আলিপুরদুয়ারে মুখ থুবড়ে পড়েছে আয়ুষ পরিষেবা

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : করোনার কোপে মুখ থুবড়ে পড়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার আয়ুষ চিকিৎসা পরিষেবা। করোনা পরিস্থিতির জন্য সেখানে কিছুদিন পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে আয়ুষ হাসপাতাল সংলগ্ন একটি কর্মতীর্থ ভবনে আয়ুষ পরিষেবা চালু করে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। কর্মতীর্থ ভবনে আয়ুষ পরিষেবা চালু হলেও সেখানে রোগীরা আসছেন না। ফলে ডিউটি করতে এসেও ফাঁকাই বসে থাকেন আয়ুষ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তপসিখাতায় কোভিড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে। তবে আয়ুষ পরিষেবা চালু রাখতেও পাশে কর্মতীর্থ ভবনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে রোগী কম হচ্ছে এটা ঠিক। আসলে এখন সব জায়গাতেই কোভিডের জন্য রোগী কম আসছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেদিন জানাবে সেদিনই আমরা ফের তপসিখাতা আয়ুষ হাসপাতালে আয়ুষ বিভাগ চালু করব।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মধ্যে প্রথম আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন তপসিখাতায় আয়ুষ হাসপাতাল চালু করা হয়। ২০১৭ সালে সেখানে আযুষের বিভিন্ন ধরনের পরিষেবা চালু হয়। আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, অসম এমনকি ভুটান থেকেও প্রচুর রোগী রোজ তপসিখাতা ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতালে এসে পরিষেবা নিয়ে থাকেন। কিন্তু গত মার্চ মাসে জেলায় যখন করোনার প্রভাব বাড়তে থাকে তখন কোভিড হাসপাতাল গড়ার প্রয়োজন হয় জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের। প্রথমে ফালাকাটায় কোভিড হাসপাতালের পরিকাঠামো গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দেন, ফালাকাটার পরিবর্তে জেলার অন্যত্র কোভিড হাসপাতাল গড়া হোক। এর পরেই তড়িঘড়ি জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় তপসিখাতা আয়ুষ হাসপাতালেই করোনার চিকিৎসা করা হবে। এর জন্য তপসিখাতা আয়ুষ হাসপাতালের আয়ুষ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে প্রথমে লেভেল ১ ও ২ করোনার চিকিৎসা শুরু হয়।

- Advertisement -

তবে কিছুদিনের মধ্যেই করোনা মারাত্মক আকার ধারণ করার ফলে তপসিখাতাতেই পূর্ণাঙ্গ কোভিড হাসপাতাল তৈরি করা হয়। এখনও সেখানেই চলছে কোভিড হাসপাতাল। গত ৫ অক্টোবর থেকে তপসিখাতা কর্মতীর্থ ভবনের একটি দোকানঘরে আযুষের আউটডোর খোলা হয়। অভিযোগ, সেখানে কোনও পরিকাঠামো নেই। নেই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী। আর তার জেরে রোগীরা সেখানে আসছেন না। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে আয়ুষ হাসপাতালে প্রতিদিন অন্তত ৬০০-৭০০ রোগী পরিষেবা নিতে আসতেন। কিন্তু কর্মতীর্থ ভবনের দোকানঘরে খোলা চেম্বারে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী আসছেন। এই অবস্থায় আয়ুষ হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও সকলেই ঘনিষ্ঠ মহলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এমনকি রাজ্যের একমাত্র আয়ুষ হাসপাতাল কবে আবার আয়ুষ পরিষেবা দেওয়ার জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে সংশয় তৈরি হয়েছে।

আয়ুষ হাসপাতালের এই অবস্থা নিয়ে বঙ্গীয় আয়ুর্বেদিক মহাসংঘের সম্পাদক তপন ভট্টাচার্য বলেন, জরুরি প্রযোজনে আয়ুষ হাসপাতালে কোভিড পরিষেবা চালু করা হয়েছে। কিন্তু তার জন্য আয়ুষ পরিষেবা মাসের পর মাস বন্ধ থাকতে পারে না। প্রয়োজনে আয়ুষের সব পরিকাঠামো অন্যত্রও তৈরি করা যেতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দেখা উচিত। আয়ুষ হাসপাতালের চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের কোভিড রোগীদের চিকিৎসার কাজে লাগানো হচ্ছে। তাই কর্মতীর্থ ভবনের দোকানঘরে আউটডোর খুললেও সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্য কর্মী নেই। ফলে গোটা জেলাতেই আয়ুষ পরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। থমকে গিয়েছে আয়ুষ হাসপাতালের উন্নয়নমূলক অন্যান্য কর্মসূচিও। বন্ধ যোগা ও পঞ্চকর্মের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাও। তাই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়েছে, প্রয়োজনে অন্যত্র আয়ুষের সব ধরনের পরিষেবা চালু করা হোক। না হলে আয়ুষের রোগীদের যেমন সমস্যা বাড়বে, তেমনি জেলার বাসিন্দারাও এই চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন।