তৃণমূলে ফিরতে পারেন বাচ্চু হাঁসদা, জল্পনা তুঙ্গে

258

তপন: বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী ও তপনের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদা। সদ্য বিজেপিতে যাওয়া বাচ্চু হাঁসদা জানান, ইতিমধ্যে তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ২০১১ ও ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে অনেক কিছু উপেক্ষা করে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে রাগ, অভিমানে বিজেপিতে যোগদান করেন। কিন্তু বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সাতদিন পরও বিজেপির কোনও নেতা বা কর্মী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এই পরিস্থিতিতে তিনি ফের পুরনো দলে ফিরতে পারেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে বাচ্চু জানান, বিজেপির কোনও নেতা-কর্মী যোগাযোগ না করলেও তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে দেখা করেছে। একসঙ্গে কাজ করার কথা বলেছেন। তাঁকে সম্মানের চোখে দেখছেন। এটা তাঁকে ভাবাচ্ছে। যে দল ভালোবেসে তাঁকে কাজে লাগাবে তিনি সেই দলকে নিয়ে ভাববেন বলেও জানান। তবে এখনও এই বিষয়ে তিনি কিছুই চূড়ান্ত করেননি।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের কড়ই চ্যাঁচড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের ছেলে বাচ্চু হাঁসদা। ২০০৭ সালে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে দাসপাড়া হাইস্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। আগে সিপিএম করলেও ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর সিপিএম ছেড়ে বিপ্লব মিত্রের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। ২০১১ সালে তপন বিধানসভা তপশিলি উপজাতি সংরক্ষিত আসনে তৃণমূলের প্রার্থী হন বাচ্চুবাবু। প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েই আরএসপির সাতবারের পোড়খাওয়া বিধায়ক খাড়া সোরেনকে হারিয়ে বিধায়ক হন। তারপরই জেলা তৃণমূলের নতুন মুখ হিসেবে জেলায় উঠে আসেন এই আদিবাসী নেতা। তপনের প্রত্যন্ত এলাকা কড়ই চ্যাঁচড়া গ্রামের আদিবাসী কৃষক পরিবারের ঘর থেকে উঠে আসা বাচ্চু হাঁসদা খুব সহজেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে আসেন। ২০১৬ সালে জেলায় দুটি আসনে জয় পায় তৃণমূল কংগ্রেস। তার মধ্যে তপন আসন থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য জয়ী হন তিনি। এবারের একুশের ভোটেও বাচ্চুবাবু তৃণমূলের পদপ্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় সভা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে প্রার্থী না করায় অভিমানে চলতি মাসের ১০ তারিখ কলকাতায় গিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত থেকে বিজেপির পাতাকা তুলে নেন।

- Advertisement -