ঝোরা বিক্রির চেষ্টা, উৎসমুখের গার্ডওয়াল ভাঙলেন কৃষকরা

237

রাঙ্গালিবাজনাঝোরা দখল করে তাতে মাটি ভরাট করে বিক্রির চেষ্টা চলছিল। মাটি ফেলার আগে ঝোরার উৎসমুখে গার্ডওয়াল দেওয়ার ফলে ঝোরায় জল মিলছিল না। সেচের সমস্যায় পড়ে চার-পাঁচটি গ্রামের কৃষকরা রবিবার এককাট্টা হয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের সামনেই ওই গার্ডওয়াল ভেঙে দিলেন। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের উত্তর শিশুবাড়ির ভগতপাড়ায় রবিবার এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

এলাকার কৃষকরা জানান, এবার চাঁদা তুলে আর্থমুভার দিয়ে ওই ঝোরাটি খনন করবেন তাঁরা। খননের কাজ শুরু হবে বুধবার। চার-পাঁচটি গ্রামের কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গতিপথ সাফাই না করানোয় মজে যেতে বসেছে ঝোরাটি। রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। তার ওপর ঝোরা দখল করে বিক্রির চেষ্টা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

রবিবার রাঙ্গালিবাজনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর শিশুবাড়ির সদস্যা নিলীমা কার্জি, দক্ষিণ শিশুবাড়ির পঞ্চায়েত সদস্য লেবনুস ওরাওঁয়ের উপস্থিতিতেই ঝোরার উৎসমুখের গার্ডওয়াল ভেঙে দেন নবীপুরের সাইদুল ইসলাম, মকবুল হোসেন, কড়াইবাড়ির ধনীরাম ওরাওঁ সহ অনেকেই।

স্থানীয়রা জানান, ওই দু’টি ঝোরার ওপর নির্ভরশীল মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের উত্তর শিশুবাড়ি, দক্ষিণ শিশুবাড়ি, দক্ষিণ রাঙ্গালিবাজনা, ফালাকাটার কড়াইবাড়ি ও ধুলাগাঁওয়ের প্রায় দেড় হাজার কৃষক। ঝোরার নাব্যতা কমে যাওয়ায় আগের তুলনায় কম জল মেলে এলাকায়। তার ওপর উৎসমুখে গার্ডওয়াল দেওয়ায় ঝোরার খাতটি প্রায় শুকিয়ে গিয়েছিল।

উত্তর শিশুবাড়ির গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা নিলীমা কার্জি বলেন, ‘বেআইনিভাবে ঝোরার উৎসমুখে গার্ডওয়াল দেওয়ার ফলে কৃষকদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই ওঁরা গার্ডওয়াল ভেঙে দিয়েছেন। তবে গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে যাতে ঝোরার গতিপথ খনন করা হয় সেই চেষ্টা করা হবে।’