দলত্যাগী সুনীল মণ্ডলের উপর ‘হামলা’, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে ধুন্ধুমার হেস্টিংস

232

কলকাতা: ফের বিজেপি‌র হেস্টিংস অফিসে উত্তেজনা দেখা দিল। শনিবার ঘাসফুল ছেড়ে সদ্য পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদ সুনীল মণ্ডলকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ। এমনকী কালো পতাকাও দেখান সহ সাংসদের গাড়ির বনেটের উপরেও হামলা চালানো হয় বলেও অভিযোগ। তৃণমূল কর্মীরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে সাংসদের গাড়ি আটকানোয় পুলিশের সামনেই তাদের সঙ্গে বিজেপিকর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বাধা দিতে গেলে শাসকদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

এদিন হেস্টিংসে বিজেপি অফিসে একটি বৈঠক রয়েছে। বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, ‘তৃণমূলের ক্ষমতা দখল করে রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতা। তাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। পুলিশ আগে দলদাস ছিল। এখন তাদের একাংশ ক্রীতদাসে পরিণত হয়েছে।‘

- Advertisement -

জয়প্রকাশবাবু এদিন আরও বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, গোটা রাজ্যেই পুলিশ আর গুণ্ডা দিয়ে ক্ষমতা হাতে রাখতে চাইছে তৃণমূল। লোভ আর ক্ষোভই এখন তৃণমূলের পরিচয়। আমাদের সর্বভারতীয় নেতা জে পি নাড্ডার কনভয়ে যেভাবে পাথর মারা হয়েছিল, অভাবনীয়। তবে এভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গণতন্ত্রের যে শ্বাসরোধ করতে চাইছে, তা করা যায় না।’

পাশাপাশি, অর্জুন সিং বলেন, ‘ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এর থেকে বড় নোংরামি আর হয় না। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ের সামনে এসব কী করে হয়? পুলিশ দলদাস হয়ে বসে আসে। মানুষের সময় খারাপ হলে বিবেক নষ্ট হয়ে যায়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী কালীঘাটের বাড়িতে ঢুকতে পারবে তো।’‌

অন্যদিকে, এদিনের ঘটনার পর তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘ঘটনাটি প্রত্যক্ষভাবে জানি না। তবে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। একটা লোক তৃণমূলের টিকিটে দু’বার জিতে পার্টি ছেড়ে দিচ্ছে, এটা লোকে মেনে নিতে পারছে না। দলত্যাগ বিরোধী আইন ভঙ্গ করেছে সুনীল মণ্ডল। পার্টি ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’