রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : ভাসানপর্ব চুকে গেলেও মিটল না ঘাটের দুর্দশা। ফেলে যাওয়া প্রতিমার কাঠামো, ঘট, ধুনুচি, থার্মোকল ও প্লাস্টিকে ঢেকে নদীর পাড়। এতদিন নদীর জলে ডুবে থাকায় সে সব তেমন একটা নজরে আসেনি। তবে নদীর জল নেমে যেতেই সামনে চলে এসেছে পুরাতন মালদার মঙ্গলবাড়ি মহানন্দা ঘাটের করুণ ছবি। পুরাতন মালদায় মহানন্দা নদীর যে ঘাটগুলি আছে, তার মধ্যে নয় নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটটি অন্যতম। এলাকার বহু বাসিন্দা ঘাটটি ব্যবহার করেন। সম্প্রতি প্রকট হয়ে উঠেছে ঘাটটির শোচনীয় অবস্থা

পুরসভার স্থায়ী ভাগাড় না থাকায় নদীর গা লাগোয়া খোলা জায়গাতেই শহরের আবর্জনা ফেলা হচ্ছিল। গত কয়েক মাসে টন টন আবর্জনা স্তূপাকৃতি হয়েছিল ওই এলাকায়। দুর্গন্ধে ওই এলাকায় টেকা দায় হয়ে উঠছিল। বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছিল দূষণও। আবর্জনা সাফাইয়ে জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন জানাচ্ছিলেন স্থানীয়রা। যদিও সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি পুরসভা। নদীর জলে কয়েক টন বর্জ্য মিশে জলদূষণের আশঙ্কা দেখা দিলেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। অবশেষে আশঙ্কাকে সত্য প্রমাণ করে বাড়তে থাকে নদীর জল। দুর্গাপুজোর আগে সপ্তাহখানেকের ভারী বৃষ্টিতে দুকূল ছাপিয়ে মহানন্দার জলে প্লাবিত হয় ওই এলাকা। স্বভাবতই জলে মিশে যায় সমস্ত বর্জ্য।

যদিও সমস্যা এখানেই থেমে থাকেনি। দশমীর পর শহরের বহু প্রতিমা বিসর্জন হয় এই ঘাটে। নদীর জলে প্লাবিত ওই এলাকায় কোনোরকমে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সঙ্গে জলে ফেলে দেওয়া হয় পুজোর কাজে ব্যবহৃত ঘট, ধুনুচি, ফুল, পাতা, প্লাস্টিক, থার্মোকল সবই। এখন মহানন্দার জল নেমে যেতেই ভাগাড়ের চেহারা নিয়েছে গোটা এলাকা। সারা মাঠে ছড়িয়ে আছে বিসর্জন হওয়া বাঁশ, কাঠ, খড় মাটির অবশেষ। নদীর মূল ঘাটের অবস্থাও করুণ। সেখানেও ডাঁই হয়ে আছে বহু কাঠামোর অবশেষ। বাধ্য হয়ে অন্যত্র স্নান, কাপড় কাচার কাজ করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন বাসিন্দা জানালেন, ঘাটটি ক্রমেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। পুরসভা আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধ ও দূষণে এলাকায় টেকা দায়। জল বেড়ে য়াওয়ায় সব নোংরা নদীতে মিশেছে। নদীর জল দূষিত হয়েছে। আবার এখন প্রতিমার কাঠামো জমেছে নদীর ঘাটে। ঘাট ব্যবহার করতে পারছি না। এদিকে, পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান তথা নয় নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কার্তিক ঘোষ বলেন, দ্রুত ওই ঘাট পরিষ্কার করা হবে।