উজ্বলকুমার দাস, সামসী : একসময় পড়ুয়া ছিল ৪০০ জন। বর্তমানে গড় উপস্থিতি ৩০-৩৫। তার ওপর শ্রেণিকক্ষের অবস্থা তথৈবচ। এমনি দশা সামসী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় শাখার। দীর্ঘ এক বছর ধরে রতুয়া-১ ব্লকের এই স্কুলটির দুইটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে একটিতে ফাটল ধরায় সেটি ব্যবহারের পক্ষে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। অপরটির অবস্থাও ভালো নয়।

বর্তমানে শ্রেণিকক্ষটি সংস্কার করে কোনোরকমে চলছে। যদিও ওই একটিমাত্র ঘরই ব্যবহৃত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষ, টিচার্স কমনরুম, গোডাউন, মিড-ডে মিলের বাসনপত্র রাখার ঘর হিসাবে। যদিও এই ঘরেও অল্প বৃষ্টি হলেই অনেক সময় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। পাশাপাশি স্কুলের পানীয় জলের কলটিও অকেজো। পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যবহারের জন্য শৌচালয়টি বাঁশঝাড়, ঝোপজঙ্গলে ভরে যাওয়ায় সেটি আর তাঁরা ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে স্কুলের আশেপাশের বাড়িগুলিতে যেতে বাধ্য হন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ২৬-৩১ অগাস্ট পর্যন্ত নির্মল বিদ্যালয় সপ্তাহ সংক্রান্ত কর্মসূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

স্কুল সূত্রে খবর, সামসীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তথা সমাজসেবী সুবীর চৌধুরি ও তাঁর কাকা শম্ভুনাথ চৌধুরি স্কুলের উন্নতিকল্পে চার মাস আগে দুই শতক জায়গা দান করেছেন। জায়গাটি রেজিস্ট্রি হয়ে গেলেও অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের ব্যাপারে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন ও শিক্ষাদপ্তরের তরফে এখনও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। ফলে প্রায় প্রতিদিনই ক্লাস করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছে পড়ুয়ারা। কখন ছাদের চাঙড় খসে পড়ে বিপত্তি ঘটে, মনে এই আশঙ্কা নিয়ে ক্লাস করে তারা। স্কুলের বেহাল দশার জেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সামসী দুর্গাতলা এলাকার প্রাচীন এই সামসী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়টি (শাখা) স্থানীয় কিছু শিক্ষাপ্রেমী মানুষের উদ্যোগে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত হয়। একটা সময় এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৪০০ ছিল। যথেষ্ট সুনামও ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই বেহাল দশার কারণে স্কুলছুটের সংখ্যা বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলটির হৃতগৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মহম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, বর্তমানে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৬ জন। গড় উপস্থিতি ৩০-৩৫। তাঁকে নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ৩ জন। তিনি জানান, সমস্যার কারণে জুন ও জুলাই মাসে মিড-ডে মিল রান্না বন্ধ রাখতে হয়। পরে অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ও শিক্ষাবন্ধুর নির্দেশে ফের মিড-ডে মিল চালু করা হয়। প্রাথমিক স্কুলটির বেহাল দশার কথা অবশ্য জানা নেই বলে জানিয়েছেন সামসী গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শ্রবণকুমার দাস। খোঁজখবর নিয়ে আগাছা, জঙ্গল সাফ করার ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, রতুয়া চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম বলেন, এতদিন দুর্গামন্দিরের দেওয়া ঘরেই ক্লাস চলত। সম্প্রতি দুই শতক জায়গা দানে পেয়েছেন। তিনি ওই নতুন জায়গায় চারটি শ্রেণিকক্ষ, রান্নাঘর সহ শৌচালয় ও স্নানাগার তৈরির প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছেন। শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।