অক্ষরের স্পিন-ঘূর্নিতে ফের বেসামাল ইংল্যান্ড

সঞ্জীবকুমার দত্ত, কলকাতা : চিপকের পর মোতেরা।

গোলাপি যুদ্ধেও বজায় থাকল অক্ষর প্যাটেলের দাপট। পিঙ্ক বলে পেসারদের বাড়তি সুইংটাই নাকি ম্যাচের চাবিকাঠি? গোধূলি বেলা, ফ্লাডলাইট ফ্যাক্টরগুলিতেই নাকি ম্যাচের ভাগ্য বাঁধা থাকে। দিনরাতের টেস্ট নিয়ে চেনা গতের যে ছবিটা এদিন বদলে দিলেন অক্ষর। ঘরের মাঠে প্রথম বলেই উইকেট! দিনের শেষে হাফডজন শিকার। অক্ষরের ধাক্কায় ইংল্যান্ড শেষ ১১২-তেই।

- Advertisement -

বাকি স্পিনারদের চেয়ে অক্ষরের গতিটা একটু বেশি। রুটদের শিকড়শুদ্ধু উপড়ে ফেলতে স্পিনের সঙ্গে সেই গতিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগালেন। কোন বলটা ঘুরবে, আর কোনটা সোজা–গোলকধাঁধায় আটকে গেলেন ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের। রবিচন্দ্রন অশ্বীন যে ফাঁসটা আরও শক্ত করে দেন। ফলস্বরূপ ৬৪ রান খরচ করে স্পিন-জুটির পকেটে ৯ শিকার। ম্যাচের প্রথম দুই সেশনে ৪৮.৪ ওভারেই অলআউট ইংল্যান্ড।

চিপকে গত টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন অক্ষর। এদিন ৩৮ রানে হাফডজন। যার সুবাদে মহম্মদ নিসার (১৯৩৩) ও নরেন্দ্র হিরওয়ানির (১৯৮৮) পর কেরিয়ারের প্রথম দুই টেস্টে ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি। অপরদিকে, রুট সহ তিন উইকেট নিয়ে অশ্বীন চারশোর মাইলস্টোনের (৩৯৭) আরও কাছে।

অক্ষরের বোলিংয়ে পর ব্যাটিংয়ে রোহিত-শো। শুভমান গিল (১১) ও চেতেশ্বর পূজারা (০) দ্রুত ফেরেন। গিলকে আউট করেন আর্চার। পূজারা আউট লিচের স্পিনে। ৩৪/২ থেকে ৬৪ রানের জুটি বিরাট-রোহিতের। ছোট্ট যুগলবন্দিতেও দক্ষতার প্রতিফলন। শটের ফুলঝুরি। তবে ২৪ রানে অ্যান্ডারসনের বলে জীবন পাওয়ার ফায়দা বিরাট (২৭) নিতে পারেননি। লিচের বল ব্যাটের নীচের দিকে লেগে উইকেট ভেঙে দেয়। ১১২-র জবাবে ভারত ৯৯/৩। পিছিয়ে আর মাত্র ১৩ রানে। ৬৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রোহিত (অপরাজিত ৫৭) অবশ্য বহালতবিয়তে আছেন। কাল রাহানেকে (১) নিয়ে ফের নামবেন রুটদের ওপর চাপ বাড়াতে।

প্রত্যাবর্তনে জ্যাক ক্রলির হাফ সেঞ্চুরি (৫৩) ছাড়া আর কোনও প্রতিরোধ নেই। সাত-সাতজন দশের গন্ডি পেরোতে ব্যর্থ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ জো রুটের। বেয়ারস্টো (০), বেন স্টোকস (৪) ওলি পোপ (১), বেন ফোকস (১২)- স্পিন-সাফল্যের লম্বা তালিকা। অক্ষরদের উইকেট-টু-উইকেট লাইনের চাপ কাটাতে ব্যর্থ রুটরা। ফলস্বরূপ দশের মধ্যে সাতটি উইকেট হয় বোল্ড কিংবা এলবি। স্পিনে ৯ উইকেট! পিঙ্ক টেস্টের চলতি ভাবনা ভেঙে খানখান।