ধর্ষণের পর কুপিয়ে খুনের চেষ্টা, গুরুতর জখম তিন

363

শামুকতলা: রাতের অন্ধকারে বসতবাড়ি লাগোয়া ভুট্টা ক্ষেতে এক গৃহবধুকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে বাড়িতে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা। আক্রান্ত গৃহবধুকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরতর জখম হন মা এবং ছোট বোন। আক্রান্তদের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা সাহায্যে জন্য ছুটে আসেন ৷ বেগতিক বুঝে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা ৷ রক্তাক্ত অবস্থায় মা ও দুই মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটে শামুকতলার কদমপুর ও পশ্চিমচেপানী এলাকায়। রবিবার শামুকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই গৃহবধু। এ ব্যাপারে শামুকতলা থানার ওসি বিরাজ মুখোপাধ্যায় জানান, উভয় তরফেই অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

গৃহবধুর বক্তব্য, পুরোনো বিবাদের জেরে প্রতিবেশী বিকাশ দেবনাথ এমনটা ঘটিয়েছেন। গৃহবধু বলেন, ‘মা এবং ছোট বোনের খোঁজখবর নিতে শনিবার সন্ধ্যায় হাটা পথে পশ্চিম চেপানী থেকে কদমপুরে বাপের বাড়ি যাচ্ছিলাম। বাড়ির সামনে অন্ধকারে আচমকাই পথ আগলে দাঁড়ায় বিকাশ। টেনেহিঁচড়ে ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পরনের কাপড় ছিঁড়ে দেয়। বুকে হাত দেয়। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টাও চালায়। আমার চিৎকার শুনে মা এবং ছোট বোন দৌড়ে আসে। তখনকার মত পালিয়ে গেলেও কিছু সময় পর বিকাশ ধারালো অস্ত্র হাতে আমাদের বাড়িতে ঢোকে। সঙ্গে ওর পরিবারের আরও তিন সদস্য ছিল। তাদের হাতেও লোহার রড, লাঠিসোঁটা ছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের উপর চড়াও হয় তারা। ছোট বোনের ডান হাতে কোপ লাগে। বোনকে বাঁচাতে গিয়ে মায়ের বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল টুকড়ো হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। হাতের আরও দুটি আঙুল ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঝুলতে থাকে। আমার বাম পায়ে হাটুর পেছনে কোপ বসায় অভিযুক্তরা। এলোপাথাড়ি ধারালো অস্ত্র, লোহার রড, লাঠিসোঁটার আঘাতে আমরা ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় প্রাণ ভয়ে চিৎকার করতে থাকি। প্রতিবেশীদের আসতে দেখে মারমুখি বিকাশ দেবনাথ, সঞ্জয় দেবনাথ, প্রসেঞ্জিত দেবনাথ, অমল দেবনাথ পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরাই আমাদের উদ্ধার করে শামুকতলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। আমাদের প্রত্যেকের শরীরে ৮ থেকে ১০টি করে শেলাই পড়েছে।’

- Advertisement -

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় দেবনাথ বলেন, ‘ঘটনার সময় লোডশেডিং চলছিল। লকডাউনের কারণে রাস্তায় লোকজনও খুব একটা ছিল না। ঘটনার কথা শুনে শনিবার রাতেই শামুকতলা হাসপাতালে ছুটে যাই। আক্রান্তদের শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসক আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে। শুনেছি, ছোট মেয়েটির আঘাত গুরুতর হওয়ায় শনিবার রাতেই তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে রেফার করেছেন জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকাপয়সার অভাবে গরিব ওই পরিবারের পক্ষে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। টাকাপয়সা জোগার করে মেয়েটিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আক্রান্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা চাই, পুলিশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দিক। এলাকায় ফের এমন ঘটনা যাতে আর কেউই ঘটাতে সাহস না পায়।’ এদিকে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত বিকাশ দেবনাথকে ফোন করা হলে তিনি নিজের পরিচয় অস্বীকার করেন। তার নামে ধর্ষণের চেষ্টা এবং তাঁর তিনজন নিকট আত্মীয় সঞ্জয় দেবনাথ, প্রসেঞ্জিত দেবনাথ, অমল দেবনাথের নামে খুনের চেষ্টার লিখিত অভিযোগ শামুকতলা থানায় জমা পড়েছে।