মালদ্বীপ হয়ে দেশে ফিরতে পারেন অজিরা

নয়াদিল্লি : টুর্নামেন্ট স্থগিত।

যদিও অস্ট্রেলীয়দের দেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা। আর সেই জটে এখনই অস্ট্রেলিয়ায় ফেরা হচ্ছে না গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, স্টিভেন স্মিথদের। অজি সরকার ১৫ মে পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছে। ভারত সফররত কাউকে এই সময়ে মধ্যে ঢুকতেও দেবে না অস্ট্রেলিয়াতে। আইন ভাঙলেই জরিমানা ও জেলের হুমকি দিয়েছে স্কট মরিসন সরকার।

- Advertisement -

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড ও প্লেয়ারদের সংগঠনও সরকারের নির্দেশকেই শিরোধার্য করে নিয়েছে। জানিয়েছে, নিয়ম শিথিল করার জন্য কোনও আবেদনের পথে তারা হাঁটবে না। ফলে ১৪ জন ক্রিকেটার সহ আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত চল্লিশজন অস্ট্রেলীয় বিপাকে। অর্থাৎ বিসিসিআই দ্রুত ও নিরাপদে ম্যাক্সওয়েলদের পৌঁছে দিতে চেষ্টা চালালেও, ১৫ মে-র আগে তা ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

এরকম পরিস্থিতিতে একাধিক বিকল্প সম্ভাবনার কথা সামনে উঠে আসছে। সূত্রের খবর, আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা ৪০ জন অস্ট্রেলীয়কে আপাতত মালদ্বীপে কোয়ারান্টিনে রাখা হবে। অজি সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠলে, সেখান থেকেই ম্যাক্সওয়েল, রিকি পন্টিংরা দ্বীপরাষ্ট্র থেকেই দেশে ফিরবেন। তবে সবকিছু ঘিরেই ধোঁয়াশা, অনিশ্চয়তা।

নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন ফের পরিষ্কার করে দিয়েছেন, ১৫ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কাউকে দেশে ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত ১৪ দিনের মধ্যে ভারত সফর করা কেউ সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেশে ঢুকলে জেল ও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।

আইপিএল স্থগিতের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরপরই বিসিসিআইয়ে তরফে অবশ্য আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, কঠিন সময়। বিশেষত ভারতীয়দের জন্য। আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করেছিলাম, কঠিন মুহূর্তে মানুষকে আনন্দ দিতে, পজিটিভি প্রদান করতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্ট স্থগিত রাখতেই হল। ২০২১ আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকেই যাতে পরিবারের কাছে নিরাপদে এবং দ্রুত ফিরতে পারে, সর্বশক্তি কাজে লাগিয়ে সেই ব্যবস্থাই করা হবে।

কিন্তু অজিদের হতাশাটা ধরা পড়ল নাইট শিবিরের তারকা অজি পেসার প্যাট কামিন্সের বক্তব্যে। বলেছেন, দেশে ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারান্টিনে কাটাতে হবে জানি। কিন্তু আকাশসীমাই তো এখন বন্ধ। আগে কখনও এরকম পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি। চিন্তা স্বাভাবিক। আশাকরি, ১৫ মে নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গেসঙ্গে দেশে ফেরার অনুমতি পাব। সিএ এবং এসিএ সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে। আমরা আশাবাদী, আলোচনা ফলপ্রসূ হবে।

এদিকে, আরসিবি দলের ক্রিকেটারদের নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দিতে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছে। এক বিজ্ঞপ্তি ফ্রাঞ্চাইজি তরফে বলা হয়েছে, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে সবাইকে নিরাপদে বাড়ি পাঠাতে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রসঙ্গত, দলের সদস্যরা কোভিড আক্রান্ত হওয়ার ফলে অন্তত চারটি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি আমেদাবাদ এবং নয়া দিল্লিতে হার্ড কোয়ারান্টিনে কাটাচ্ছে। আক্রান্ত ক্রিকেটারদের সঙ্গে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে তাঁর সংস্পর্শে থাকা খেলোয়াড় বা অন্যান্য সদস্যদেরও।