খড়িবাড়ি : খানাখন্দে ভর্তি জাতীয় সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে ডোবার চেহারা নিচ্ছে। ৩১সি জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় রোজ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

খড়িবাড়ি ব্লকে অধিকারী, কলাবাড়ি এলাকায় এই ৩১সি জাতীয় সড়কের বেহাল দশা। অধিকারী ডেমরাভিটা থেকে কলাবাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা বড় গর্তে ভর্তি। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলি জলে ভর্তি হয়ে ডোবার চেহারা নেয়। এই রাস্তা শিলিগুড়ি ও বিহারের গলগলিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। ব্যস্ত সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। ভাঙাচোরা সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। বহু গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে থাকে। শম্ভু বিশ্বাস, বিমল সিংহের মতো এলাকাবাসী জানান, বুধবার একটি যাত্রীবাহী ই-রিকশা গর্তে পড়ে যাত্রীসহ উলটে যায়। এভাবে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়েক মাস আগে এই রাস্তা পিচ দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। তবে তা বেশিদিন টেকেনি। এই রাস্তায় ওভারলোডেড পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের কারণে দ্রুত রাস্তা ভেঙে য়ায় বলে বাসিন্দাদের বক্তব্য। জগদীশ শর্মা নামে এক পণ্যবাহী গাড়ির চালক বলেন, দিন-দিন জাতীয় সড়কের দশা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। খানাখন্দ ভরা রাস্তাটি বর্ষার আগে মেরামত না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। খারাপ রাস্তার জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাদল সরকার বলেন, রাস্তাটির ওই অংশে দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জন মারা গিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কারের জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল। মাসখানেক আগে দায়সারাভাবে পিচের তাপ্পি দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করা হয়। কিন্তু এক মাসের মধ্যে সেই তাপ্পি উঠে গিয়ে গর্তগুলি বেরিয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য খড়িবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির তরফে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে আবার আবেদন করা হবে। এদিকে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের আঞ্চলিক সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ও এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি। তাই তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।