দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহার শহরের বেসরকারি বাসস্ট্যান্ড হিসেবে পরিচিত বীরেন্দ্রচন্দ্র দে সরকার বাস টার্মিনাস দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশায়। কোচবিহার পুরসভা এই বাস টার্মিনাসের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু বাস টার্মিনাসটিতে নানা সমস্যা থাকলেও তা মেটানো হচ্ছে না। বাস টার্মিনাসের শৌচাগারটি খারাপ দশায় থাকায় সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যাত্রী প্রতীক্ষালয়ে পানীয় জলের একটি যন্ত্র বসানো হলেও সেটি অনেকদিন ধরে খারাপ।  বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহণকর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে।

বাস টার্মিনাসের প্রতীক্ষালয়ে এখন কিছু মানুষ মোটরবাইক ও সাইকেল রাখছেন। ফলে সেখানে দাঁড়াতে নিত্যযাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে। পাশাপাশি, পানীয় জল সরবরাহের যন্ত্রটি বিকল হওয়ায় যাত্রীদের জল কিনে খেতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিশ্রামাগারে আলোর কোনো ব্যবস্থাও নেই। দূরপাল্লার বহু বাস এই স্ট্যান্ড থেকে ছাড়ায় বহু মানুষ এখানে আসেন। বিশ্রামাগারটি বেহাল দশায় থাকায় তাঁরা সমস্যায় পড়ছেন। এনিয়ে বাস মালিকদের সংগঠনের সদস্যরাও ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। যদিও এই বিষয়ে পুরসভার তরফে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কলকাতা, মালদা, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসের টিকিট এখান থেকেই কাটা হয়। পাশাপাশি, ফালাকাটা, আলিপুরদুয়ার, দিনহাটা রুটের ছোটো গাড়ি এই টার্মিনাস থেকেই যায়। এর ফলে সারাদিনই এখানে যাত্রীদের ভিড় লেগে থাকে। বাসচালক দীপক মোদক বলেন, বাস টার্মিনাসের শৌচাগারটির অবস্থা করুণ। সেখানে কিছু জায়গায় পলেস্তরা খসে পড়ছে। দুর্গন্ধের জেরে যাত্রীদের পাশাপাশি আমাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। সমস্যা মেটাতে শীঘ্র ব্যবস্থা নেওয়া হোক। নিত্যযাত্রী বহ্নিশিখা দাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বাস টার্মিনাসটি এই অবস্থায় রয়েছে। শৌচাগার না থাকায় আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া পানীয় জলের সমস্যা তো আছেই।’ অপর য়াত্রী ময়ূখ ঘোষ বলেন, ‘বাস টার্মিনাসের শৌচাগার নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার, ফিনাইল দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। তা না হওয়ায় সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির জেনারেল সেক্রেটারি তপন গুহ রায় বলেন, বাস টার্মিনাসের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। যাত্রী প্রতীক্ষালয়টিতে আলো, ফ্যানের ব্যবস্থাও নেই। এর ফলে দূরের যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হয়। পুরসভায় বহুবার আবেদন করা সত্ত্বেও ওঁরা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে শীঘ্রই আলোচনা করব। এ বিষয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান ভূষণ সিং বলেন, শনিবার পুরসভায় একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে সব কিছু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যাত্রীদের সমস্যা সমাধান করতে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য ১০টি শৌচালয় তৈরি করা হবে।