মাদ্রাসা থেকে সরকারি বই-খাতা বাইরে পাচারের চেষ্টা

278

চাকুলিয়া : চাকুলিয়া ব্লকের শিরশী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি বই-খাতা পাচারের অভিযোগ উঠল। সোমবার ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পড়ুয়াদের কাছে বিলি না করে সরকারি বই-খাতাগুলি বাইরে চড়া দামে বিক্রি করা হত। সোমবার  ট্র‌্যাক্টরে করে ৭০-৮০ কুইন্টাল বই-খাতা পাচারের চেষ্টা চলছিল। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। খবর পেয়ে চাকুলিয়ার জয়েন্ট বিডিও মলয় সরকার ঘটনাস্থলে যান। স্কুল কর্তৃপক্ষকে তিনি অনৈতিক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন।

এলাকাবাসী মহম্মদ মফিজুদ্দিনের কথায়, এলাকার এমন অনেক গরিব মানুষ রয়েছেন, ইচ্ছে থাকলেও যাঁরা ছেলেমেয়েছের বই-খাতা কিনে দিতে পারেন না। এক্ষেত্রে তাঁদের সরকারি বই-খাতার ওপরেই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এলাকার অসহায় পড়ুয়াদের কথা না ভেবে এভাবে বই-খাতা পাচার করাটা লজ্জার বটে। চাকুলিয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুবেস্তা সিংহ বিষয়টির নিন্দা করে বলেন, আমি এতদিন জানতাম, শিরশী মাদ্রাসা প্রথম সারির একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু  সর্ষের মধ্যেই যে ভূত লুকিয়ে রয়েছে, জানতাম না। চাকুলিয়া সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অঞ্জন পালচৌধুরী বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানান। চাকুলিয়ার বিডিও কানহাইয়াকুমার রায় বলেন, জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারাই বিষয়টি দেখছে। সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবু তাহেরের যুক্তি অবশ্য অন্য। তাঁর মন্তব্য, পরীক্ষার পরিত্যক্ত খাতাপত্রগুলি অনেকদিন যাবৎ স্কুলের গোডাউনে পড়ে ছিল। এদিন সেগুলিকেই অন্যত্র সরানোর চেষ্টা হচ্ছিল।

- Advertisement -

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, চাকুলিয়া সার্কেল অফিসে বই-খাতা রাখার নিজস্ব কোনও গোডাউন নেই। তাই শিরশী মাদ্রাসায় এতদিন এলাকার বিভিন্ন সরকারি স্কুলের বই-খাতা রাখা হত। নানা কারণে বই-খাতাগুলি পড়ুয়াদের মধ্যে বিলি করা যায়নি। এর জেরে মাদ্রাসায় বিপুল পরিমাণ বই-খাতা জমে যায়। অভিযোগ, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে বই-খাতাগুলি পাচারের চেষ্টা করছিল।