বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রিতিনিধি নন। সাধারণ মজুর হিসেবে কোনোরকমে সংসার চালান। তার সঙ্গেই নীরবে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করছেন ময়নাগুড়ির ফার্ম শহিদগড়পাড়ার বাসিন্দা বাবলা রায়। পড়ে থাকা আবর্জনা জড়ো করে তিনি তা পুড়িযে ফেলেন। এরপর জল ঢেলে সেই আগুন নিভিযে ফেলেন তিনি।

বাবলাবাবুর বাড়িতে স্ত্রী যমুনা রায় ও দুই ছেলে আছেন। এক ছেলে রাজমিস্ত্রি, অন্যজন টোটোচালক। তিনি ময়নাগুড়ি বাজারে দোকানে দোকানে ভারে করে জল সরবরাহ করেন। কাকভোরে বাজারে এসেই তিনি রাস্তায় পড়ে থাকা প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগ ও আবর্জনা জড়ো করে পুড়িযে ফেলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই কাজ করছেন। কেউ তাঁকে এই কাজ করতে দেখুক, বাবলাবাবু তা চান না। তাই একপ্রকার আড়ালে থেকেই তিনি একাজ করেন।

১৯৬৮ সাল থেকে ময়নাগুড়ি বাজারের দোকানে দোকানে জল পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন বাবলা রায়। তখন একভার জলের বিনিমযে ১০ পয়সা পাওয়া যেত। এখন অবশ্য ১০ টাকা পাওয়া যায়। প্রতিদিন তিনি ময়নাগুড়ি দুর্গাবাড়ি মোড়ের কুয়ো থেকে জল নিয়ে দোকানে দোকানে পৌঁছে দেন। সব মিলিয়ে গড়ে রোজ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আয় হয়। তাই দিযে সংসারের যাবতীয় খরচ চালাতে হয়।

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা নিয়ে তিনি বিশেষ কিছুই করেন না বলে বাবলাবাবুর দাবি। তিনি বলেন, এ এমন কিছু কাজ নয়। আমি ভোরের দিকে বাজারে চলে আসি। দোকান খোলার আগে অনেকটা সময় হাতে থাকে। সেই সময়টা কাজে লাগিযে যেটুকু আমার পক্ষে করা সম্ভব, সেটুকু করি। কেউ আমাকে একাজ করতে বলেননি। তবে বাজার পরিষ্কার রাখার জন্য আমি এই কাজ করি। যেখানে সেখানে নোংরা পড়ে থাকতে দেখলে আমার অস্বস্তি হয়। তাই নিজেই আবর্জনা সাফাইয়ের কাজটা করি। বাবলাবাবু গান শুনতে ভালোবাসেন, কাজের ফাঁকে সঙ্গী একটা পুরোনো রেডিয়ো। লতা মঙ্গেশকর, মহম্মদ রফি, মান্না দে, কিশোরকুমাররা পুরোনো দিনের গানের ভক্ত বাবলাবাবুর পছন্দের গায়ক। পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলেই একগাল হাসি নিয়ে জিজ্ঞাসা করেন, গান শুনবেন? এ প্রসঙ্গে ময়নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সজল বিশ্বাস বলেন, কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিজের বাড়ির আবর্জনা অন্যের বাড়ির সামনে ফেলে দিযে যায়। তা নিযে জলপ্রতিনিধিদের নানা সময় বিবাদ মেটাতে হয়। তার মধ্যেও বাবলা রায়ের মতো মানুষ আছেন জেনে ভালো লাগছে। তার উপর তিনি ময়নাগুড়ির বাসিন্দা হওয়ায় গর্ববোধ হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আমরা কথা বলব।