অনুপ সাহা, সেবক : বৃষ্টির জেরে সেবক পাহাড়ে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ব্রেস্ট ওয়াল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেবক পাহাড়ে মংপংয়ে কাছে পাহাড় থেকে নেমে আসা ধস ঠেকাতে প্রচুর টাকা খরচ করে গত বছর কংক্রিটের ব্রেস্ট ওয়াল তৈরি করেছিল জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর ডিভিশন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই পাহাড়ের মাটির চাপে কয়েক কোটি টাকার ব্রেস্ট ওয়ালের হাড়গোড় সব বেরিয়ে এসেছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে শিলিগুড়ি থেকে ডুয়ার্সের সড়ক যোগাযোগ আর কদিন চালু থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত জুলাইয়ে প্রবল বৃষ্টিতে ওয়ালের গায়ে যে ফাটল ধরেছিল বর্তমানে তার যা অবস্থা হয়েছে তাতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ওই অংশটুকু আদৌ টিকে থাকবে কিনা, তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্ষায় তিস্তার জলস্রোত থেকে মংপংয়ে অদূরে সেবক পাহাড়ে জাতীয় সড়কের প্রায় ২০০ মিটার অংশ টিকিয়ে রাখতে ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়াররা। যতবার জাতীয় সড়কের ওই অংশে নীচ থেকে মাটি সরে গিয়ে তিস্তায় তলিয়ে গিয়েছে ততবার নতুন পরিকল্পনা করে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় সড়ক নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়কের এই অংশের একেবারে গোড়ায় নদীর প্রবল স্রোতের ক্রমাগত ধাক্কায় প্রতিদিন একটু একটু করে অংশ তিস্তায় মিলিয়ে যাচ্ছে। পুরানো সড়কের বেশিরভাগ অংশই তিস্তা গিলে ফেলেছে গত কয়ে বছরে।

- Advertisement -

মাঝে মাঝে রাস্তা চার-পাঁচ ফুট বসে যাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে একাধিকবার। জাতীয় সড়ক ৯ নম্বর ডিভিশনের তরফে পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পরিকল্পনা প্রয়োগ করা হলেও বাস্তবে তিস্তার ভয়াল ছোবলে কোনো পরিকল্পনাই দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়নি। শেষে গত এক বছরে তিস্তার বুকে কয়েকটি বড়ো ডিফ্লেকটর বসিয়ে নদীর স্রোত ঘুরিয়ে দিয়ে একেবারে গোড়া থেকে ভাঙন প্রতিরোধের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি ডানদিকের পাহাড় কেটে দুটি গাড়ি যাতে পাশাপাশি চলতে পারে সেই কারণে সড়ক চওড়া করা হয়েছিল।

একাজ করতে গিয়ে পাহাড়ের ধস নেমে যাতে সড়ক বন্ধ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রেখে পাহাড়ের গায়ে কংক্রিটের ব্রেস্ট ওয়াল করা হয়েছিল। নতুন করে বিপত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এই ওয়াল ঘিরেই। পাহাড় থেকে নেমে আসা জলের ধারা ও মাটির চোরাস্রোতের চাপে বিপজ্জনক অবস্থা দেয়ালটির। পুরো দেয়ালে প্রায় টুকরো টুকরো হয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। সড়কের ধারের ড্রেনগুলি বুজে গিয়েছে। অনবরত মাটির চাপে রাস্তা ভাঙতে শুরু করেছে। য়ে কোনো সময় পুরো দেয়াল ধসে গিয়ে নতুন করে বিপদ ডেকে আনতে পারে প্রকৃতি। পরিস্থিতি আন্দাজ করেই দেয়ালের সামনে সতর্কতামূলক ফিতে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের ৯ নম্বর বিভাগের এক পদস্থ কর্তা বলেন, সেবক পাহাড়ের এই অংশের রিপোর্ট প্রতি মুহূর্তে দিল্লিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হচ্ছে। তাদের পরামর্শে সেবকের এই অংশে তিস্তার গ্রাস থেকে সড়ক টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ হয়ে আসছে। এবার বর্ষা বিদায় নিলে নতুন করে আরও শক্তপোক্ত ব্রেস্ট ওয়াল তৈরির পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্ল্যান ও এস্টিমেট করা হয়ে গিয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে আগামী নভেম্বর মাস থেকে কাজ শুরু করা যাবে।

তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সড়ক সেতুর দাবিতে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছে ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্তে। ইতিমধ্যে ফোরাম ফর সোশ্যাল রিফর্মস নামে ডুয়ার্সের একটি সংগঠন সেবকে তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সড়ক সেতু তৈরির দাবিতে জনমত সংগঠিত করছে। ডুয়ার্সের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ মঞ্চের তরফে মালবাজারের প্রভাত দে বলেন, গত ১৫-২০ বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বহু পরিকল্পনা ও তার প্রয়োগ দেখলাম। এবার ঠান্ডাঘর থেকে দ্বিতীয় সড়ক সেতুর ডিপিআর (ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট) বের করে বাস্তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করুক কর্তৃপক্ষ।