‘বাবা কা ধাবা’র সামনে উপচে পড়ল ভিড়, হাসি ফিরল কান্তার মুখে  

1844
কান্তার হাসি-কান্নার দুই ছবি।

উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ফের প্রমাণিত হল সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষমতা। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতেই নয়াদিল্লির আশি বছর বয়সী বৃদ্ধ কান্তা প্রসাদ ও তাঁর স্ত্রী’র দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন প্রচুর মানুষ।

করোনার প্রভাব পড়েছে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে। অন্য ব্যবসার মতোই মার খেয়েছে খাবার ও রেস্তোরাঁর ব্যবসা। বিশেষত রাস্তার ধারের খাবারের ছোট দোকানদাররা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্রেতার অভাবে তাঁদের অনেকেরই রোজগারে টান পড়েছে, দায় হয়ে পড়েছে সংসার চালানো। এরকমই এক খাবার বিক্রেতা হলেন কান্তা প্রসাদ।

- Advertisement -

নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরে ‘বাবা কা ধাবা’ নামে একটি খাবারের দোকান চালান কান্তা ও তাঁর স্ত্রী বাদামি দেবী। দোকান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়েই চলে সংসার। তাঁরা দু’জনে ১৯৯০ সাল থেকে অর্থাৎ ৩০ বছর ধরে সেই দোকান চালাচ্ছেন। দোকানে ভাত, সবজি, পরোটা, মটর পনির বিক্রি করেন বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসায় মন্দা চলছিল। সেভাবে খাবার বিক্রি হচ্ছিল না। ফলে সমস্যায় পড়েন তাঁরা।

গৌরব ওয়াসন নামে এক ফুড ব্লগার বুধবার কান্তা প্রসাদের দোকানে গিয়েছিলেন। তিনি কান্তার সঙ্গে কথা বলেন ও তাঁর একটি ভিডিও করেন। যেখানে কান্তা জানান, করোনার কারণে তাঁর ব্যবসা মার খেয়েছে। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দোকান খোলেন তিনি। কিন্তু সারাদিনে খুব সামান্য আয় হয়। ভিডিওতে বৃদ্ধ কান্তা প্রসাদকে কাঁদতে দেখা যায়। গৌরব ওয়াসন সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। মুহূর্তে ভাইরাল হয় ভিডিও।

‘বাবা কা ধাবা’র সামনে উপচে পড়ল ভিড়, হাসি ফিরল কান্তার মুখে  | Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

কান্তা প্রসাদের কাঁদার ছবি সকলের মন ছুঁয়ে যায়। অনেকেই সেই ভিডিও দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। কান্তার ভিডিও দেখে বৃহস্পতিবার অনেকেই তাঁর ‘বাবা কা ধাবা’র সামনে ভিড় করেন। খাবার কেনার জন্য এদিন তাঁর দোকানের সামনে রীতিমতো লাইন পড়ে যায়। কান্তা প্রসাদ এজন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সমস্ত কিছুই সম্ভব হয়েছে গৌরববাবুর জন্য। তাঁর জন্যই এদিন দোকানের সামনে খাবার কেনার লাইন পড়েছে। বুধবার কার্যত কিছুই বিক্রি হয়নি। আজ মনে হচ্ছে গোটা দেশে আমার পাশে আছে।’

https://twitter.com/ReallySwara/status/1314103203164610560?s=20

এদিকে, কান্তার মুখে হাসি ফিরিয়ে খুশি ফুড ব্লগার গৌরব ওয়াসনও। তিনি বলেন, ‘বুধবার আমি কান্তার দোকানে গিয়েছিলাম। ওঁনার জীবন যুদ্ধের কাহিনী শুনে খুবই কষ্ট লেগেছিল। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দোকান খোলেন। কিন্তু সেভাবে খাবার বিক্রি হয় না। বুধবার দুপুর পর্যন্ত খাবার বিক্রি করে তাঁদের মাত্র ৭০ টাকা উপার্জন হয়েছিল। এরপরই আমি কান্তার একটি ভিডিও রেকর্ড করি। পরে সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করি। সেই ভিডিও দেখে এদিন প্রচুর মানুষ কান্তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে।’

যেভাবে সকলে কান্তার দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সেটিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন নেটিজেনরা। পাশাপাশি কান্তার জীবন যুদ্ধের কাহিনী প্রকাশ্যে আনার জন্য নেটিজেনরা গৌরবকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।