চাকুলিয়ার বিনয়কে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : জাপানের ইয়াকোহামায় জাহাজে নতুন করে আরও ১০ জন করোনা ভাইরাসের শিকার হলেন। এনিয়ে ওই জাহাজের মোট ৭২ জন এই মারণ ভাইরাসের শিকার হলেন। ঘটনাচক্রে উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার কানকির হাতিপার এলাকার বাসিন্দা বিনয়কুমার সরকারও ওই জাহাজে রয়েছেন। তিনিও সংক্রমণের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। রাতের ঘুম উড়েছে তাঁর পরিবারের। যদিও রায়গঞ্জের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরির তৎপরতায় বিদেশ মন্ত্রকের মাধ্যমে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর-২ ব্লকের এই বাসিন্দা বিনয়কুমারকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর কাছে সেই দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রীকে দেওয়া তাঁর চিঠি তিনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এর প্রতিনিধির হোয়াটসঅ্যাপেও পাঠিয়েছেন।

এদিকে বিনয়বাবুকে ফোন করা হলে তিনি জানান, জাপানের ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামে একটি জাহাজে তিনি ক্যাবিন ক্রু পদে কর্মরত। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি হংকংয়ে পৌঁছোন। সেখান থেকে একজন যাত্রী জাহাজে উঠেছিলেন। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ। হংকং থেকে জাহাজের ভিয়েনাম যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজে করোনা সংক্রমণের কথা জানতে পেরেই দ্রুত জাহাজটিকে ইয়াকোহামা বন্দরে ফেরানো হয়। তাঁর দাবি, ৫ ফেব্রুয়ারি জাহাজের ১০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। যত দিন য়াচ্ছে সংক্রমণের তত সংখ্যা বাড়ছে। এখনও প্রযন্ত সংক্রামিতের সংখ্যা ৭২। সকলেই হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর আরও দাবি, এখন বন্দরে তিনি সহ ১৬০ জন ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রু রয়েছেন, তার মধ্যে ছয়জন বাঙালি। তাঁরা সকলেই দেশে ফিরতে চান। তিনি এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত না হলেও তাঁর সহকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন।

- Advertisement -

এদিন বিনয়বাবুর স্ত্রী মৌসুমি সরকার (বর্মন) বলেন, জানি না কী হবে। আজ শুনছি, নতুন করে আরও ১০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ও কবে ফিরবে বুঝতে পারছি না। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব আমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিনয়বাবুর দাদা শিলিগুড়ির বাগডোগরায় ট্রাফিক বিভাগে পুলিশ অফিসার পদে কর্মরত। তিনি বলেন, ভাইয়ে সঙ্গে আজও ফোনে কথা হয়েছে। খুবই আতঙ্কে রয়েছে। বাবা জ্যোতিলাল সরকার বলেন, গত বছর শিলিগুড়ির ভরতনগর এলাকার বাসিন্দা মৌসুমি বর্মনের সঙ্গে আমার ছোট ছেলের বিয়ে হয়। আট মাস আগে বাড়িতে এসেছিল। ছেলে কবে দেশে ফিরবে বুঝতে পারছি না। কেন্দ্রীয় সরকারকে সমস্ত ঘটনা জানানো হয়েছে। মহাসাগরের এপারে বিনয়ে ফিরে আসার প্রতীক্ষায় রাত জেগে প্রহর গুনছেন দিশেহারা পরিবারের সদস্যরা। তাঁকে উদ্ধার করে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিনয়বাবু। ছেলেকে নিরাপদে ফিরে পেতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন বিনয়ে মা চণ্ডীদেবী।

করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি হতেই এদিন উত্তর দিনাজপুর জেলার রাধিকাপুর সীমান্তে বাড়তি সতর্ক জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে মাস্ক, গ্লাভস এবং জীবাণুমুক্ত তরল ব্যবহার করে বাংলাদেশ যাতায়াতকারী পর্যটকদের তল্লাশির বিষয়গুলি দেখছেন তাঁরা। সঙ্গে রয়েছে বিএসএফ। দুই দেশের প্রচুর মানুষ এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করেন। সেদিকে নজর রেখে অভিবাসন দপ্তর এদিন করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তাজনিত পরিকাঠামো নেই এখানে। তবে এদিন থেকে ওই এলাকায় মেডিকেল টিমের পাশাপাশি ক্যাম্প করে চিকিৎসক ও নার্সদের থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান। গ্লাভস, মাস্ক পরে দুই দেশে যাতায়াতকারী মানুষজন ও তাদের ব্যাগে তল্লাশি চালাচ্ছে বিএসএফ। ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারীদের মধ্যে কেউ চিন থেকে এসেছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান বলেন, ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াতকারী পর্যটকদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কেউ জ্বর বা অন্য কোনও রোগে আক্রান্ত কিনা তাও দেখা হচ্ছে। কেউ চিনের ট্রাভেল করেছেন কি না তাও কাস্টমস অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন। রোগে আক্রান্ত মনে হলে তাঁদের রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী গ্রামে খুদে পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। কেরল থেকে আসা রায়গঞ্জ মহকুমার দুই পরিযাযী শ্রমিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষ্মণ পাওয়ামাত্র তাঁদের কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।