পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিতে সাত দিনব্যাপী চলল মদ-জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা শিবির

158

রায়গঞ্জ: পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিতে সাত দিনব্যাপী চলল মদ ও জুয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা শিবির। রায়গঞ্জ ব্লকের শেরপুর অঞ্চলের বাসিন্দা অধ্যাপক কালেশ্বর বর্মনের উদ্যোগে চারটি অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলিতে সাত দিন ধরে মদ ও জুয়ার বিরুদ্ধে প্রচারিভিযান চলে। গ্রামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে নেশামুক্ত সমাজ গঠনের আহ্বান জানান কালেশ্বরবাবু।

অধ‍্যাপক কালেশ্বর বর্মন জানিয়েছেন, সাত দিনব‍্যাপী মদ ও জুয়ার বিরুদ্ধে যে সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। সোমবার ছিল তার শেষ দিন। সপ্তম দিনে সাত জন শিক্ষকের উপস্থিতি ও তাঁদের পরামর্শ অসংখ্য যুবক ও শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে এবং প্রত‍্যেকেই আগামীদিনে এসব নেশা থেকে দূরে থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। অধ‍্যাপক কালেশ্বর বর্মন যুক্তিসম্মত আলোচনা করেন মদ ও জুয়া কিভাবে একজন মানুষকে আলো থেকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, কিভাবে নিম্নবিত্ত, মধ‍্যবিত্ত ও নিম্ন মধ‍্যবিত্ত পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামোকে ভেঙে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ধনী কিভাবে গরিব হচ্ছে, আর গরিব কিভাবে ভিখারীতে পরিণত হচ্ছে।

- Advertisement -

তিনি বলেন, ‘মদ ও জুয়ার নেশায় আসক্ত হয়ে আজকাল গ্রামীণ সমাজের মানুষ সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি। ফলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নও ব‍্যাহত হচ্ছে। কারণ গরিবের নিকট অর্থ না থাকলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাছাড়া নেশায় চরম আর্থিক ক্ষতির ফলে যুবসমাজ বিপথে চালিত হচ্ছে এবং নানান অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত হচ্ছে। তাই সুষ্ঠু সমাজ গড়তে আমাদের মদ ও জুয়া সহ বিপথে চালিত করা নেশা থেকে মুক্ত হতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এসবের বিরুদ্ধে আমি একা কিংবা ক’জনে মিলে আমরা সরকারকে মদ ও জুয়া বন্ধ করাতে না পারলেও জনগনকে, বিশেষ করে যুবসমাজের অনেককেই সচেতন করে আমরা এসব থেকে দূরে সরাতে সক্ষম হব।’

প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান অমর বিশ্বাস বলেন, ‘আগামীদিনে সমাজের বৃহত্তর অংশের মানুষ আমাদের পাশে থাকবেন এবং এভাবেই একদিন নেশামুক্ত সমাজ গড়ে উঠবে। রায়গঞ্জ ব্লকের একজন শিক্ষক নেশামুক্ত সমাজ গঠনে এগ্রিয়ে আসায় খুশি সমাজকর্মীরাও। এই ধরনের কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়েছে যুবসমাজও।’