দুই সুপার সাবে বাজিমাত মাানচিনির

লন্ডন : লিওনার্দো স্পিনাজোলার লং বলটা চেস্ট ট্র‌্যাপে নামিয়ে ডান পায়ে আলতো টোকা। আর তাতেই কেটে গেলেন অস্ট্রিয়ার রক্ষণের স্তম্ভ মার্টিন হিন্টেরেগার। সামনে শুধু ডেভিদ আলাবা আর গোলরক্ষক ড্যানিয়েল বাখমাান। তাদের অবস্থান এক ঝলক দেখে নিয়ে বাঁ-পায়ে দুরন্ত শট। বল জাল কাঁপাতেই কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছুটলেন ফেডেরিকো চিয়েসা। ডাগআউটে তখন এক চিলতে হাসি রবার্তো মাানচিনির মুখে।

ফ্ল্যাশব্যাকে যেন ফিরে আসছিল ২৫ বছর আগের ঘটনা। ৯৬-এর ইউরোর আসরে এইভাবে চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গোল করে দলের হাসি ফুটিয়েছিলেন এনরিকো চিয়েসা। সম্পর্কে তিনি ফেডরিকোর বাবা।

- Advertisement -

ইউরো কাপে বাবা-ছেলের এই কৃতিত্ব বেশ বিরল নজির। তবে সেই বিস্ময় ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে অস্ট্রিয়া মাাচে ইতালি কোচ রবার্তো মাানচিনির দুটো মোক্ষম চাল। দ্বিতীয়ার্ধে তখন ইতালি আক্রমণে মুহূর্মুহু হানা দিচ্ছেন অস্ট্রিয়ার মার্কো আর্নটোভিচ, মার্সেল সাবিৎজাররা। দিশা খুঁজে পাচ্ছে না লিওনার্দো বনুচ্চিদের ডিফেন্স। হাসফাঁস দশা থেকে বেরোতে দ্রুত দুটে পরিবর্তন নিয়েছিলেন মাানচিনি। ডমিনিকো বেরার্ডির জায়গায় চিয়েসা আর নিকোলো বারেল্লার জায়গায় মাতেও পেসিনা। মাাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াতেই জ্বলে উঠলেন মাানচিনির দুই সুপার সাব। তাঁদের মাাজিকে ভর করেই টানা ৩১ মাাচ অপরাজিত থাকার অনন্য রেকর্ড গড়লেন আজুরিরা। মাানচিনি ভাঙলেন ৮৩ বছর আগে গড়া কিংবদন্তি ইতালীয় কোচ ভিত্তোরিও পোজ্জোর দলের টানা জয়ের নজির। সঙ্গে প্রাপ্তি ইউরো কাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

তবে কাজটা যে অস্ট্রিয়া কঠিন করে তুলেছিল মানছেন মাানচিনি। চাপের মুখে দল যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তার জন্য ছেলেদের কৃতিত্ব দিচ্ছেন ইতালির প্রফেসর। মাানচিনির কথায়, আমরা শুরুতে দুটো গোল পেয়ে গেলে মাাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াত না। আমরা জানতাম এই মাাচ জেতা কঠিন হবে। এটা কোয়ার্টার ফাইনালের চেয়ে কঠিন লড়াই ছিল। তবে আমরা মাাচ থেকে হারিয়ে যাইনি। যোগ্য দল হিসেবে আমরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছি।

মাাচে দুই সুপার সাব পার্থক্য গড়ে দিল মানছেন মাানচিনি। আজুরিদের কোচের কথায়, রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে যাঁরা মাঠে নেমেছে তারা সঠিক ও দৃঢ় মানসিকতা বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে। অবিশ্বাস্য পারফরমেন্সে তারা দলের জয় নিশ্চিত করেছে।