গ্রামের স্কুলে উপস্থিতির হার তলানিতে, পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

97

সিতাই, পার্থসারথি রায়: করোনা সংক্রমণের জেরে দীর্ঘ একবছর স্কুল বন্ধ ছিল। এরপর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় রাজ্য সরকার নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য স্কুল খোলার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্কুল খুললেও পড়ুয়াদের সংখ্যা সীমিত স্কুল গুলিতে। মঙ্গলবার এমনই চিত্র দেখা গেল সিতাই বিধানসভার মাতালহাট হাইস্কুলে। এদিন মাত্র এক শতাংশ পড়ুয়া স্কুলে উপস্থিত ছিল। চারটি শ্রেণির মোট ১২০০ পড়ুয়ার মধ্যে হাতে গোনা ১২ জন স্কুলে উপস্থিত ছিল। যার জেরে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, একদিকে করোনা পরিস্থিতি, অন্যদিকে ভোটের রাজনৈতিক উত্তাপ, তার ওপর আর্থিক দৈন্যদশা মূলত এই তিনটি কারণে স্কুলে পড়ুয়াদের উপস্থিতি তলানিতে এসে ঠেকেছে।

মাতালহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত বর্মন বলেন, ‘গত বছর দীর্ঘ করোনা পরিস্থিতির পর চলতি বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে স্কুল শুরু হয়। প্রথম দিকে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ৩০-৪০ শতাংশ ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই অবস্থায় স্কুল কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে।’

- Advertisement -

গিতালদহ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মলয় দাস বলেন, ‘এদিন তাদের স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ উপস্থিত থাকলেও একজন পড়ুয়াও আসেনি।’ কাজী নজরুল হাইস্কুলের টিচার ইনচার্জ শীবপ্রসাদ বর্মন, চামটা আদর্শ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদেব দত্ত প্রমুখ প্রত্যেকেই এক্ষেত্রে তাদের উদ্বেগের কথা বলেন। স্কুলে পড়ুয়াদের এই অনুপস্থিতির কারণ অভিভাবকদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিভাবক বাসন্তী বর্মন বলেন, ‘অভাবের সংসারে আমার একাদশ শ্রেণিতে পড়া মেয়ে মাঠের কাজে আমাদের সাহায্য করে।’ সুভাষ বর্মন জানান, তাঁর দ্বাদশ শ্রেণিতে পাঠরত ছেলে তাঁকে দোকানে ছোট ব্যবসার কাজে সাহায্য করে। তাই ইচ্ছে ও প্রয়োজন থাকলেও তাঁরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছেন না।