বাগডোগরা, ১০ মার্চঃ খাপরাইল রোড সংলগ্ন রক্তি নদীর উপর লোহার সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় বিপদের আশঙ্কা ছড়িয়েছে। সতর্কবার্তা এড়িয়ে সেতুটির উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় এই আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। সেতুর তলায় বেশকিছু বাড়িঘর, দোকানপাট রয়েছে। বর্তমানে সেতুটির যা বেহাল অবস্থা তাতে আসন্ন বর্ষা পর্যন্ত এটি টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এসজেডিএ)-র সিইও এস পুনমবালম বলেন, এর আগে আমরা একবার এই সেতুটি অস্থায়ীভাবে সংস্কার করে ছিলাম। এটিকে স্থায়ীভাবে মেরামতে আমরা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। আশা করছি, তাড়াতাড়িই সমস্যা মিটবে।

২০০৫ সালে তৎলীন সাংসদ চিত্তব্রত মজুমদারের সাংসদ তহবিলের টাকায় এসজেডিএ ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ মিলে যৌথভাবে খাপরাইল রোড সংলগ্ন রক্তি নদীর উপর লোহার সেতুটি তৈরি করে। এই সুবাদে বাসিন্দাদের যাতায়াতে সুবিধা হলেও এরপর থেকে সেতুটির আর কোনো সংস্কার হয়নি। কলকাতার মাঝেরহাটের সেতু ভেঙে পড়ার পর এই সেতুর মাঝামাঝি অংশের পিলার বসে গিয়েছিল। সেই খবর উত্তরবঙ্গ সংবাদ-এ প্রকাশিত হলে কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। এসজেডিএ-র তরফে তড়িঘড়ি ওই পিলারটি সংস্কার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আরও কয়েকটি পিলার কাত হযে পড়লে সেতুটির অবস্থা বর্তমানে সঙিন হয়ে দাঁড়ায়। এই অবস্থায এটির উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হযে দাঁড়াচ্ছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

সেতুর সংযোগকারী রাস্তার অবস্থাও বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাফেরা করায় এলাকা সবসময় ধুলোয় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রক্তি নদীর ওপারে তিনটি সংসদ রয়েছে। এই এলাকাগুলিতে পুটিনবাড়ি চা বাগান, পুটিনবাড়িবস্তি, ফুলবাড়িপত্তন সহ প্রায় ১০টি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষের বাস। রক্তি নদীর উপর লোহার সেতুটি ভেঙে পড়লে এই বাসিন্দারা সমস্যায় পড়বেন। পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রফুল্ল বর্মন বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক-ট্র‌্যাক্টর যাতায়ত করায় সেতুটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার বলেন, সেতুর মাঝের পিলারটি বেহাল হয়ে পড়ার পর তা নিয়ে সংবাদপত্রে খবর বের হলে সমস্যা মেটাতে এসজেডিএ উদ্যোগী হয়। যাতে সেতুর উপর দিয়ে ভারী গাড়ি চলাচল করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়ে পরে সেজন্য একটি ডাইভারশনও তৈরি করা হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেশকিছু ভারী গাড়ি সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করছে বলে তিনি জানান। তাপসবাবুর কথায়, সেতুটির আরও কয়েকটি পিলার সংস্কার প্রয়োজন। এজন্য বহু টাকা লাগবে। সেতুর সংযোগকারী রাস্তা সংস্কারের জন্য সেটিকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা-২-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। শীঘ্রই সমস্যা মিটে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।