সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়গুলিতে কমছে শিশুর সংখ্যা। সরকারি সাহায্যের অভাবে বেহাল শিশুশ্রমিক বিদ্যলয়গুলি নিয়ে মুখ খুলেছে শিক্ষক ও অভিভাবক মহল। যদিও জেলা প্রশাসনের আশ্বাস, দ্রুত টাকা পাবে এই স্কুলগুলি।

কুশমণ্ডি ও হরিরামপুর ব্লকে শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা তিনটি করে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বর্তমানে মোট ৪০টি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয় আছে। প্রতিটি স্কুলে খাতায় কলমে ৫০ জন করে শিশুশ্রমিক পড়ুয়ার নাম থাকলেও এই মুহূর্তে বেশিরভাগ স্কুলেই সেই হিসাব মিলবে না। কেন? প্রশ্নের জবাবে গোয়ালগাঁ শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক জীবেশ ভট্টাচার্য বলেন, এই সময় ধান কাটার কাজে বেশিরভাগ ছাত্র মাঠে চলে যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঠে কাজ করে। পাড়ায় কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান হলেও পড়ুয়ারা স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এই ছাত্রদের যে স্টাইপেন্ড দেওয়ার কথা, তারা তা সময়মতো পায় না। ফলে বহু অবিভাবক ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠাতে চান না। রোজ মিড-ডে মিল রান্না হলেও সব পড়ুয়া স্কুলে আসে না। একই বক্তব্য স্কুলের শিক্ষক মলয় দেবগুপ্ত, জবা বসাকদেরও।

- Advertisement -

এই স্কুলগুলিতে শিশুদের হাতের কাজ শেখানো হয়। এক সময় কুশমণ্ডি-মহিপাল রাস্তার ধারে, জামবাড়ি ও নিজ উত্তরপাড়ায় শিশুশ্রমিক বিদ্যালয় থাকলেও সেগুলি পড়ুয়ার অভাবে সরিয়ে আনা হয় করঞ্জি, সন্ন্যাসীতলা ও গোয়ালগাঁ গ্রামে। গোয়ালগাঁ এলাকার অবিভাবক মঙ্গল মার্ডি বলেন, স্কুল থেকে প্রতি মাসে ছাত্রদের ৪০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাকা এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্কুলের শিক্ষকরা ব্যাংকে নিয়ে গিয়ে তাদের পাসবই খুলিয়েছেন। শিক্ষকদের আক্ষেপ, পড়ুয়ারা সময়মতো টাকা পেলে স্কুলে ছাত্র সংখ্যা কমত না। এই অবস্থা জেলার প্রতিটি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ের। তবে সব সময় ছাত্র সংখ্যা কমে না বলেও শিক্ষকদের দাবি। কারণ, প্রতিটি স্কুলের সমস্ত হিসাব রোজ ই-মেইল করে দিল্লির দপ্তরে পাঠাতে হয়। সেই মতো শ্রম দপ্তর রাজ্য সরকারকে টাকা পাঠায়।

এই মুহূর্তে জেলার ৪০টি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে টেগোর সোসাইটির অধীনে ২৩টি স্কুল পরিচালিত হয়। ১৫টি চলে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে। বাকি দুটি স্কুল পরিচালিত হয় সেন্ট জন্স সোসাইটির মাধ্যমে। টেগোর সোসাইটির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক লিপি সেন পাল জানান, জাতীয় শিশুশ্রমিক প্রকল্পের আওতায় তাঁরা ২৩টি স্কুল পরিচালনা করেন। সব স্কুলের একই অবস্থা। লিপিদেবী কিছু না বললেও জানা গিয়েছে, শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময়মতো বেতন পান না। পড়ুয়াদের স্কলারশিপের টাকা সময়মতো দেওয়া হয় না। লিপিদেবী বলেন, স্কুলগুলির সমস্যার কথা আমরা জেলা শ্রম দপ্তরে জানিয়েছি। তবে কীভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে, তা নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

এপ্রসঙ্গে জেলার সহকারী লেবার কমিশনার তপন হালদার বলেন, বিষয়টি জেলাশাসক দেখেন। তিনিই এই প্রকল্পের চেয়ারম্যান। বিষয়টি চেয়ারম্যানের নজরে আনা হয়েছে। জেলাশাসক চেয়ারম্যান হলেও এই প্রকল্পের সমস্ত বিষয় দেখভাল করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমিসংস্কার) প্রণব ঘোষ। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজ্য থেকে বেশ কিছু টাকা শ্রমদপ্তরে এসেছে। সেখান থেকে প্রতিটি শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়ে টাকা দেওয়া হবে। তবে স্কুলগুলিকে কত টাকা দেওয়া হবে তা এখনই বলা সম্ভব নয়। গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, কেন স্কুলগুলির এমন অবস্থা হয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখব। তবে যাই হোক না কেন, শিশু দিবসে শিশুশ্রমিক বিদ্যালয়গুলির এমন হাল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জেলাজুড়ে।