একবছর ধরে এটিএম বন্ধ নকশালবাড়িতে, বিপাকে স্থানীয়রা

253

নকশালবাড়ি : একবছর ধরে নকশালবাড়ির একমাত্র সেন্ট্রাল ব্যাংকের এটিএমের ঝাঁপ বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও আশপাশের চা বাগানের শ্রমিকরা বিপাকে পড়েছেন। চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। রাতবিরেতে জরুরি প্রয়োজনে এটিএম থেকে টাকা তুলতে পারছেন না গ্রাহকরা। স্থানীয় এসএসবি জওয়ানরাও সমস্যায় পড়েছেন। অভিযোগ, বিষয়টি বারবার ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনও কাজ হচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের ক্ষোভ বাড়ছে।

নকশালবাড়ি বাজার এলাকার পুরোনো ব্যাংক হওয়ায় এই সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রতিদিন ভিড় লেগে থাকে। ১৪টি চা বাগান, পাঁচটি এসএসবি ক্যাম্প, হাতিঘিসা, মণিরাম, নকশালবাড়ি, পানিট্যাঙ্কি বাজার সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ এই ব্যাংকের উপর নির্ভরশীল। স্থানীয় শিক্ষক নির্জল দে বলেন, এক বছর ধরে ব্যাংকের এটিএম বন্ধ রয়েছে। নকশালবাড়ি এলাকার বেশিরভাগ চাকরিজীবী এই ব্যাংকের গ্রাহক। এটিএম বন্ধ থাকায় আমাদের ব্যাংকে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অন্য ব্যাংকের এটিএমে গেলে অতিরিক্ত চার্জ কাটা হচ্ছে।

- Advertisement -

স্থানীয় সিটু নেতা গৌতম ঘোষ বলেন, চা বাগান মালিকরা কেন্দ্রীয় সরকারের টিডিএসের ভয়ে শ্রমিক ও কর্মচারীদের সাপ্তাহিক বেতন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিচ্ছেন। কিন্তু নকশালবাড়ি এলাকায় ব্যাংকিং পরিষেবা বারবার বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকরা তাঁদের মজুরির জন্য দীর্ঘক্ষণ ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় টাকা পাচ্ছেন না। আমরা দ্রুত ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং পরিষেবা চালু রাখার দাবিতে আন্দোলনে নামব। পানিট্যাঙ্কি ব্যবসাযী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী বলেন, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এখানে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। কিন্তু নকশালবাড়িতে এটিএম পরিষেবা বন্ধ থাকায় টাকার দরকার পড়লে ব্যবসায়ীদের শিলিগুড়িতে যেতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসা মার খাচ্ছে। সেন্ট্রাল ব্যাংকের নকশালবাড়ি শাখার ম্যানেজার সন্তোষ পান্ডে বলেন, আমাদের শাখায় প্রায় ৫৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সমস্যার বিষয়টি বুঝতে পারছে না। তাই এটিএম চালু করতে দেরি হচ্ছে। তবে এপ্রিল মাসের শেষের দিকে নতুন মেশিন বসিয়ে এটিএম চালু করা হবে।