ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা খরচ করে রায়গঞ্জের মহারাজহাটে কাঞ্চন নদীর ওপর সেতু সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কিন্তু ৮ মাস কেটে গেলেও সেই কাজ শেষ হয়নি। ফলে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে সেতুটি। বুধবার একাদশীর মেলায় প্রায় কয়ে হাজার মানুষ সেই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করলেন। ওই সেতুর পাশেই একটি অস্থায়ী রাস্তা করে দেওয়া হলেও সেই রাস্তা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি কাউকেই। দীর্ঘসময় পার হয়ে গেলেও বিপজ্জনক সেতুর সংস্কার কেন হয়নি, তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রায়গঞ্জের বিডিও। এছাড়াও মেলার নানা অব্যবস্থা নিয়ে দর্শনার্থীদের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রায়গঞ্জ ব্লকের মহারাজাহাটে একাদশীর দিন মেলায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। এদিন সকাল থেকে রায়গঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি হেমতাবাদ ও করণদিঘি ব্লক থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। কাঞ্চননদীর ওপর ঝুঁকিপূর্ণ বেহাল সেতুর ওপর দিয়ে দর্শনার্থীরা চলাচল করলেও কোনো যান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। অথচ পুরোনো সেতুর পাশ দিয়ে একটি অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় একবছর আগে এই সেতুটির একধারে বসে গিয়েছিল। এরপর প্রশাসন ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। সেতু নির্মাণের জন্য পূর্তদপ্তর ৬ কোটি ৮৪ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করে। প্রায় ১০ মাস আগে নির্মাণকারী সংস্থা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। তবে এতদিনে শুধুমাত্র অস্থায়ী রাস্তা তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেহাল সেতুটির ওপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের তরফে সেতুর পাশে কোনো প্রহরা না থাকায় ভারী মালবাহী যানবাহন অবাধে যাতায়াত করছে। এদিকে দুর্গাপুজোর মেলাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে লক্ষাধিক মানুষ বিপজ্জনক সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয় এলাকাবাসী ও মেলার উদ্যেক্তাদের মধ্যে। বেহাল সেতুর ওপর ও দুপাশে অন্ধকার থাকায় রাতের বেলায় দুর্ঘটনা এড়াতে মেলার উদ্যেক্তারা অস্থায়ী আলোর ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু সেতুর দুপাশে প্রহরার ব্যবস্থা না থাকায় মেলাকে কেন্দ্র করে মোটরবাইক, টোটো সহ বিভিন্ন যাত্রীবাহী যানবাহন অবাধে যাতায়াত করে। অন্যদিকে, শতাব্দীপ্রাচীন এই মেলার নানা অব্যবস্থা এদিন চোখে পড়ে। মেলায় কোনো শৌচাগার, পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। মেলাকে কেন্দ্র করে চোলাই মদের কারবারে তিতিবিরক্ত এলাকাবাসী।

মেলা কমিটির পক্ষে নিখিল দত্ত, দিলীপনারায়ণ সোম সহ আরও অনেকে বলেন, মেলায় অনেক সমস্যা রয়েছে। মহারাজাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক উত্তম চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাঞ্চন নদীর ওপর স্বাধীনতার আগে কাঠ ও লোহার সেতুটি তৈরি হয়। প্রতিদিন হাজারের ওপর মানুষ বেহাল সেতুর ওপর দিয়ে যাতায়াত করেন। এলাকায় রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাট ও স্কুল। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে য়াতায়াত করে মানুষ। তাই আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দশমাস আগে। কিন্তু সেতুর কাজ নামমাত্র হয়নি। আজ দুর্গাপুজোর মেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয় এখানে। বিপজ্জনক সেতুর ওপর দিয়ে প্রত্যেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হন। তাই আমাদের দাবি শীঘ্রই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হোক।

রামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অমল সরকার বলেন, মেলায় পানীয় জল, শৌচাগার, আলো সহ অন্যান্য ব্যবস্থা পুজো কমিটি করে থাকে। আমরা পঞ্চায়েত থেকে করি না। তবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সেতুর দুপাশে আলোর ব্যবস্থা করেছেন। মেলায় নেশার ঠেক বন্ধের বিষয়টি পুলিশ-প্রশাসন দেখবে। সেতুটির ওপর দিয়ে কেউ যাতে যাতায়াত না করেন, সেজন্য পাশেই অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। শীঘ্রই নতুন সেতুর কাজ ফের শুরুর জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাব। রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামা বলেন, সেতুর কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, তার জন্য পূর্তদপ্তরকে বলা হয়েছে।