ডালখোলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা ক্ষোভ এলাকায়

340

অরুণ ঝা, ডালখোলা : ডালখোলা শহরের প্রাইমারি হেলথ সেন্টারটি বহুদিন থেকেই বেহাল হয়ে রয়েছে। সেন্টারের দেওয়ালে যেমন গাছ গজিয়েছে, তেমনি বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে বিভিন্ন বিভাগে জলও পড়ে। এর সঙ্গে রয়েছে চাঙড় খসে পড়ার ঘটনা। এ নিয়ে চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা আতঙ্কে থাকেন।  স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতরে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে ছাদের রড বেরিয়ে পড়েছে। পুরসভা এলাকা হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নিজস্ব কোনও অ্যাম্বুল্যান্স নেই। স্বভাবতই ডালখোলাবাসীর মধ্যে এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভ জমছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দাযিত্বে থাকা চিকিত্সক আলমগির পরওয়ানা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে একাধিকবার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। ডালখোলা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন রহমত আলি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুর এলাকা হলেও ডালখোলার বাসিন্দারা স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে জীর্ণ প্রাইমারি হেলথ সেন্টার (পিএইচসি) বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু এখানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা তো দূরের কথা, পরিকাঠামো টিকিয়ে রাখাই বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণ শারীরিক সমস্যা হলেও আমাদের বিহারের পূর্ণিয়া, কাটিহার, কিশনগঞ্জ আর শিলিগুড়ি বা রায়গঞ্জে ছুটতে হয়। তাতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। বছরের পর বছর তাঁদের এই বঞ্চনা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে অথচ কারও কোনও হেলদোল নেই।

- Advertisement -

ডালখোলা হেলথ সেন্টারে পৌঁছে মনে হল যেন ভূতুড়ে বাড়ি। বিভিন্ন স্থানে দেওয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। বৃষ্টির জল ছাদ চুইয়ে পড়ায় সেন্টারের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উদ্বেগে রয়েছেন। পুরুষ ও মহিলা বিভাগে পৌঁছোতেই দেখা গেল ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। ক্রমাগত বৃষ্টির জল পড়ায় দেওয়ালে শ্যাওলা পড়তে শুরু করেছে। শহর হলেও সেন্টারে কোনও এক্সরের ব্যবস্থা নেই। যদিও আউটডোরে রোজ রোগীদের ভিড় থাকে বলে ডাঃ পরওয়ানা জানিয়েছেন। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পিএইচসিতে কোনও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার নেই। এক্সরে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি হয় না। প্রসবের জন্য সার্জারির কোনও ব্যবস্থা নেই। বাসিন্দারা আরও জানান, যানজটের কারণে তাঁরা বাসের উপর ভরসা করতে পারেন না। ফলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে বিহার বা রায়গঞ্জ অথবা শিলিগুড়ি ছুটতে হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, পুর এলাকা হলেও ডালখোলা উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত কেন? এলাকার রাজনৈতিক নেতারা গদি দখল নিয়ে শুধু ব্যস্ত থাকছেন অথচ স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে তাঁদের কোনও হুঁশ নেই।

ডালখোলা পিএইচসির ইনচার্জ ডাঃ পরওয়ানা বলেন, ভগ্ন পরিকাঠামো নিয়ে আমরা একাধিকবার ওপর মহলে রিপোর্ট পাঠিয়েছি। সীমিত ব্যবস্থার মধ্যে আমরা সার্বিক পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারপার্সন রহমত আলি বলেন, ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে করণদিঘি গ্রামীণ হাসপাতাল। তবে ডালখোলা পিএইচসির পরিকাঠামোর সমস্যার সঙ্গে এখানে উন্নত পরিষেবার ব্যবস্থা করার বিষয়ে উপরমহলে কথা বলব।