেদের কাছেই এক সমস্যা। কাকে বসিয়ে কাকে মাঠে নামাবেন। মাল্টিস্টারার ছবিতে কোন তারকাকে বেশি জায়গা দেবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা পরিচালকের মতো। যার জেরে এদিন প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়তে হয় দুই দলের দুই অন্যতম সেরা ফুটবলারকে। অ্যাডাম লি ফন্ড্রের জায়গায় শুরু থেকে নামেন বার্তেলোমিউ ওগবেচে ও অন্যদিকে কার্ল ম্যাকহিউকে বাদ দিয়ে জাভি হার্নান্ডেজকে নামান হাবাস। স্প্যানিশ মিডিও নিজের কাজটা করার চেষ্টা করতে চেয়েছেন যথাসাধ্য কিন্তু পাশে গ্লেন মার্টিন্সকে নিয়ে সমস্যা হচ্ছিল। উলটোদিকে আহমেদ জোহাউ-এর না থাকাটা নজরেই পড়েনি মুম্বই সিটি এফসির গোটা দলটারই গভীরতা থাকায়। আসলে গোটা দায়িত্বটা একার কাঁধে নিয়ে নেন হুগো। মুম্বইয়ের ওজন এত বেশি যে সব বিভাগেই তারা কয়েকশো মাইল এগিয়ে থেকেছে। ১১ মিনিটে প্রথম সুযোগ তাদেরই। ডানদিক থেকে গডার্ডের তোলা বলে ওগবেচের শটটা কোনওক্রমে অরিন্দম বার করলে ফের তা বিপিন সিং ঠেলার চেষ্টা করলে শুয়ে পড়ে নিজের শরীর দিয়ে আটকে নিশ্চিত পতন রোধ করেন তিনি। ৭৩ মিনিটে ফন্ড্রে একের বিরুদ্ধে একের লড়াইে হার মানাতে পারেননি অরিন্দমকে।

- Advertisement -

আসলে মুম্বই ঝোড়ো গতিতে শুরু করে ম্যাচ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয়। একমাত্র কৃষ্ণা ছাড়া বাকি দলটা প্রায় বেশিরভাগ সময়টা নিজেদের অর্ধেই খেলে গেল সেই চাপের কাছে মাথা নুইয়ে। এতটাই খারাপ পরিস্থিতি হয় যে জলপানের বিরতিতে কপালে টোকা মেরে বুদ্ধি বার করতে চাইছেন হাবাস, এমন দৃশ্যও টেলিভিশনের পর্দায় ধরা পড়েছে। তবে প্রথমার্ধে মুম্বই গোল না পাওয়ার জন্য কিন্তু সবুজ মেরুন ডিফেন্সকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। প্রকৃতর্থেই যেন এই সময়টা মুম্বই আক্রমন বনাম বাগান ডিফেন্সের লড়াই হয়েছে। আসলে দুই বিশালদেহী সেন্টার ব্যাক হেরনান সানতানা ও মোরতাদা ফলের মাঝখান থেকে একা রয় কৃষ্ণার পক্ষে ফাঁক বার করা কঠিন ছিল। উইলিয়ামস পুরো ফিট নন। ফলে কৃষ্ণা মানবীর ও তাঁর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য খুব পাননি। এডু গার্সিয়ার পায়ে বাড়তি বল রাখার চেষ্টা, খেলাটাকে নষ্ট করেছে অনেকসময়ে। বিরতির পরে প্রণয় এবং প্রবীর জোড়া পরিবর্তনে কিন্তু পরিস্থিতির কিছুটা হলেও বদল হয়। বিশেষকরে মানবীর যেটা পারছিলেন না প্রবীর সেই ডানদিকটা সচল করলেন। আত্মবিশ্বাস এল উইলিয়ামসেরও। আর তার জেরেই পরপর দুটো সুযোগ। ৫৮ মিনিটে প্রণয়ের বাড়ানো থ্রু থেকে এডু গার্সিয়ার দূর্দান্ত শটটা পোস্টে লাগা অবশ্যই দুঃখজনক মেরিনার্সদের জন্য। কারণ এরকম একটা ম্যাচে এসব সুযোগই পার্থক্য গড়ে দেয়। ৮২ মিনিটে উইলিয়ামসের বাঁ পায়ের শট গোলে যায়নি ফল সময়মতো হেডে ক্লিয়ার করায়। তেমনি সংযুক্ত সময়ে তিরির হেডও একটু এদিক ওদিক হলে এক পয়েন্ট আসত। ওপেন ফুটবলে এই পর্বে প্রচুর সুযোগ পেয়েছিল মুম্বইও। তবে গোল বাড়েনি। গোল করে সেরা ওগবেচেই হলেন।