পুরনিগমের সাফাই কর্মীদের বসবাস নরকে

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : জঞ্জাল সরিয়ে শিলিগুড়ি শহরকে যাঁরা পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন, এই শহরকে বাসযোগ্য করতে যাঁরা ঘাম ঝরান সেই অরুণ বাল্মিকী, আকাশ বাল্মিকীরা কিন্তু থাকেন রীতিমতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে, বলতে গেলে নরকে। পুরনিগমের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ওদের জন্য একটি কলোনিই আছে। নাম বাল্মিকী কলোনি। এই কলোনির রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কমিউনিটি শৌচালয়ের। এই কলোনির বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই এলাকার প্রতি নজর দেওয়ার জন্য বহুবার পুর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এই কলোনির উন্নয়নে পুরনিগমের অনীহার অভিযোগ তুলেছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলার দুর্গা সিং। পুরনিগমের এক কর্তার দাবি, কলোনির এমন পরিস্থিতির কথা জানা ছিল না। শহরের বিভিন্ন জায়গাতেই আমরা কাজ করছি। এই কলোনির যাবতীয় সমস্যারও সমাধান করা হবে।

প্রায় চল্লিশ বছরের পুরোনো বাল্মিকী কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই পুরনিগমে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করেন। এরমধ্যে কেউ চুক্তিভিত্তিক, কেউ স্থায়ী পদে রয়েছেন। বছর কুড়ি আগে কলোনির বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য একটি কমিউনিটি শৌচালয় তৈরি করা হয়েছিল। এখন আর সেই শৌচালয়ে ভেতরে ঢোকার পরিস্থিতি নেই। একদিকে যেমন শৌচালয়ে ঘরগুলির দরজা খুলে পড়ে রয়েছে তেমনই সেপটিক ট্যাংকও ভেঙে গিয়েছে। সন্তোষী বাল্মিকীর কথায়, দুর্গন্ধে এলাকায় টেকা যায় না। তবুও এই দুর্গন্ধকে সহ্য করে আমাদের ওই শৌচালয়ে ঘরগুলি ব্যবহার করতে হয়। আমাদের অনেকেরই বাড়িতে এখনও শৌচালয়ে ব্যবস্থাটুকু করে দেওয়া হয়নি। কলোনির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ আরও বাড়িয়ে তুলেছে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা। কলোনির একপাশ দিয়ে একটি নালা গেলেও সেটি অপরিকল্পিতভাবে তৈরি হওযায় সামান্য বৃষ্টিতেই জল উঠে যায়।

- Advertisement -

কলোনির একমাত্র রাস্তাটিও গত দশ বছর ধরে ভাঙা রয়েছে। পুরনিগমের কাছে একাধিকবার বলার পরেও রাস্তা সংস্কারের কোনো ব্যবস্থাই করা হয়নি। বাধ্য হয়ে সাফাইয়ে কাজ করে ফেরার পর অন্তত কলোনিতে যাওয়া, আসার এই রাস্তাটি উপযোগী করতে একরাশ ক্ষোভ নিয়ে লক্ষ্মণ বাল্মিকীরা কোদাল নিয়ে রাস্তার গর্তগুলি মেরামত করার চেষ্টা করেন। রাস্তার একপাশে পড়ে থাকা ভাঙাসামগ্রী, বালি দেখিয়ে অরুণ বাল্মিকী বলেন, বহুবার বলার পরেও রাস্তার প্রতি কর্তৃপক্ষের নজর নেই। আমরা নিজেরাই ভাঙাসামগ্রী, বালি ফেলে রাস্তাটি ঠিক করার চেষ্টা করি। এলাকার আরেক বাসিন্দা শুকদেব বাল্মিকী বলেন, আমরা বিভিন্ন জায়গায় নর্দমা পরিষ্কার করি কিন্তু আমাদের এলাকার অপরিকল্পিত এই নালা থেকে জঞ্জাল তোলার জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলারকে বহুবার ফোন করার পরেও কাউকে তিনি পাঠান না। ভগ্নদশায় থাকা শৌচালয়টির জেরে এলাকায় থাকা যায় না। যেহেতু আমরা জঞ্জালের কাজ করি তাই এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পুরকর্তারা আমাদের জন্য স্বাভাবিক বলেই মনে করেন।

যদিও ওয়ার্ড কাউন্সিলার দুর্গা সিং বলেন, নালাটি পরিষ্কারের জন্য আমি সবসময়ে লেবার পাঠাই। কিন্তু অনেকে বাইরে থেকে ওই কলোনিতে গিয়ে নোংরা ফেলায় নালাটি আবর্জনায় ভরে থাকে। তিনি আরও বলেন, এলাকার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আগেই বরো মারফত পুরনিগমে চিঠি দিয়েছিলাম। তবে কাজ হয়নি। কমিউনিটি শৌচালয়টির সংস্কারের পাশাপাশি এখনও ওই কলোনিতে যারা শৌচালয় পাননি তাঁদের বিষয়ে পুরনিগমে আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি।