ডাইনি অপবাদে বৃদ্ধাকে খুনের চেষ্টা, চাঞ্চল্য

99

রায়গঞ্জ: ডাইনি অপবাদ দিয়ে এক বৃদ্ধাকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করার চেষ্টার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল রায়গঞ্জ শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিতলা এলাকায়। মঙ্গলবার বৃদ্ধাকে শোবার ঘর থেকে টেনে বাবলু সরকারের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করার চেষ্টা করে। বৃদ্ধা ও তাঁর ছেলে বৌমার চিৎকার চেঁচামেচিতে ছুটে আসে স্থানীয় বাসিন্দারা। রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সিটি স্ক্যান, ইউএসজি ও এক্স-রে সহ একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এদিকে, মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম ওই বৃদ্ধার নাম আরতি রায় (৫০) পেশায় নার্সিংহোমে আয়া মাসির কাজ করত। অভিযুক্ত বাবলু সরকার, পিন্টু সরকার, টাবলু সরকারের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জখম বৃদ্ধার প্রতিবেশী মায়া সরকার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সোমবার রসাখোয়া থেকে এক ওঝা এসেছিল ঝাড়-ফুঁক করার জন্য। এরপর আসে এক কবিরাজ ও ওঁঝার নিদান প্রতিবেশী বৃদ্ধা আরতি রায় মন্ত্রতন্ত্র করে মায়াদেবীকে অসুস্থ করেছে। তাকে মারলেই সমস্যার সমাধান হবে। সোমবার রাতে আরতীদেবীকে বাবলুর নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী খোঁজ করতে আসে সেই সময় তিনি একটি নার্সিংহোমে কর্মরত অবস্থায় ছিলেন। রাতে কিছু করতে না পারলেও এদিন সকালে ঘর থেকে বের করে নিয়ে খুন করার চেষ্টা করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়গঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয় পরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

- Advertisement -

বৃদ্ধার ছেলে সুব্রত রায় পেশায় গাড়িচালক বলেন, ‘আমার মাকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে খুন করার চেষ্টা করেন। আমি মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। মাকে বাঁচাতে গেলে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে খুন করার হুঁশিয়ারি দেয় অভিযুক্তরা।’

জখম বৃদ্ধার বৌমা মলিনা রায় বলেন, ‘এদিন সকালে কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে আমাকে বলে তোমার শাশুড়িকে বের করে দাও না হলে তোমাকে ও তোমার স্বামীকে খুন করে দেব। বাড়িঘর সব ভেঙে দেব। আমার স্বামী শাশুরীকে ডাকতে গেলে দরজা খুলতেই ঝাঁপিয়ে পড়ে দুষ্কৃতীরা। বাইরে বের করে নিয়ে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করার চেষ্টা করে। আমাদের চিৎকারে ছুটে আসে স্থানীয়রা এরপর পুলিশের দ্বারস্থ হই। পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে। তিনজনকে আমি চিনতে পেরেছি। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। ওদের মূল উদ্দেশ্য আমাদের বাড়ি দখল করা। আমাদের আড়াই কাঠা জায়গা সহ বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িটা দখল করাই তাদের উদ্দেশ্য।’

রায়গঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।