নয়াদিল্লি, ১৬ ফেব্রুয়ারি : মুখ খুললেই দেশদ্রোহী, গদ্দার, পাকিস্তানি বলে ভিন্নমতাবলম্বীদের আক্রমণ করাটা প্রায় রেওয়াজে পরিণত করে ফেলেছেন বিজেপির নেতামন্ত্রীরা।  কিন্তু ভিন্নমত ছাড়া যে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না সেটা বেমালুম ভুলে গিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের উদ্দেশ্যে এবার বার্তা দিয়ে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় জানিয়ে দিলেন, ভিন্নমত হল গণতন্ত্রের সেফটি ভালভ। তার গায়ে যদি সরাসরি দেশবিরোধী বা গণতন্ত্র বিরোধীর তকমা সেঁটে দেওয়া হয়, তাহলে তা সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং গণতন্ত্রের বুকে আঘাত করে। শনিবার আমেদাবাদের একটি আলোচনাসভায় বিচারপতি চন্দ্রচূড় জানান, ভিন্নমতকে দাবিয়ে রাখার অর্থ বহুত্ববাদের বিপদ বাড়িয়ে তোলা। বিরুদ্ধ মত সে জনপ্রিয় হোক কিংবা না হোক, তাকেও যদি দাবিয়ে রাখা হয় তাহলে বহুত্ববাদ আঘাতপ্রাপ্ত হয়। কোনোরকম ভয় ছাড়া যাতে সবাই নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারাটাই গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা।

শুধু বিচারপতি চন্দ্রচূড় নন, সিএএ-র বিরুদ্ধে যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তাঁদের দেশদ্রোহী বলতে রাজি নয় বম্বে হাইকোর্টের ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চও। হাইকোর্টের বিচারপতি টিভি নালাভারে এবং বিচারপতি এমজি সেওয়ালিকারের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমেই ভারত স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। অহিংস আন্দোলনকে আজও ভারতের মানুষ মেনে চলেন। আমাদের মাথায় রাখা উচিত, ভারত একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এবং ভারতের সংবিধান আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসনের বদলে আইনের শাসন দিয়েছে।বীড় জেলার মাজালগাঁওয়ের পুরোনো ইদগা ময়দানে সিএএ বিরোধীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বসার অনুমতি দিতে গিযে হাইকোর্ট বলেছে, সিএএ-র বিরুদ্ধে মুসলিমদের মতো কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের হয়তো মনে হয়েছে, তা তাঁদের স্বার্থবিরোধী এবং সেকারণেই তাঁরা ওই আইনের বিরোধিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। বিচারপতিরা বলেন, যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করতে চান, তাঁরা একটি আইনের এবং দেশের সরকারের বিরোধিতা করছেন বলেই তাঁদের দেশদ্রোহী কিংবা দেশবিরোধী বলা যায় না। সিএএ-প্রতিবাদীদের বাধা দিয়ে বীড় জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ যে নির্দেশ দিয়েছিল তাও খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে এটা দুর্ভাগ্যজনক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু শুধুমাত্র সেই কারণে আন্দোলন দমন করা যায় না।