বিজেপি নেতা অনুপ রায়ের মৃতদেহের ফের ময়নাতদন্ত হবে: জেলা সভাপতি

290

রায়গঞ্জ: ভারতীয় জনতা পার্টির যুবনেতা অনুপ রায়ের খুনের মামলায় তৃতীয়বারের জন্য মৃতদেহ ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরেই জেলা রাজনীতি থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পরে গিয়েছে। এদিন হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী বলেন, ‘মহামান্য আদালত আমাদের দলের যুবনেতা অনুপ রায়ের খুনের মামলায় তৃতীয়বারের জন্য আরজিকর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া মহামান্য আদালত অনুপ রায়ের খুনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ সহ বিভিন্ন যে তথ্য রয়েছে তা শীঘ্রই আদালতে পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও ওই মামলায় যাদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয়, সেই পুলিশ অফিসারদের কেন গ্ৰেপ্তার করা হল না তা নিয়ে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।’

এদিন কলকাতা হাইকোর্টে তিন দফায় মামলার শুনানি হয়। সেখানে আদালতে সরকার পক্ষের আইনজীবী ময়নাতদন্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। কিন্তু জানা গিয়েছে মৃতের মা আদালতের কাছে প্রার্থনা করেন যে তাঁর ছেলের মৃতদেহ বাড়ির অদূরেই কবরস্থানে সংরক্ষিত করা রয়েছে। সেই মৃতদেহ তুলে দিল্লির এইমস্ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করে প্রকৃত খুনের ঘটনার কিনারা করা হোক।

- Advertisement -

যদিও মৃতের পরিবারের সেই আর্জি বিবেচনা করে মৃতদেহ তৃতীয়বারের জন্য কলকাতা আরজিকর মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে ২ সেপ্টেম্বর অনুপ রায় অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছে বলে পুলিশ চালানোর চেষ্টা করে। এছাড়াও দায়সারাভাবে ময়নাতদন্ত করে মৃতদেহ ডিসপোজাল করার উদ্যোগ নিয়েছিল রায়গঞ্জ থানার পুলিশের একাংশ। পুলিশ প্রভাব খাটিয়ে ওই খুনের ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠে‌। ওই ঘটনার পর পরিবার জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং মৃতদেহ দ্বিতীয়বারের জন্য ময়নাতদন্তের দাবি করে। এরপরেই আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয়বারের জন্য মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। ওই ঘটনার পর অনুপের মা ইটাহার থানায় পাঁচ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেন। ওই পুলিশ কর্মীরাই তাকে বাড়ি থেকে তুলে এনেছিল বলে মৃতের পরিবারের অভিযোগ। বিজেপির জেলা সভাপতি ওই সময় দাবি করেন যে শাসকদলের মদতে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে আমাদের যুবনেতাকে গুলি করে খুন করেছে এবং সেই খুনের বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

আদালতের চাপে দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত হলেও তাতেও মৃতের পরিবার কিন্তু স্বস্তিতে ছিল না। তাদের দাবি, এই খুনের ঘটনাকে পুলিশ এবং প্রভাবশালীরা মিলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে তাই তারা সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েও ইতিপূর্বে আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং মৃতদেহ নিজেরা নিজেদের বাড়ির পাশে পুড়িয়ে না দিয়ে সমাধিস্থ করেন। সেখানে লবণ মাখিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষিত করা হয়।

অন্যদিকে, মৃতের মায়ের দাবি, ‘ছেলেকে তো আর ফিরে পাবোনা কিন্তু অন্তত একবার যেন খুনিরা ছাড় না পায়, তাই যেখানে যাওয়ার সেখানে যেতেই তিনি তৈরি।’ ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় পরিবার। এবারে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তৃতীয়বারের জন্য ময়নাতদন্তের পাশাপাশি যাতে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আদালতের হাতে পৌঁছায় সেই আর্জি জানিয়ে মৃতের পরিবারের আইনজীবীরা আদালতের কাছে আবেদন জানায়।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনার যে ফুটেজ রয়েছে সেগুলি যেন অবিলম্বে আদালতে পেশ করা হয় এবং কেন পাঁচ পুলিশ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হল না, সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালতের বিচারক। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী লোকনাথ চ্যাটার্জী অনুপ রায়ের মায়ের পক্ষে সাওয়াল-জাওয়াব করেন। তার বক্তব্য, হাইকোর্টের বিচারপতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনশন করেন। তার মধ্যে রয়েছে তৃতীয়বার অনুপ রায় মৃতদেহ ময়নাতদন্ত, রায়গঞ্জ থানার ও রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দিতে হবে এছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের ভিডিও ক্যামেরার ফুটেজ জমা দিতে হবে।

ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত হবে। কেন এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত পুলিশ অফিসাররা গ্রেফতার হয়নি তা হলফ নামা দিয়ে জানাতে হবে হাইকোর্টের বিচারপতিকে। জানানোর দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। পুলিশ সুপার সুমিত কুমার বলেন,”এখনো পর্যন্ত এরকম কোন নির্দেশ পায়নি। ফলে কোন মন্তব্য করব না।